মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সাহিত্য আড্ডা

‘মুখের ভাষায় সাহিত্যের ভাষা’

মুক্তধারার উদ্যোগে সাহিত্য আড্ডায় অংশগ্রহণকারীরা।

ঠিকানা রিপোর্ট : ‘মুখের ভাষা কি সাহিত্য ভাষা?’ এই বিষয়টিকে ঘিরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হলো মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের রবি-সন্ধ্যার দ্বিতীয় অনুষ্ঠান। প্রতি মাসের শেষ রবিবার এই অনুষ্ঠানটি ভার্চুয়াল জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকায় বসবাসরত একঝাঁক শিল্প-সংস্কৃতি এবং বিশিষ্টজনদের নিয়ে এই প্রাণকাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাট্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী লায়লা হাসান, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, নাট্যজন জামালউদ্দিন হোসেন, অধ্যাপক জিয়া উদ্দিন আহমেদ, লেখক অধ্যাপক হায়দার আলী খান, ড. নূরুন নবী, বিজ্ঞানী এবং পরিবেশবিদ সুফিয়ান খন্দকার, কবি ইকবাল হাসান, কবি বিমল গুহ, আবৃত্তিকার ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, লেখক হাসান ফেরদৌস, কথাসাহিত্যিক ফেরদৌস সাজেদিন, ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক ও কবি আনিস আহমেদ, কথাসাহিত্যিক সালমা বানী, লেখক মনিজা রহমান, লেখক ও জলধি প্রকাশক নাহিদা আশরাফী, লেখক খায়রুল আনাম, শিক্ষাবিদ সতী মজুমদার, ডা. ফাতেমা আহমেদ, সাংবাদিক সাখাওয়াত সেলিম, সংগঠক রানু ফেরদৌস, সংগঠক শুভ রায় এবং নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলার প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক বিশ্বজিত সাহা।
এ মাসের রবিসন্ধ্যায় ’মুখের ভাষা সাহিত্য ভাষা’ এই নিয়ে উপস্থিত বক্তাদের আলোচনায় পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল ঋদ্ধ। হাসান ইমাম বলেন, ‘মুখের ভাষায় লেখার ভাষা হতে পারে, তবে সেই আঞ্চলিক ভাষাটির যথাযথ প্রয়োগ খুব প্রয়োজন। লায়লা হাসান বলেন, ‘ভাষার জগাখিচুড়ি যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে বাংলা ভাষা এবং ইংরেজি ভাষার দুটো ভাষাকেই আলাদা করে ব্যবহার করতে হবে। বাংলা ইংরেজি মিশ্রণে ভাষার সৌন্দর্য ব্যাহত হয়।
কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক মুখের ভাষায় সাহিত্যের ভাষা হতে কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, নতুন প্রজন্মদের আত্মায় ভাষা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ারও কোনো মানে নেই। একই কথা বলেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী। তবে কবি ইকবাল হাসান মনে করেন ভিন্ন কথা। তিনি মনে করেন আমাদের ভাষা এখন সংকটের মুখে। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বাংলা ভুলে যাবে।’
লেখক এবং সংগঠক রানু ফেরদৌস মনে করেন- নতুন প্রজন্মদের বাংলা শেখাতে হলে তা নিজ ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। বর্তমান সময়ে বাংলা ভাষার নানা রকম গতিপ্রকৃতি নিয়ে কথা বলেন লেখক এবং প্রকাশক নাহিদা আশরাফী। ড. নূরুন নবী মনে করেনÑ বাংলা ভাষায় যে শব্দগুলো ইংরেজিতে প্রচলিত আছে সেসব শব্দ বাংলায় অনুবাদ করার কোনো প্রয়োজন নেই। এতে করে ভাষা আরো দুর্বোধ্য হয়ে উঠবে।
সাংবাদিক আনিস আহমেদ মনে করেন, ‘ভাষার সঠিক ব্যাবহার খুব জররি, সঠিকভাবে বাংলা ভাষার পরিচর্যা করা উচিত।’
অধ্যাপক হায়দার আলী খান বাংলা ভাষার শুদ্ধতা রক্ষা করার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাতেও সমানভাবে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতি। নাট্যজন জামালউদ্দিন হোসেনও মনে করেন মুখের ভাষায় সাহিত্য রচনা সম্ভব। তবে সেখানে শিল্প থাকতে হবে। আলোচনায় আরো অংশ নেন বিশ্বজিত সাহা, সউদ চৌধুরীসহ অনেকেই। এই পর্বটি সঞ্চালনা করেন লেখক ও প্রাবন্ধিক আদনান সৈয়দ।
অনুষ্ঠান শেষ হয় আড্ডার মধ্য দিয়ে। এই পর্বটি পরিচালনা করেন লেখক হাসান ফেরদৌস। এই পর্বে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, কবি ইকবাল হাসান, কবি বিমল গুহ এবং অধ্যাপক জিয়া উদ্দিন আহমেদ স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। অধ্যাপক হায়দার আলী খান এবং সাহানা বেগমের গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠনাটি শেষ হয়। অনুষ্ঠানের কারিগরি দিকটি দায়িত্বে ছিলেন মুরাদ আকাশ।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশন রবিসন্ধ্যার মাধ্যমে বিশ্ববাঙালি, বাংলা ভাষা এবং বাংলা সংস্কৃতিকে এক সুতায় গাঁথার অন্যতম একটি প্রয়াস।