মুখ খুললেন সাত্তার ভূঁইয়া, জানালেন দলত্যাগের কারণ

ফাইল ছবি

ঠিকানা অনলাইন : দলত্যাগ, বহিষ্কার এবং উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে এত দিন অনেকটা নিশ্চুপই ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। এত দিন এসব বিষয় নিয়ে যা বলার তার ছেলেই বলছিলেন। তবে এবার ‘খোলস ছেড়ে’ বেরিয়ে এলেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। দল ছাড়া নিয়ে কথাও বললেন। এমনকি তাকে নিয়ে বিএনপির নেত্রী রুমিন ফারহানার বিভিন্ন বক্তব্য প্রসঙ্গেও কথা বলেন।

২০ জানুয়ারি শুক্রবার সাত্তার ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার হাত ধরেই সরাইল-আশুগঞ্জে বিএনপির জন্ম। এখন যদি মানসম্মান না থাকে, দল করব কীভাবে। মানুষ মান-সম্মানের জন্যই দল করে। দল থেকে কয়েক বছর ধরে সম্মান পাইনি। দলের কেউ কোনো কিছুর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন মনে করেনি। দল ও দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে যথাযথ মূল্যায়ন পাইনি। তাই দল থেকে পদত্যাগ করেছি।’

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার বাবাকে আমরা চিনতাম। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুরোধে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পদে রুমিন ফারহানার নাম প্রস্তাব করেছিলাম। আমার প্রস্তাবে রুমিন ফারহানা এমপি হয়েছেন। এখন আমার বিরুদ্ধে কথা বলেন।’

উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে সাত্তার ভূঁইয়া বলেছেন, ‘আমি সারা জীবন মানুষের কল্যাণের কথা ভেবেই সব সময় স্বচ্ছতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। এবারের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তও আমি নিজস্ব সৎ চিন্তা থেকে নিয়েছি। তবে একটি মহল দল থেকে আমার পদত্যাগ নিয়ে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের থেকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।’

দলীয় সিদ্ধান্তে গত ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। পরে দলে ‘গুরুত্ব না পাওয়ায়’ অভিমানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ ছাড়েন। দলত্যাগের পর তাকে বহিষ্কার করে বিএনপি। তার ছেড়ে দেওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। নির্বাচনী এলাকায় তার শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। তিনিই ভোটে জিতবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এই আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি। তবে আওয়ামী লীগের তিন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে তারাও তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সাত্তার ভূঁইয়ার পথ আরও সহজ হয়েছে।

বর্তমানে তার সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল হামিদ ভাসানী এবং জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম জুয়েল। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি এই আসনে উপনির্বাচন হবে।

ঠিকানা/এনআই