যশোরে ২৬ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ফেরত দাবি

যশোর : অসত্য তথ্য-উপাত্ত দাখিল করে ভুয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সেজে আত্মসাতকৃত লাখ লাখ সরকারি টাকা ২৬ জনের কাছ থেকে ফেরত নেয়ার দাবি জানিয়েছেন যশোরের চৌগাছার ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধা। একই সঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকারি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট এবং স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সরকার দেশে প্রায় ৬০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে এসব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়ায় যশোরের চৌগাছা উপজেলার ২৬ জন ভুয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত হয়। যাদের ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর ও ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর স্বাধীনতা ভবনে মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শুনানি গ্রহণ করেন। সেই শুনানিতে তাদের কাগজপত্র জাল প্রমাণিত হওয়ায় মোহাম্মদ আলী, জেকের আলী, শফিয়ার রহমান, নুরু মিয়া, ইউসুফ আলী এবং শাহজাহান আলীকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। আর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা থেকে বাদ পড়েন মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী, লিয়াকত আলী, আশরাফ আলী, আবুল কাশেম, মতিয়ার রহমান, নুর ইসলাম, চকম আলী, সহিদুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম খান, কেরামত আলী, বাহারাম উদ্দিন, রমজান আলী, নুর ইসলাম, সামসুল আলম, আব্দুল আলীম, সাজেদুর রহমান, আলী আহাম্মদ, নূর হোসেন, মুজিবর রহমান এবং ওমর আলী। জামুকার ৫৩ ও ৫৪তম সভায় তাদের বিরুদ্ধে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে এরপর থেকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধা তাদের নির্ধারিত সরকারি ভাতা উত্তোলন করছেন না। কিন্তু গত ৭ জানুয়ারি চৌগাছা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে এসব ভুয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা সংবাদ সম্মেলন করে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে ভাতা না পেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই সাথে ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংক্রান্ত মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করা হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে আজকের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকারি সিদ্ধান্ত দ্রæত বাস্তবায়ন হওয়ায় আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে অসত্য কাগজপত্র দাখিল করে ভুয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সেজে সরকারি কোষাগার থেকে আত্মসাৎকৃত লাখ লাখ টাকা ফেরত নেয়ার দাবি করছি। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল ইসলাম, রুহুল আমিন, তোফায়েল আহমেদ, রবিউল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ, আব্দুল বাতেন, আনোয়ারুল আরেফিন, আব্দুল লতিফ, ওলিয়ার রহমান, মতিউর রহমান, রওশন আলী, হায়দার আলীসহ উপজেলার ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।