মৌলভীবাজারে বাড়িভাড়ায় নৈরাজ্য

মৌলভীবাজার : প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার শহরে বাড়িভাড়া নিয়ে অনেকটা নৈরাজ্য চলছে। নতুন বছর এলেই মালিকেরা নিজেদের খেয়াল খুশিমতো বাড়িভাড়া বাড়াচ্ছেন। বাড়িভাড়া আইনের প্রয়োগ না থাকায় এমনটা হচ্ছে। নতুন বছরে নানা কারণে বাড়ি বদলে বাধ্য হন শহরবাসী, বিশেষত মধ্যবিত্তরা। বিশেষ করে চাকরিজীবী পরিবার এ নিয়ে পড়েন বিড়ম্বনায়। বছর ঘুরছে আর বাড়ছে বাড়িভাড়া।
গত ১৬-১৭ বছরে মৌলভীবাজার শহরে বাড়িভাড়া বেড়েছে ৩-৪ গুণ। পৌর শহরের বেশ কয়েকজন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এরই মধ্যে প্রতিবারের মতো বছরের শুরুতে বাড়ির মালিকেরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াচ্ছেন। মৌলভীবাজার শহরের মুসলিম কোয়ার্টার, বনশ্রী, গোবিন্দশ্রী, দোয়ারক, কাজিরগাঁও, বনবিথি, সৈয়ারপুর, সুলতানপুর, গীর্জাপাড়া, কুসুমবাগ, বড়হাট, ধরকাপন, বড়কাপন, পুরাতন হাসপাতাল রোড, শাহ মোস্তফা রোড, ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেছেন, ইতোমধ্যে তাদের কাছে এলাকাভেদে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর নোটিশ পাঠিয়েছেন বাড়ির মালিকেরা। তা ছাড়া অনেক বাসা প্রবাসীদের জন্য রেডি বাসা হিসেবে ভাড়া দেয়া হয়। আসবাবপত্রসহ প্রস্তুত এই বাসাগুলোরও ভাড়া বছরান্তে মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি করা হয়। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মৌলভীবাজার শহরে ২০০০ সালে পাকা ভবনে দুই কক্ষের একটি বাসার ভাড়া ছিল এক হাজার থেকে ১৫শ’ টাকা। ২০০৫ সালে তা দুই হাজার ৫শ’ থেকে তিন হাজার টাকা। ২০১০ সালে তা পাঁচ হাজার টাকা এবং ২০১৮ সালে সেই ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। ২০০০ সাল থেকে চলমান বছরে ভাড়া বেড়েছে প্রায় ছয় গুণ। তবে এই ভাড়ার হার এলাকা ভেদে ভিন্ন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই কক্ষের একটি বাসায় থাকছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা। তিনি দুই কক্ষের এই বাসাটি ৮ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছিলেন। বাড়িওয়ালা এই বছরও দুই হাজার টাকা বাড়ানোর নোটিশ দিয়েছেন। সরকারি কলেজের শিক্ষক ও স্কুল শিক্ষিকা দম্পতি পরিবার নিয়ে সার্কিট হাউজ এলাকার একটি বাসায় থাকেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত বাসা ভাড়া ছিল ৮৫০০ টাকা, জানুয়ারি থেকে বাসার মালিক দুই হাজার টাকা বাড়িয়েছে। এখন ভাড়া ১০ হাজার ৫শ’ টাকা। কুসুমবাগ এলাকার স্কুল শিক্ষক বলেন, গত বছর এক বাসায় থাকতাম ভাড়া ছিল সাত হাজার ৫শ’ টাকা। এ বছর ভাড়া বৃদ্ধির কারণে পরিবর্তন করে এখন বেড়ির পাড় এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়েছি। এখন ভাড়া সাত হাজার টাকা। এ ছাড়াও মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার এক ভাড়াটিয়া এবার ৫শ’ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি হয়েছে। গত বছর ছিল ১১ হাজার ৫শ’ এবার ১২ হাজার টাকা। দক্ষিণ কলিমাবাদ এলাকার ভাড়াটিয়া শফিক জানান, এ বছর ৫শ’ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি হয়েছে। মালিক পক্ষ বলেছিল ১৫শ’ টাকা বৃদ্ধির জন্য আমরা ৫শ’ টাকা মানছি। আগে ছিল ৮ হাজার ৫শ’ টাকা এখন ৯ হাজার টাকা। কেবল মাসিক ভাড়া নয়, অগ্রিম হিসেবেও কয়েক মাসের ভাড়া নিচ্ছেন বাড়ির মালিকেরা। একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা বলেন, সব মিলিয়ে মাসিক ভাড়া ১০ হাজার টাকা। আর অগ্রিম হিসেবে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। অন্য দিকে বাড়িভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে বাড়িওয়ালারা নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, পাহারাদার, ঝাড়দার, গৃহঋণের সুদ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ইত্যাদি যুক্তি দেখান। গীর্জাড়া এলাকার বাড়িওয়ালা এক লন্ডন প্রবাসী বলেন, সবকিছুর দাম বাড়লে বাড়িভাড়া বাড়বে না কেন। কিছু বাড়িওয়ালা অন্যায়ভাবে ভাড়া বাড়াচ্ছেন এটা ঠিক না। বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই বাড়িভাড়া বাড়ানো হচ্ছে।