যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহে দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

নিউ ইয়র্ক : গুলিতে নিহত ফিরোজ-উল-আমিন ((বাঁয়ে) এবং নিহত শাহেদ (ডানে) -ঠিকানা

ঠিকানা অনলাইন : এক সপ্তাহের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত ১ সেপ্টেম্বর জ্যামাকার রিচমন্ড হিলের ১৩০ স্ট্রিট ও ৯২ এভিনিউতে অবস্থিত একটি নাইট ক্লাবের সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশি যুবক শাহেদ। আর শনিবার ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার ব্যাটন রাউজ এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় আরেক বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফিরোজ-উল-আমিন (২৯।

জানা যায়, শনিবার ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার ব্যাটন রাউজ এলাকায় ফিরোজ-উল-আমিন নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।নিহত ফিরোজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিইসি থেকে স্নাতক শেষ করে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণের উদ্দেশে লুইজিয়ানা স্টেস্ট ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছিলেন।

নিহত ফিরোজ লুইজিয়ানা স্টেস্ট ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিইসি) বিভাগে, সাইবার সিকিউরিট ’র ওপর পিএইচডি করছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিইসি থেকে স্নাতক শেষ করে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি।

ইস্ট ব্যাটন রুজের এই গ্যাস স্টেশনেই গুলি করে হত্যা করা হয় ফিরোজ-উল আমিনকে

পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় একটি গ্যাস স্টেশনে ক্লার্ক হিসেবে কাজ করতে মো. ফিরোজ-উল-আমিন। শনিবার সকালে সেখানে এক ডাকাতি সংঘটিত হয়। এসময় গ্যাস স্টেশনটিতে কর্মরত ফিরোজকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

ফিরোজদের বাড়ি গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ সংলগ্ন এলাকায়। গত বছর সেপ্টেম্বরে তার বাবা মারা যান। দুই ভাইবোনের মধ্যে ফিরোজ ছিলে বড়। তার মৃত্যু সংবাদে ছোট বোন ও মা ভেঙে পড়েছেন বলে ফিরোজের বন্ধুরা জানিয়েছেন। 

লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করা আরেক বাংলাদেশি রিয়াজ আহমেদ জানান, সামনের ডিসেম্বরে দেশে যাওয়ারি কথা ছিল ফিরোজের। তখন তার বিয়ের আয়োজন করছিলেন তার মা।

“বিয়ের জন্য টাকা জমাতে গত কয়েক মাস ধরে ওই গ্যাস স্টেশনে কাজ করছিল ফিরোজ। গত সপ্তাহে বিয়ের আংটিও কিনেছিল। পরিকল্পনা করছিল, বিয়ের পর ইন্দোনেশিয়ার বালিতে যাবে হানিমুনে। এখন তো সব শেষ হয়ে গেল।”

লুইজিয়ানায় ‘দেবী’ সিনেমার মহরতে বন্ধুদের সঙ্গে হলুদ পাঞ্জাবি পরিহিত ফিরোজ-উল আমিন
বন্ধুদের সঙ্গে হলুদ পাঞ্জাবি পরিহিত ফিরোজ-উল আমিন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করা ফিরেজ এক সময় টাইগার আইটিতেও কাজ করেছেন। লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে তিনি অধ্যাপক গোল্ডেন জি রিচার্ডের অধীনে পিএইচডি করছিলেন।

অধ্যাপক রিচার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, “সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে গবেষণা করছিল ফিরোজ। সে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ২০২৩ সালে তার কোর্স শেষ হওয়ার কথা ছিল।”

নিউ অর্লিয়েন্সের রিজিওনাল ট্রানজিট কমিশনারের দায়িত্বে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি মোস্তফা সারওয়ার জানান, ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার ফিরোজের লাশ হস্তান্তর করা হতে পারে। এরপর দেশে পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর আনুমানিক ভোর সাড়ে ৪টায় জ্যামাকার রিচমন্ড হিলের ১৩০ স্ট্রিট ও ৯২ এভিনিউতে অবস্থিত একটি নাইট ক্লাবের সামনে এই ঘটনা ঘটে। নিহত বাংলাদেশী যুবকের নাম শাহেদ (২৭)। আহতদের একজনের বয়স ২৮, নাম ইজু। তার বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার। অপরজন ২৭ বছর বয়েসী কৃষ্ণাঙ্গ। এরা বর্তমানে জ্যামাইকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের দুজনেরই পায়ে ও পিঠে গুলি লেগেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত শাহেদের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নে।

জানা যায়, ক্লাবের সামনে বিবদমান দু’পক্ষের মধ্যে ঝগড়ায় এক পর্যায়ে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় শাহেদ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়। স্থানীয় হাসপাতালে নেয়ার পর সে মৃত্যুবরণ করে।

নিহত শাহেদ যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বাবর উদ্দিনের ছেলে। বাবর উদ্দিন একজন কন্সট্রাকশন ব্যবসায়ী। শাহেদ ৫ ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা নজমূলকে ৮০ স্ট্রিট ও আটলান্টিক এভিনিউ, ইমাম আলাউদ্দিন আকঞ্জি ও মুসল্লি তারা মিয়া ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট লিবার্টি এভিনিউ ও ৮০ স্ট্রিটের কর্নারে, ২০০১ সালের ১১ আগস্ট সাংবাদিক মিজানকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে।