মোহাম্মদী সেন্টার ও নিউইয়র্ক ঈদগাহর ঈদুল আজহার জামাত হবে ফেসবুক লাইভস্ট্রিমে

আল-আমিন জামে মসজিদে ঈদুল আজাহার ৪ জামাত

ঠিকানা রিপোর্ট : উত্তর আমেরিকায় আগামী ৩১ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে। ২০০৫ সন থেকে উত্তর আমেরিকায় ধর্মীয় সেবার শীর্ষে অবস্থানকারী মোহাম্মদী সেন্টার ও নিউইয়র্ক ঈদগাহর পরিচালক ইমাম কাজী কায়্যূম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নভবিজ্ঞানের জরিপে ২৯ জিলক্বদ অর্থাৎ ২০ জুলাই পৃথিবীর কোথাও জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় জিলক্বদ মাস পুরো ৩০ দিনে পূর্ণ হয়ে ২২ জুলাই, বুধবার ১ জিলহজ মাস শুরু হয়। সেজন্য উত্তর আমেরিকাসহ পৃথিবীর প্রায় সব কটি দেশেই ঈদুল আজহার দিন হবে ৩১ জুলাই শুক্রবার।
যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জামাতে নামাজের কাতার গঠন ইসলামী শরীয়তে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার কারণে নিউইয়র্ক ঈদগাহ এবারও ফেসবুক লাইভস্ট্রিমে ঈদুল আজহার জামাতের ব্যবস্থা করবে। ৩১ জুলাই সকাল ৯:০০ টায় মোহাম্মদী সেন্টার থেকে সরাসরি এফবি লাইভে সম্প্রচারিত ঈদের জামাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই ঘর থেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে (যা জামাতে নামাজ শুদ্ধ হওার জন্য অতীত জরুরি) পরিবারের সদস্য ও আমাদের নতুন প্রজন্মেও সন্তানদের নিয়ে মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। নিউইয়র্কের সময়ের সাথে মিল আছে, যেমন ট্রাইস্টেট, কানাডা ও উত্তর আমেরিকার এমন যেকোনো স্থান থেকে ভার্চ্যুয়াল এই ঈদুল আজহার জামাতে ইকতিদা (ইমামকে অনুস্মরণ) করে নামাজ আদায় করা যাবে। ফেসবুকের ওসধস ছধুর ছধুুড়ড়স এই আইডিতে লগইন করতে হবে। আরো বিস্তারিত জানতে ১-৭১৮ ৪৯৬-৯৩৭৭ এই নম্বরেও যোগাযোগ করা যেতে পারে।
কাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব? যার বা যাদের কাছে নেসাব পরিমাণ অর্থ সম্পদ, ৭.৫ তোলা সোনা বা নগদ ৪,৭৯০ ডলার ব্যাংকে বা হাতে আছে, তাদের প্রত্যেকের উপর কোরবানি ওয়াজিব।
ফ্রি কোরবানির মাংস বিতরণ ও গ্রহণ: প্রতিবারের মতো এবারও মোহাম্মদী সেন্টারের রামাদান ফাউন্ডেশন ঈদের পরের দিন শনিবার, ১ আগস্ট বিকেল ৪:০০ টা-৬:০০ টায় কোরবানির মাংস গ্রহণ এবং ৭:০০-৮:০০টায় তা ফ্রি বিতরণের ব্যবস্থা করেছে।
স্থান : মোহাম্মদী সেন্টার, ৩৭-৪২ ৭২-তম স্ট্রিট। আপনার কোরবানির একটি অংশ এতে দান করে কোরবানি আদায়ে অসমর্থ পরিবারগুলোর সাথে কোরবানির আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য বিত্তশালী প্রবাসীদের প্রতি বিনীত আবেদন করা যাচ্ছে। (পিক আপের ব্যবস্থা আছে।) আমাদের মনে রাখতে হবে, এই ঈদের দিনে বাড়ি বাড়ি বেড়াবার বা আড্ডা দেয়ার নহে। কোরবানিই এই ঈদের মূল মাহাত্ম্য ও আদর্শ। তিরমিজী শরীফের এক হাদিসে বর্ণিত আছে নবীজী বলেছেন, সাওয়াবের দিক থেকে ঈদুল আজহার দিন (নামাজের পর) পশু কোরবানি করার চেয়ে কোনো এবাদত মহান আল্লাহর কাছে বেশি মূল্যবান নহে। তিনি বলেন, হাশরের দিন নেকি-বদি মাপার পাল্লায় কোরবানি করা পশুর শিং, খুর, লোম-চামড়া, হাড্ডি ও উচ্ছিষ্ট কোরবানিকারীর নেকির আমলনামার পাল্লা ভারি করবে। নবীজী আরো বলেছেন, কোরবানির পশু জবাই করার পর এর রক্তফোটা মাটিতে পড়ার আগেই তা মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়। তাই অতি আনন্দে কোরবানি করার জন্য তিনি সকলকে উৎসাহ প্রদান করেছেন।
আরেকটি কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, নবীজীর উপর কোনোদিনও জাকাতের নেসাব পরিমাণ অর্থ-সম্পদ না থাকায় জাকাত ফরজ ছিল না, যা কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত, তা সত্ত্বেও তিনি প্রতিবার ঈদুল আজহার সময় দুটো পশু কোরবানি করতেন। ১টি তাঁর নিজের পক্ষ থেকে এবং আরেকটি কিয়ামত পর্যন্ত আসা সকল উম্মতের পক্ষ থেকে। তাই, আল্লাহ আমাদের মধ্যে যাদের কোরবানি করার তওফিক দিয়েছেন, আমরা কোরবানি করবো। তবে আমাদের খেয়াল রাখা অতীব জরুরি, যেনো ৭টি নামের অন্তত একটি নাম আমরা হজরত মোহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর নামে কোরবানি করি। ইনশাল্লাহ, তাতে আমরা আশা ও দাবি করে বলতে পারি, মহান আল্লাহ কাল কিয়ামতের দিন নবীজীর সুপারিশে আমাদের অবশ্যই ধন্য করবেন। আমাদের একটুখানি ইচ্ছাই তাতে যথেষ্ট বলে মনে করি। জিলহজ ১ থেকে ১০ দিনের মূল্য আল্লাহর নিকট অপরিসীম, তাই, এই সময় যেনো আমরা হেলায় না কাটাই। ৯ জিলহজ আরাফাতের দিনের ফজিলতের রোজাটাও যেনো আমরা রাখতে পারি, সেদিকে যেনো আমাদের পুরো লক্ষ্য থাকে।
আরেকটি জরুরি আমল হলো : তাকবীরে তাশরীক: মাহে জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে নিয়ে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত পুরুষের উচ্চস্বরে ও নারীর নিম্নস্বরে ১-৩ বার প্রতি ফরজ নামাজ আদায়ের পর এ তাকবীর জপ করা ওয়াজিব। প্রকাশ থাকে যে, ঈদ বাজারের কোনো রেওয়াজ ঈদুল আজহায় নেই। তবে কোরবানির গুরুত্ব বিবেচনায় পশু বিক্রির বাজার অবশ্যই জরুরি।
তাকবীরে তাশরীক : আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাললাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

আল-আমিন জামে মসজিদে ঈদুল আজাহার ৪ জামাত
স্বাস্থ্যবিধি মেনে আল-আমিন জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষ পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের ৪টি জামাত মসজিদের ভেতরে আয়োজনের ব্যবস্থা করেছেন। ৩১ জুলাই (শুক্রবার) প্রথম জামাত স্থানীয় সময় সকাল ৭টা, দ্বিতীয় জামাত ৮টা, তৃতীয় জামাত ৯টা এবং চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। চতুর্থ জামাতে মহিলাদের নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। তবে জামাতে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ভাই-বোনদের জায়নামাজ সাথে নিয়ে আসতে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় করতে হবে।