মুসলিম বিশ্বের দক্ষ পেশাজীবী তৈরির প্রয়োজনীয়তা

খলকু কামাল

বিশ্বের শীষমুরব্বি ক্ষমতায় বসেই ওয়াশিংটনে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে তেল ও অর্থের অভাব নেই। অতএব তাদের রাজা-বাদশাদের উচিত অন্যের দিকে না তাকিয়ে এখন থেকে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা। সাথে সাথে ন্যাটো সামরিক জোটের প্রতি তার পরামর্শ আপনারা নিজেরা শক্তিশালী হোন। জার্মান চ্যান্সেলর মারকেল চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নিজের দেশের যে কোন ধরনের ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলার উপযোগী করে গড়ে তোলার কাজে হাত দেন।
জাতি সংঘের সদস্যভুক্ত বিশ্বের ৫৫টি মুসলিম দেশের ডজনখানিক দেশ গত এক যুগ থেকে বিমান ব্যবসার প্রতি অধিক মনোযোগী হওয়ায় প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার লক্ষে বাণিজ্যিক বিমানের আধুনিকায়নে বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে সর্বোচ্চ মানের বাণিজ্যিক বিমান তৈরির ক্ষেত্রে আমেরিকার সাবেক বোয়িং ফ্রান্সের এয়ারবাস কোম্পানীর সাথে ব্রাজিল ও রাশিয়াও প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। ইরান চাচ্ছে নতুন বিমান কিনে শক্তিশালী এয়ার লাইন্স কোম্পানী গড়ে তুলতে। ইরানের আদেশকৃত ৫০০ বিমানের ডেলিভারি পেতে সর্বমোট ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের বিশ্বাস ইরানের মত তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য বাণিজ্যিক বিমান থেকে শুরু করে অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বিমান কেনার স্থলে নিজেদের দখলে থাকা বিমানের উৎকর্ষ সাধনে এবং সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে নিজ নিজ দেশের শিক্ষিত যুবকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দানের মাধ্যমে বৈমানিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলে তাদের পক্ষে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সহজ হবে। দিনে দিনে গোটা বিশ্বে বাণিজ্যিক বিমানের চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়ছে। তাই আগামী কয়েক দশকে বিশ্বজুড়ে পাইলটের চাহিদা অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। তাই বিত্তশালী মুসলিম দেশগুলোর রাজা-বাদশাহের উচিত প্রথমে নিজ দেশের শিক্ষিত যুবকদের বিমান চালনায় প্রশিক্ষণ দেয়া এবং পারদর্শী করে তোলা। কারণ প্রত্যেকের মনে রাখা উচিত: ভাড়াটে লোক দিয়ে কোন দেশ সঠিক অগ্রগতির পথে এগুতে পারেনা। তাই নিজ নিজ দেশের বিমান সংস্থার আধুনিকায়ন ও পরিচালনার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর উচিত এ মুহূর্ত থেকে দেশের যুব সমাজকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিমান চালনা থেকে রক্ষণাবেক্ষণের উপযোগী করে গড়ে তোলা।
ভারতের প্রতি নজর দিলে দেখা যায়: ভারত নিজ দেশের জনগণকে উন্নতমানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানব সম্পদে পরিণত করে উন্নত মানের পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, নার্স, আইটি ও ইংরেজি শিক্ষক তৈরি করে বহির্বিশ্বে রফতানির মাধ্যমে বছর শেষে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে। এর মধ্যে মুসলিম বিশ্বের শত শত ফ্লাইটসমূহে হাজার হাজার পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার ও ক্রু’রা চাকরি করে তারা অর্থনৈতিকভাবে নিজেরা লাভবান হচ্ছে। আমাদের দৃষ্টিতে মুসলিম বিশ্বের উচিত সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি হাতে নিয়ে আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে নিজ নিজ দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক উচ্চ ও দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী যেমন হাজার হাজার পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, নার্স, আইটি এক্সপার্ট দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া। আমাদের প্রত্যেকেরই স্মরণ রাখা উচিত: নিজ নিজ দেশের জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত না করতে পারলে নিকট ভবিষ্যতে প্রত্যেক দেশকেই চরম সঙ্কটে পড়তে হবে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বিদেশে দেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পরিষেবাদাতা আমদানি না করে নিজেদের দেশের জনগণকেই স্বাস্থ্য পরিষেবায় পারদর্শী করে তুলতে হবে। আমার বিশ্বাস আমাদের ধনী দেশগুলো যদি নিজেদের মধ্যে দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে আগামীতে মুসলিম বিশ্বের যে কোন একটি দেশে এইরকম বিমান তৈরি করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
এতে বিশ্বের ১৬০ কোটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে থেকে লাখ লাখ উচ্চ শিক্ষিত ২০/২২ বছরের যুবকদের হায়ার করে নিজ নিজ দেশে এনে পর্যাপ্ত ট্রেনিং দিয়ে পাইলট, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইটি, নার্স, ইংরেজি শিক্ষক, এয়ার ক্রু তৈরি করলে ৫/৬ বছরে লাখ লাখ মেধা শক্তি বের হবে। এতে দেশ ও জাতি খুবই লাভবান হবে। তাই প্রতিটি ধনী দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের কাছে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থে আমার সুপারিশ মুসলিম উম্মার অন্যান্য দরিদ্র ও গরিব দেশ থেকে উচ্চ শিক্ষিত মেধা সম্পন্ন যুবকদের স্ব স্ব দেশে অবস্থিত মুসলিম দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে প্রতিটি দেশ থেকে একটি কোটা নির্ধারণ করে ওদেরকে নিজ দেশে নিয়ে এসে বিভিন্ন ফ্লাইট ট্রেনিং পাইলট ও ইঞ্জিনিয়ার উচ্চ বেতনের চাকরির মাধ্যমে তারা নিজে ও তার দরিদ্র পরিবার এবং মুসলিম দেশটি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে সমগ্র বিশ্বে এখন আত্মনির্ভরশীলতার তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের পিছিয়ে থাকা অনুচিত। তাই নিজেদের স্বার্থেই মুসলিম বিশ্ব নিজ নিজ দেশে উন্নত ও দক্ষ পেশাজীবী সম্প্রদায় গড়ে তুলবে এটাই আমাদের আন্তরিক কামনা।
নিউ ইয়র্ক।