মেসির সেই দিনগুলি মনে পড়ে জাভির

খেলোয়াড়ি জীবনে এমন অনেক মুহূর্ত পার করেছেন জাভি ও মেসি। ছবি: দ্য জার্নাল

বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন লিওনেল মেসি। ২০২১ সাল পর্যন্ত এই নতুন চুক্তি। মেসির নতুন চুক্তি সাবেক সতীর্থদের নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত করেছে। লা মাসিয়ায় ফুটবল শেখা সেই কিশোরটি কীভাবে বিশ্বের সেরা ফুটবলার হয়ে উঠলেন, অনেকেই আরেকবার মনে করে নিচ্ছেন সে সময়গুলো। জাভি হার্নান্দেজ নাকি প্রথম অনুশীলনেই বুঝেছিলেন, ছেলেটির মধ্যে আগুন আছে। পায়ের কারুকার্যে জাভিকে মুগ্ধ করেছিলেন মেসি।

সময়টা তখন ছিল জাভির। বার্সেলোনার একাদশে তখন তিনি অপরিহার্য অংশ। মেসি যেদিন বার্সেলোনার হয়ে অনুশীলন করলেন, সেদিন মাঠে ছিলেন তিনি। আগেই জেনেছিলেন একাডেমিতে আর্জেন্টিনার এক ছেলে খুব ভালো করছে। নামটাও তাঁকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু মাঠে এসে মনে করতে পারছিলেন না তা। তবে প্রথম দিনের অনুশীলন দেখে ‘মেসি’ নামটা আর কোনো দিন ভোলেননি তিনি।
এএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই দিনটির কথাই বলেছেন জাভি, ‘অনুশীলন দেখেই আমি ভালোভাবে বুঝে গিয়েছিলাম, কেন ওকে নিয়ে এত আলোচনা, এত মাতামাতি।’
মেসির প্রাথমিক দিনগুলির বর্ণনা জাভি দিয়েছেন গল্পের মতো করেই, ‘অনুশীলনে আমাদের একটা ড্রিল হতো, যেখানে একজন খেলোয়াড় অন্য আরেকজনের বিপক্ষে খেলতো। ফরোয়ার্ডদের খেলতে হতো (লিলিয়ান) থুরাম বা (কার্লোস) পুয়োলের বিপক্ষে। আমি মেসিকে এই দুজনের বিপক্ষে খেলতে দেখেছিলাম। কিন্তু নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।’
জাভির কথা থেকেই বোঝা যায় কতটা দুর্দান্ত ছিলেন মেসি। সে সময়ের অন্যতম সেরা দুই ডিফেন্ডারকে রীতিমতো ঘোল খাইয়ে ছেড়েছিলেন। ওই বয়সে মেসির খেলা দেখেই সিদ্ধান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন জাভি, ‘আমি নিজেকে বলছিলাম, “একটা ১৬ বছরের ছেলে, পেশাদার এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলারদের কাটিয়ে ছুটে যাচ্ছে!” অবশ্যই সে অন্যদের চেয়ে আলাদা। ওয়ান অন ওয়ানে তার অবিশ্বাস্য দক্ষতা দেখেছিলাম। সে দ্রুত দৌড়ায়, পাস দেয়, শট নিতে পারে…সে দুর্দান্ত!’
পরের কাহিনি ইতিহাস। দুজন মিলে বার্সেলোনার হয়ে জয় করেছেন বিশ্ব। মেসি হয়েছেন বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আজ এতগুলো বছর পর মেসির অতীতের দিকে তাকিয়ে শিহরিত হন জাভি। গর্বিত হন এই ভেবে যে মেসির উত্থানের পেছনে তাঁর অবদানও কম নয়।