মার্চ বড় জমায়েত করতে চায় আলীগ

রাজনীতি ডেস্ক : ঐতিহাসিক ৭ মার্চে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বড় ধরনের গণজমায়েত করতে চায় আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। এ দিন ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সমাবেশ করবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সমাবেশে ঢাকা ছাড়াও আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই প্রথম এ দিনটি উদযাপন হচ্ছে। এ কারণে দিনটিকে বড় জমায়েতের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ।
এ ছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের অনানুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে বিভাগীয় শহরগুলোতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ঢাকায় বড় জমায়েতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার আগাম মহড়া দিতে চাইছেন নেতারা। ৭ মার্চের সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা তৎপরতা শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে ১৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ সভা হয়েছে। ধানমন্ডির একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকা মহানগর, ঢাকা জেলা, পাশের জেলা, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতা ও সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন ৭ মার্চ আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করব। আমরা এই জনসভায় নবজাগরণ দেখাতে চাই। আমরা আশা করছি, স্মরণকালের সব রেকর্ড ভেঙে যাবে। ঢাকা মহানগর ও জেলা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ থেকে বিপুল জনসমাগম নিয়ে বিভিন্ন শোভাযাত্রা এই সভায় যোগ দেবে। জনসভায় আসার জন্য বাস ছাড়াও ট্রেনের ব্যবস্থা করবে আওয়ামী লীগ। এ সময় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাউছার, যুব মহিলা লীগের নাজমা আকতার, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর ও জেলা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের নেতা ও এমপিরা তাদের পরামর্শ দেন। ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে এ যৌথসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক আবদুল সোবহান গোলাপ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলি, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।
এটা বিএনপির আসল ছবি না : মতবিনিময় সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমানে বিএনপির কার্যক্রমে যে শান্তিপূর্ণ কথা বলা হচ্ছে, এটা তাদের আসল ছবি না। তারা দূতাবাসে, জাতির পিতার ছবিতে হামলা চালিয়েছে। প্রিজন ভ্যান থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নিচ্ছে, পুলিশের ওপর হামলা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি হচ্ছে আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজের দল। ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের ১০ দিন আগে বিএনপি কাউন্সিল বৈঠক না করে সংগঠনের ৭ ধারা বাতিল করে। সেই ৭ ধারা (ঘ)-তে বলা আছে, উন্মাদ, দুর্নীতিবাজ এ রকম কেউ নেতা হতে পারবেন না। একজন তো (খালেদা জিয়া) দুর্নীতির দায়ে কারাগারে আছেন। অন্যজন (তারেক রহমান) দ-প্রাপ্ত দুর্নীতিবাজ এখন পলাতক। তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার জন্য এটি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কোনো ধারা বাতিল করতে হলে কাউন্সিল ছাড়া এটা করা যায় না উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি এটি কেন করেছে, এর জবাব এখনো পাইনি। এটাই হচ্ছে বিএনপির চিত্র। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের এখন নারী, তরুণ ও প্রথম ভোটারদের গুরুত্ব দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচনের জন্য কাজ করতে হবে, ক্যাম্পেইন করতে হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি শক্তিশালী হলে তাদের নির্বাচনে যেতে ভয় কেন। খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর বিএনপির নেতারা বলছে বিএনপি আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ। তাহলে কেন এই শক্তিশালী বিএনপির নির্বাচনে যেতে ভয়? আমরা এই বিএনপিকে নিয়েই আগামী নির্বাচনে যেতে চাই। আমরা একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই।