যারা অপরাধের শিকার হচ্ছেন তাদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা

মোহাম্মদ এন মজুমদার

নিউইয়র্ক শহর এবং নিউইয়র্ক স্টেটকে বলা হয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ও নগরী। এটিকে পৃথিবীর রাজধানী হিসাবেও গণ্য করা হয়। কারণ, প্রতি বছরই হাডসন নদীর তীরে অবস্থিত ইউনাইটেড ন্যাশন্সে পৃথিবীর সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সমাবেশ ঘটে এ শহরেই। পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এ শহরের শাসন ব্যবস্থা এবং এখানে প্রদেয় সুযোগ-সুবিধা অতুলনীয়। যেমনÑ গরিবদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, সেবা ও ওষুধপত্র; গৃহহীনদের বিনামূল্যে, স্বল্পমূল্যে বাসস্থান, খাদ্য, রেন্ট, শিশুদের সুবিধা, আরও কত কি এ শহরকে সমৃদ্ধ করেছে। সারা পৃথিবীর ভ্রমণ প্রেমিকদের প্রধান আকর্ষণ এই নিউইয়র্ক শহর। বৈচিত্র্যময় এ শহরের অবকাঠামো, নির্মাণ শৈলী অসাধারণ ও অতুলনীয়। বহুজাতিক এ শহরে সরকারি-বেসরকারি চাকরি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে, বাসস্থানের ভবনসমূহে পাবেন বিভিন্ন জাতি, গোষ্ঠী ও বর্ণ ও ভাষার মানুষের সমাবেশ। শহরের অধিবাসীদের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক ও সুসংগঠিত জাতি-ধর্ম ও বর্ণ নিরপেক্ষ একটি পুলিশ বাহিনী, যারা জনগণের কল্যাণে সদা নিয়োজিত। এখানে বাঙালি সদস্যের সংখ্যাও রয়েছে হাজার খানেক। অসংখ্য রোড, হাইওয়ে, টানেল ছাড়াও রয়েছে শহরের প্রত্যেকটি স্থানে প্রশস্ত রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভাট, পথচারী ও বাইসাইকেল চালকদের জন্য সুব্যবস্থা। শহরের পার্ক ও খেলাধূলার মাঠসমূহ দৃষ্টিনন্দন, সুন্দর, পরিপাটি, স্বাস্থ্যকর ও অসাধারণ এবং অতুলনীয়।
নিউইয়র্ক শহরের সাবওয়ে ও বাসভ্রমণ আনন্দদায়ক, পরিপাটি এবং নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যের দিক দিয়ে এক কথায় বলতে গেলেÑ অসাধারণ!
ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সসহ বিভিন্ন অপরাধের যারা শিকার হয়েছেন বা হচ্ছেন, তাঁদের জন্য রয়েছে অবিশ্বাস্য রকমের সুযোগ-সুবিধা। যেমনÑ ‘সেইফ হরাইজন।’ যাঁদের অধীনে কাজ করছেন ভিকটিম সার্ভিস এডভোকেট, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এডভোকেট, ভিকটিম ও উইটনেস সার্ভিস এসিটেন্স।
‘সেইফ হরাইজন’ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, ফ্যামেলি কোর্ট ও ক্রিমিনিাল কোর্টের সাথে যোগাযোগ রেখে কাজ করে থাকে। পুলিশের সাথে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ, ভিকটিম বা অপরাধের শিকারী ব্যক্তির ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। ভিকটিম বা অপরাধের শিকারী ব্যক্তির জন্য আইনজীবী নিয়োগ, নিরাপত্তা প্রদান ও অন্যান্য কী কী সরকারি সুযোগ-সুবিধা অপরাধের শিকার ব্যক্তি পেতে পারেন, সর্বোপরি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানই হচ্ছে ভিকটিম সার্ভিসের কাজ।
তাই সেফটি প্লানিং, সাপোর্টিং কাউন্সেলিং, স্কিল বিল্ডিং, হাউজিং এসিট্যান্ট, জব ওপারচুনিটি, লিগ্যাল এসিস্ট্যান্ট, চাইল্ড কেয়ার, কেইস ম্যানেজমেন্ট ও অন্যান্য সহায়তার জন্য কল দিন- ১৮০০-৭৯৯-৭২৩৩ সেইফ হরাইজন; ১৮০০-৬২১-৪২৭৩ ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স হটলাইন।
এছাড়াও গুরুতর অপরাধের শিকার ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাটাসহীন হলে ‘ট’ ভিসার জন্যও আবেদন করতে পারেন এবং গ্রিনকার্ডও পেতে পারেন। তবে, ভিকটিমকে পুলিশ ডিপাটমেন্ট সার্টিফাইড করতে হবে এ মর্মে যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় উক্ত ভিকটিমকে সাক্ষী হিসাবে পাওয়া রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর এবং এ জন্য ওই সাক্ষীকে রাষ্ট্রের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা উচিত।
লেখক পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল সেন্টার থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে কর্মরত আছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকা-ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ব্রঙ্কস প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন।