যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে রহস্যময় ব্যক্তি যিনি!

ঠিকানা ডেস্ক : মিডিয়ার সামনে খুব একটা না আসলেও যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিদের অন্যতম রবার্ট মুলার। তিনি ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি প্রেসিডেন্টকে অপসারণে একটি চক্রান্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে তার সম্পর্কে সমালোচকরা অভিযোগ করে থাকেন। আর তার সমর্থকরা বলছেন, তিনি একজন অক্লান্ত কর্মী যিনি সত্য প্রকাশের লড়াই করছেন। ১৯৪৪ সালে ম্যানহ্যাটনের বিত্তশালী এক পরিবারে রবার্ট শন মুলার (তৃতীয়) জন্মগ্রহণ করেন এবং নিউজার্সির প্রিন্সটনে বেড়ে ওঠেন।

এরপরে মুলার রাজনীতি নিয়ে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া শেষ করে মেরিন সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং ১৯৬৮ সালে ভিয়েতনামে যান।মুলার যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসিকতার জন্য ব্রোঞ্জ স্টার সহ নানারকম সম্মানজনক অ্যাওয়ার্ডে ভষিত হয়েছেন। যুদ্ধ থেকে ফেরার পর তিনি ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ে ১৯৭৩ সালে গ্রাজুয়েশন করেন। এরপরে বস্টনে তিনি প্রসিকিউটর এবং তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং বিষয়ে কাজ করেন। ১৯৯০ সালে তিনি বিচার বিভাগে যোগ দেন। ২০০১ সালের আগস্টে সিনেটে সর্বজনীনভাবে তিনি এফবিআই প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। এর ঠিক এক সপ্তাহ পর ঘটে নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা, যেখানে প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়, এবং এরপর তার ভমিকা পুরোপুরি পাল্টে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক ডগলাস চার্লস বলেন, ‘নাইন-ইলেভেন এর জের ধরে নজরদারি পদ্ধতিগুলোর শিথিলতার জন্য মি মুলারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।’২০১৭ সালের মে মাসে বিশেষ কনসাল হিসেবে নিযুক্ত হবার পর রাশিয়া ইস্যুতে তদন্তের নেতৃত্ব-দান শুরুর পর থেকে মিস্টার মুলারের শান্ত, নিরপেক্ষ মনোভাব নিয়ে অনেক কথা-বার্তা হয়েছে।

তদন্ত বিষয়ে খুব সামান্য তথ্য ফাঁস হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জনসম্মুখে তিনি কদাচিৎ কথা বলেছেন। মিডিয়ায় কথা বলার বিষয়ে তিনি খুবই অনিচ্ছুক। সূত্র: বিবিসি।