মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাইয়ের করুণ মৃত্যু

নায়েগ্রা থেকে নিউইয়র্কে আর ফেরা হলো না

ঠিকানা রিপোর্ট : নায়াগ্রা ফলস প্রকৃতিক সৌন্দর্য্যরে এক লীলাভূমি। আমেরিকা এবং কানডার সীমান্তে এটির অবস্থিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা এটি দেখতে আসেন। পর্যটক ছাড়াও সাধারণ মানুষ নায়াগ্রা ফলসের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে যান। বিশেষ করে গ্রীষ্মের সময়। আর যারা নিউইয়র্কে থাকেন তারা প্রায়ই পরিবার-পরিজন এবং বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বেড়াতে যান। নিউইয়র্কের এস্টোরিয়া প্রবাসী ও যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোজাম্মেল হক রাসেল, তার ছোট ভাই হিমেল আকরাম জয়, আমিনুল হক আপেল এবং আপেলের বন্ধু সিহাব গত ১৬ আগস্ট গাড়িতে করে নায়গ্রা ফলস দেখতে এবং বেড়াতে গিয়েছিলেন।

নিউইয়র্ক : মোজাম্মেল হক রাসেল ও ছোট ভাই হিমেল আকরাম জয়।

যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জেড এ জয় ঠিকানাকে জানান, নায়াগ্রা ফলস দেখে ফিরে আসার পথে গত ১৭ আগস্ট দিবাগত রাতে অন্টারিও কাউন্টিতে এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মোজাম্মেল হক রাসেল (৩০), তার ছোট ভাই হিমেল আকরাম জয় (২৮)। মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোজাম্মেল হক রাসেলের আরেক ছোট ভাই আমিনুল হক আপেল এবং আপেলের বন্ধু সিহাব।
নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের কর্মকর্তা মার্ক ওড্যানিয়েল জানান, ৮১ বছর বয়সী এক ওহাইয়ো স্টেটের বাসিন্দা (নাম প্রকাশ করা হয়নি) প্রায় উল্টো দিক থেকে ৮ মিনিট ধরে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ঐ বৃদ্ধ লোকটি উল্টো দিক থেকে গাড়ি চালানোর কারণে মোজাম্মেল হক রাসেলদের গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। গাড়ি চালাচ্ছিলেন মোজাম্মেল হক রাসেল। ঐ বৃদ্ধ লোকটি এত দ্রুত উল্টো দিক থেকে আসছিলো যে, রাসেলের কিছুই করার ছিলো না।

নিউইয়র্ক : নায়াগ্রা ফলসে মোজাম্মেল হক রাসেল।

পুলিশ জানায়, নিউইয়র্ক স্টেটের অন্টারিও কাউন্টির এক্সজিট ৪৪ এবং এক্সজিট ৪৩-এর মাঝখানে রাত ১টা ৩০ মিনিটের সময় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেরই তিনজনের মৃত্যু ঘটে। যার মধ্যে রয়েছেন মোজাম্মেল হক রাসেল, তার ছোট ভাই হিমেল আকরাম জয় এবং ওহাইয়োর স্টেটের ঐ বাসিন্দা। মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় আমিনুল হক আপেল এবং তার বন্ধু সিহাবকে রচচেস্টার মোমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ আরো জানায়, ওহাইয়োর ঐ বাসিন্দা কিছু দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ওহাইয়োতে এই রিপোর্ট করা হয়। পুলিশ আরো জানায়, ঐ বৃদ্ধ লোকটি ক্রিফিটন সার্ভিস এরিয়া থেকে উল্টো দিক থেকে গাড়ি চালাচ্ছিলো এবং দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
জেড এ জয় ঠিকানাকে জানান, মোজাম্মেল হক রাসেল তার পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই এস্টোরিয়ায় থাকেন। তার বাবা-মাও তার সাথে ছিলেন। মোজাম্মেল হক রাসেলের স্ত্রী এবং দুটি ছোট কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ের বয়স মাত্র ৬ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স মাত্র কয়েক মাস। এ দিকে মোজাম্মেলন হক রাসেলের বাবা সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং ময়মনসিংহ এব্রডের কর্মকর্তা কবির খান ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে রাওয়ানা দিয়েছেন। মোজাম্মেল হক রাসেলের দেশের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল থানায়।
মোজাম্মেল হক রাসেলের মৃত্যুতে পুরো নিউইয়র্ক কম্যুনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। গভীরভাবে শোক প্রকাশ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রাসেলের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। আমরা রাসেলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
অন্যদিকে মোজাম্মেল হক রাসেলের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। কেউ মেনে নিতে পারছেন না এই মর্মান্তিক এবং অকালে চলে যাওয়া। অনেকেই মত প্রকাশ করে বলেছেন, রাসেল অত্যন্ত ভাল মানুষ ছিলো। একজন জলজ্যান্ত মানুষ কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে চলে যেতে পারে।
জানা গেছে, রাসেলের বাবা এবং কবির খান মোজাম্মেল হক রাসেল এবং হিমেল আকরাম জয়ের লাশ নিউইয়র্কে নিয়ে আসবেন। নিউইয়র্কে আনার পরই জানাজা এবং দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।