‘মাহে রমজান’ নিয়ে বিল উঠছে সিটি কাউন্সিলে

ঠিকানা রিপোর্ট : পবিত্র মাহে রমজানে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা প্রতিবছর এক মাস রোজা পালন করে থাকেন। নিউইয়র্ক সিটিতে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা মাসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করেন। তবে রমজান মাসে স্কুল খোলা থাকে। অফিসও খোলা। ইফতারের জন্য আলাদা করে বিশেষ ব্যবস্থা নেই। স্কুলে রোজাদার স্টুডেন্টদের জন্য বাড়তি সুবিধা নেই। কিছু কিছু স্কুল ইফতার পার্টির আয়োজন করে। নামাজের জন্য আলাদা রুম রেখেছে। বিশেষ মাস হিসেবে রমজান নিউইয়র্ক সিটির ক্যালেন্ডারে স্বীকৃতও নয়। এখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার কারণে সবাই নিজ নিজ ধর্ম তার মতো করে পালন করতে পারেন। নিউইয়র্ক সিটিতে চেষ্টা চলছে রমজান মাসকে বিশেষ ধর্মীয় মাস হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করার বিষয়ে। এবার রমজান মাসকে বিশেষ মাস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সিটি কাউন্সিলে বিল আনা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি বিল উঠবে। বিলটি পাস হলে মুসলমানরা নিজেদের সম্মানিত বোধ করবেন।
সূত্র জানায়, রমজান মাসে মুসলমানরা যাতে নিরাপদে মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পারেন এবং নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারেন, টুপি, স্কার্ফ কিংবা ধর্মীয় পোশাক পরা থাকলে কেউ যাতে কোনো ধরনের হেইট ক্রাইমের শিকার না হন এবং ওই সময়ে নিউইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে যাতে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হয়, সে লক্ষ্যেই এই বিল আনা। রমজান মাসকে অফিশিয়ালি স্বীকৃতি দেওয়া হলে গভর্নর, সিটি মেয়র, সিটি কাউন্সিলর সদস্য থেকে শুরু করে সবাই বিষয়টির গুরুত্ব বুঝবেন এবং এর ভাবগাম্ভীর্য তুলে ধরতে সহায়তা করবেন। এটি রেজ্যুলেশন আকারে পাস করানোর জন্য মাজেদা উদ্দিন সিটি কাউন্সিলওমেন নানতাসা উইলিয়ামের কাছে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ৩১ জন কাউন্সিলর এতে সমর্থন দিয়েছেন। আরো সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সূত্র জানায়, নানতাসা উইলিয়াম এটি রিভিউ করেন ও এ-সংক্রান্ত রেজ্যুলেশনটি পাস করানোর জন্য জমা দিয়েছেন। তিনি সেটি ফ্লোরে দেন। ২২ মার্চের আগে বিলটি সিটি কাউন্সিলে উঠতে পারে। বিলের প্রস্তাবককে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন তারা যাতে মুসলিম কমিউনিটির লিডারদের নিয়ে সিটি কাউন্সিলে উপস্থিত থাকেন। এ ব্যাপারে একজন কমিউনিটি লিডার বলেন, দেড় বছর আগে রমজানের সময় একজন নারীকে হত্যা করা হয়। রোজার মধ্যে হয় হেইট ক্রাইম বেশি হয়। রমজান মাসকে যদি বিশেষ মাস করা হয় এবং রিকগনেশন দেওয়া হয়, তাহলে এগুলো অনেক কমে আসবে। এ জন্য বাড়তি উদ্যোগ নিতে হবে মেয়র অফিসকে। নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগ থেকে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করতে হবে। হেইট ক্রাইম বন্ধ করা জরুরি।