ম্যারাথনের ‘সীমা’ছাড়িয়ে কিপচোগে

স্পোর্টস ডেস্ক : ডন ব্র্যাডম্যানের টেস্ট গড় ৯৯৯৪। ব্যাটসম্যানদের শেষ সীমা কি এটাই? ব্র্যাডম্যানের পর কারো গড় কিন্তু ৭০ পার হয়নি এখনো। তেমনি অ্যাথলেটিকসের ১০০ মিটারে উসাইন বোল্টের বিশ্বরেকর্ড ৯৫৮ সেকেন্ডের আশপাশে নেই কেউ। একইভাবে ম্যারাথন দুই ঘণ্টার কমে শেষ করা যায়, ভাবনাটা ছিল অকল্পনীয়। ধরেই নেওয়া হয় ৪২২ কিলোমিটার ম্যারাথনের শেষ সীমা দুই ঘণ্টার ওপরের কোনো টাইমিং। এর বিশ্বরেকর্ডই ২ ঘণ্টা ১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড। ২০১৮ সালে বার্লিন ম্যারাথনে রেকর্ডটা গড়েন কেনিয়ার ইলিয়ুডু কিপচোগে। সেই কিপচোগে গত ১২ অক্টোবর অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ছাড়িয়ে গেলেন ম্যারাথনের দুই ঘণ্টার সীমা। জিতলেন ১:৫৯ সেকেন্ডের চ্যালেঞ্জ। দূরপাল্লার দৌড়ের এই কিংবদন্তি ২৬২ মাইল বা ৪২২ কিলোমিটার শেষ করেন ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে। অ্যাথলেটিকস ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে কীর্তি গড়লেন দুই ঘণ্টার কমে ম্যারাথন শেষের। তবে এটা রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে না আইএএএফ। কারণ ম্যারাথনটা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল না। আয়োজকদের উদ্দেশ্যই ছিল কিপচোগেকে জেতানো আর দৌড় দুই ঘণ্টার নিচে শেষ করতে সব রকম সাহায্য করা। এ জন্য জুতায় ছিল প্রযুক্তির ব্যবহার। ৪২ জন ‘পেস মেকার’ সাহায্য করেছেন কেনিয়ার এই দৌড়বিদকে। তবে সংস্থাটির সভাপতি সেবাস্তিয়ান কোয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন কিপচোগেকে, ‘উদ্যোগটা অসাধারণ, যা প্রেরণা জোগাবে অ্যাথলেটদের। দুই ঘণ্টার কমে ম্যারাথন শেষ করা বিশেষ কিছু। অভিনন্দন কিপচোগেকে।’

ব্রিটিশ কেমিক্যাল কম্পানি আইএনইওএস আয়োজন করেছিল এই ম্যারাথনের। ‘পেস মেকার’ হিসেবে দৌড়ে কিপচোগেকে সাহায্য করেছেন অলিম্পিক ১৫০০ মিটার চ্যাম্পিয়ন ম্যাথু সেনত্রোয়িজ, অলিম্পিক ৫০০০ মিটারে রুপা জেতা পল ক্লেমিওরা। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন কিপচোগে, ‘ওরা বিশ্বের অন্যতম সফল অ্যাথলেট। আমরা সবাই মিলেই করেছি এই রেকর্ড। ক্রীড়াঙ্গনে এই দৌড়টা ইতিবাচক হয়ে থাকবে। আমি অ্যাথলেটিকসকে উপভোগ্য ও স্বচ্ছ (ডোপমুক্ত) করতে চাই। আমরা এক সঙ্গে যখন দৌড়াতে পারি, তখন সুন্দর একটা পৃথিবীও গড়তে পারি।’
ম্যারাথনের ঠিক অর্ধেকটা ৫৯৩৫ সেকেন্ডে শেষ করেছিলেন কিপচোগে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এটা ১১ সেকেন্ড কম। সব মিলিয়ে লেগেছে ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে। অনন্য কীর্তিটা শেষে জড়িয়ে ধরেন স্ত্রীকে। কাঁধে জড়ান কেনিয়ার পতাকা। অন্য অ্যাথলেটরা তুলে নেন কাঁধে। তাই সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন কিপচোগে, ‘ধন্যবাদ সবাইকে। কোনো কিছুর সীমা থাকে না, এই ম্যারাথন সেটাই বোঝাল।’