মেয়ে না হওয়ায় ৪৮ দিনের পুত্রসন্তানকে হত্যা করলেন বাবা

ঠিকানা অনলাইন : পরপর তিন পুত্রসন্তান জন্মের পর হামিদুর রহমানের আশা ছিল এবারেরটি হবে কন্যাসন্তান। কিন্তু চতুর্থ সন্তানটিও ছেলে হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন তিনি। ঘুমন্ত অবস্থায় ৪৮ দিনের ওই পুত্রসন্তানকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে তাকে গলাটিপে হত্যা করে বাড়ির পাশে একটি ডোবায় ফেলে দেন বাবা।

নির্মম ও হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দিলালপুর বানিয়াপাড়া গ্রামে। ৯ মার্চ মঙ্গলবার বদরগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন নিহত শিশুটির বাবা হামিদুর রহমান।

জানা যায়, হামিদুরের আশা ছিল পরপর তিন পুত্রসন্তান জন্মের পর এবারেরটি কন্যাসন্তান হবে। কিন্তু চতুর্থ সন্তানটিও ছেলে হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জন্মের ৪৮ দিনের মাথায় ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটিকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যান বাবা হামিদুর। পরে হত্যার পর বাড়ির পাশে একটি ডোবায় ফেলে দেন তিনি।

পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে ওই সময় শিশুটির মা ফরিদা বেগম ও বাবা হামিদুর রহমানকে আটক করে। একপর্যায়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে হামিদুর নিজের সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এরপর শিশুটির হত্যার আসল রহস্য উন্মোচন হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির দাদা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় ছেলে হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে নাতিকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করেন।

বাবার হাতে সন্তান হত্যার কথা শুনে বিস্মিত হন ফরিদা বেগম। তিনি বলেন, আমার স্বামী কন্যাসন্তানের জন্য ব্যাকুল ছিলেন। পরপর তিন ছেলের পর কন্যাসন্তানের আশায় ছিলেন। তার আশা ছিল, এবারের সন্তানটি মেয়ে হবে। কিন্তু চতুর্থ সন্তানও ছেলে হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন। শিশুটি বদল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি রাজি হইনি। এভাবে ছেলেকে হত্যা করবে জানলে বদল করতাম।

বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান জানান, আদালতে হামিদুর সন্তান হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ঠিকানা/এনআই