মায়ের সাথে আর দেখা হলো না শিশুটির

ঠিকানা রিপোর্ট: জীবন্ত অবস্থায় শিশুটিকে আর দেখতে পেলেন না তার মা। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করে ভিসা পেলেও মা সেখানে পৌঁছার আগেই মৃত্যু হয় শিশুটির। আলোচিত এ ঘটনাটি ইয়েমেনের দুই বছর বয়সী বালক হাসান আব্দুল্লাহর। তার বাবা-মা ইয়েমেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মিসরে চলে আসেন। অবশ্য তার বাবার মার্কিন নাগরিকত্ব রয়েছে। কিন্তু মায়ের নেই।
শিশুর মায়ের ভিসা সংক্রান্ত বিষয়টি দেখভাল করা কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স জানিয়েছে, শিশুটি ২৮ ডিসেম্বর শুক্রবার আমেরিকার ওকল্যান্ডের ইউসিএসএফ বেনিঅফ চিলড্রেন্স হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে। এর আগে মস্তিস্কের অসুস্থতার কারণে সেখানে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন তার বাবা আলি হাসান। কিন্তু মা সায়মা সোয়াইলেহকে সেখানে যাওয়ার ভিসা দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন।
পরে বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে আসে আমেরিকায় ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে কাজ করা কাউন্সিল অফ আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স। শিশুটির স্বাস্থ্যের অবস্থার অবনতি হলে তাকে গত অক্টোবরে ক্যালিফোর্নিয়ায় নিয়ে যান তার বাবা। তখন মিসরে থাকা তার মা সেখানে যাওয়ার ভিসার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।
ডিসম্বের মাসের শুরুর দিকে আলি হাসান কান্নাজড়িত কণ্ঠে সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন, ‘আমার স্ত্রী প্রতিদিন আমাকে ফোন দেয়, ছেলেকে জড়িয়ে ধরে চুমো খেতে চায়।’ তিনি ছেলের ব্যাপারে আশা হারাতে থাকেন এবং তার কষ্ট লাঘবে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে থাকেন।
পরে হাসপাতালের এক সামাজিক কর্মী কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্সের দ্বারস্থ হন। পরে ১৬ ডিসেম্বর ভিসার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পর দিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সোয়াইলেহর ভিসা অনুমোদন করে। সোয়াইলেহ ২০১৭ সাল থেকে আমেরিকা যাওয়ার ভিসার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনসহ পাঁচটি আরব দেশ মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞায় রয়েছে। আরো আছে উত্তর কোরিয়া ও ভেনিজুয়েলা। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।
মানবাধিকার গ্রুপগুলো এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। তবে গত জুনে তা নাকচ করে দেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।