মোদির কঠিন সময়ে দিল্লি যাবেন হাসিনা

কার জন্য সুফল দেবে এবারের ভারত সফর

বিশেষ প্রতিনিধি : মোদি-অমিত শাহ জুটির গোটা ভারতবর্ষের চেহারা পাল্টানোর চেষ্টা, কাশ্মীরে দমননীতি, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা, চীনের রহস্যনীতির কঠিন সময়ে দিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আসাম কিংবা পশ্চিম বাংলা থেকে কাউকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে না- প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে এমন একটি সংকেত পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই আলোকেই চলছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের প্রস্তুতি। ৩-৬ অক্টোবর পর্যন্ত ভারত সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও ৪ অক্টোবর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ভারতীয় অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হবে ৫ অক্টোবর। অবশ্য তার আগে শেখ হাসিনা জাতিসংঘে যাবেন ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে।
এ সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশের হোম ও ফাইলওয়ার্ক চলছে ব্যাপক আয়োজনে। অন্তহীন পরিশ্রম করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইআরডি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ২৮ কিলোমিটার, ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন তৈরিসহ ৮ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকার ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে একনেকে। এ সফরে বিভিন্ন ইস্যুর মধ্যে ভারতীয় ঋণের ৪৭টি প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে ভারতের এক্সিম ব্যাংকের অফিস স্থাপনে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ারও কথা রয়েছে।
ভারতীয় ঋণ প্রকল্পগুলোর কাজের ব্যাপারে বেশ সতর্ক সরকার। সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে, ছোটখাটো ভুলত্রু টি পেলে যেন সঙ্গে সঙ্গে সেরে নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠির মাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে এলওসির আওতায় গৃহীত প্রকল্পগুলোর বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করতে। এ ছাড়া ঢাকার গুলশানে আরো আগেই অফিস খুলে কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশকে ঋণদানকারী সংস্থা ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক।
কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নির্যাতনের খবর সারা বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচিত। মোদি সরকার কাশ্মীরিদের নৃ-তাত্তি¡ক বৈশিষ্ট্য বদলে দিতে চাচ্ছে। উন্নয়নের নামে কাশ্মীর এখন ভারতের পুঁজিপতিদের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। সেখানে জমি কেনার হিড়িক পড়েছে গুজরাটি ব্যবসায়ীদের মধ্যে। কাশ্মীরের পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার আগেই এল আসামের এনআরসি। এর মাঝেই ভারত মহাসাগরে ভারতীয় জলসীমা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে টহল দিচ্ছে সাতটি চীনা যুদ্ধজাহাজ। ভারত মহাসাগরে আন্দামান সীমান্তের খুব কাছে ভারতীয় এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন ও আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি চীনা যুদ্ধজাহাজগুলোকে ঘোরাফেরার খবর মোদি সরকারের জন্য উদ্বেগের। যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ডক ও উভচর যানও রয়েছে চীনের টহল দলে।
চীনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে নেওয়া হয়েছে নীরব থাকার কৌশল। রোহিঙ্গাসহ কিছু ইস্যুতে চীনের রহস্যজনক আচরণ বাংলাদেশের সঙ্গে। তার পরও চীনের ওপর ভরসা রাখছেন শেখ হাসিনা। সফরে মিয়ানমারের লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরাতে ভারতের সমর্থনও চাইতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার এ সফরে ভারতের সঙ্গে বিশেষ অ্যাজেন্ডা রয়েছে। মোদির সঙ্গে সম্পর্কের আরো উন্নয়ন, কঠিন বিপদেও পাশে থাকার আশ্বাসের কথা পৌঁছানো হয়েছে আরো আগেই। বাকিটার আনুষ্ঠানিকতা হবে সফর ও বৈঠকে। দুই দেশের সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা আরো জোরালো করার ঘোষণাও আসতে পারে বৈঠক থেকে।
শেখ হাসিনার তৃতীয় এবং নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকে হতে যাচ্ছে তাদের প্রথম বৈঠকটি। গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে এবং এ বছরের জুনে দুই দেশের নির্বাচনই অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের পারস্পরিক স্বার্থগত সম্পর্ক চমৎকার। বিশেষ করে দুই দেশের সংযোগ স্থাপনে নানা প্রকল্প চালু হয়েছে তাদের মেয়াদে।
তবে এ সফরে ভারত কতটা পাবে আর বাংলাদেশ পাবে কতটা বাংলাদেশের মানুষ ভালোই খেয়াল রাখবে। এই সফরের অ্যাজেন্ডায় তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে কোনো কথা নেই। সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার সফর মোদির কঠিন সময় উত্তরণে সহায়ক হবে কি না কে জানে, তবে শেখ হাসিনার নিজের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনবে-সেটাই দেখার বিষয়।