যুগে যুগে ঔদ্ধত্য ও প্রতিহিংসার পরিণতি

মুহম্মদ শামসুল হক

পবিত্র কুরআনের সূরা বাক্কারার উদ্ধৃতি দিয়ে ইসলাম ধর্ম বিশারদগণ বলেন যে মানব সৃষ্টির পূর্বে মহান আল্লাহতায়ালা জগতে তাঁর প্রতিনিধি প্রেরণের ব্যাপারে ফেরেশতাদের মতামত জানতে চেয়েছিলেন। ফেরেতাগণ মহান আল্লাহর অভিপ্রায়ের সাথে ভিন্নমত পোষণের মধ্য দিয়েই সম্ভবত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের প্রথম সূচনা করেছিলেন। আদম সৃষ্টির বিরোধিতা এবং নিজেদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ফেরেতাগণ এমন সব যুক্তিতর্ক প্রদর্শন করেছিলেন যাতে মহান আল্লাহ বলতে বাধ্য হয়েছিলেন- আমি যা জানি তোমরা তা জান না। অতঃপর আদম সৃষ্টির পর মহান আল্লাহ আদম (আ)কে এমন সকল বস্তুর নাম শিখিয়েছিলেন যেগুলোর সম্পর্কে ফেরেশতাদের আদৌ কোন ধারণা ছিলনা। পরবর্তীতে আল্লাহ ফেরেতাদের উদ্দেশ্যে বললেন, তোমরা যদি তোমাদের বক্তব্যে সত্য হয়ে থাকে তবে এ সকল বস্তুর নাম বল। ফেরেতাগণ নিজেদের অক্ষমতা প্রকাশ করে আল্লাহর অনুকম্পা ভিক্ষা করলেন এবং মহান আল্লাহ ফেরেতাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করলেন। আর মহান আল্লাহ ফেরেতাদের নির্দেশ দিলেন আদম (আ)কে সেজদা করতে। একমাত্র ইবলিস ছাড়া সকল ফেরেশতা আল্লাহর আদেশ বিনাবাক্য ব্যয়ে পালন করলেন। অন্যদিকে আদম(আ)কে মাটির তৈরি এবং নিজকে আগুনের তৈরি যুক্তি প্রদর্শন করে এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির ও আদমের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের নামে আদম (আ)কে সেজদা করা থেকে ইবলিস বিরত থাকল এবং ঔদ্ধত্য প্রদর্শন ও চরম ভ্রান্তির পথে পা বাড়াল। তারপর আল্লাহর আদেশ অমান্যের দায়ে ইবলিস চির অভিশপ্ত শয়তান উপাধি লাভ করল। সেই অতুলনীয় ভ্রান্তির খেসারত ইবলিসকে চিরদিন দিতে হচ্ছে এবং সহজাত প্রতিহিংসা বশে আদম সন্তানের বিপথগামী করার কাজে শয়তান সর্বক্ষণ নিয়োজিত রয়েছে। আর শয়তানের প্ররোচনাতেই অনেক আদম সন্তান অজ্ঞতাবশে ভ্রম এবং ঔদ্ধত্যের জালে জড়াচ্ছে ও সতত বিপথগামী হচ্ছে। এ ব্যাপারে আদম সন্তানদের সতর্কতা অবলম্বন একান্তই অপরিহার্য বলে আমাদের বিশ্বাস।
এদিকে মহান আল্লাহর বিশেষ আশীর্বাদপুষ্ট আদম (আ) বেহেশতে স্থান পাওয়ার পাশাপাশি জীবনের নিঃসঙ্গতা ও একাকীত্ব ঘোচাতে আল্লাহর রহমতে বিবি হাওয়া(আ)কে পেলেন জীবনসঙ্গিনী হিসেবে। মহান আল্লাহ হযরত আদম (আ) এবং বিবি হাওয়াকে বেহেশতের অতুলনীয় সহায়-সম্পদ প্রাণভরে উপভোগের আদেশ দেয়া সত্ত্বেও একটি বিশেষ বৃক্ষের সন্নিকটবর্তী না হওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। অথচ দুর্ভাগ্যক্রমে মানবের চিরশত্রু শয়তানের প্ররোচনায় হযরত আদম (আ) এবং বিবি হাওয়া আল্লাহর নিষেধাজ্ঞার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে সেই নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল খেয়ে নতুন ভুলের ফাঁদে জড়ালেন। ফলে শাস্তিস্বরূপ তাঁরা বেহেশত থেকে বহিষ্কৃত হওয়া ছাড়াও অতিরিক্ত কিছু শাস্তি ভোগ করলেন। আর আদি পিতা আদম এবং আদি জননী বিবি হাওয়ার সেই অনিচ্ছাকৃত ভুলের খেসারত হিসেবে আদম সন্তান-সন্ততিগণ প্রতিনিয়ত নিত্য-নতুন ভুল এবং ঔদ্ধত্যের ফাঁদে জড়াচ্ছেন এবং এ ধারা মহাপ্রলয়ের আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
আবার হযরত আদম (আ) এবং বিবি হাওয়া ধরাধামে নিক্ষিপ্ত হয়ে দীর্ঘকাল অনুশোচনাগ্রস্ত চিত্তে কান্নাকাটি এবং ক্ষমা ভিক্ষার পর মহান আল্লাহর অপরিসীম রহমতে পুনর্মিলিত হয়েছিলেন এবং ভুলের দায় থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছিলেন। কিন্তু আদম সন্তানদের ভুলের বোঝা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে সমগ্র বিশ্বজুড়ে। প্রতিটি জাগতিক ভুল-ভ্রান্তি এবং উদ্ধত আচরণের পর আদমের উত্তরসূরীরা পূর্ববর্তীদের অনুকরণে অনুশোচনাগ্রস্ত চিত্তে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে তারা অবশ্যই আল্লাহর অনুকম্পা পেতেন এবং জগত-সংসারকেও মানব সন্তানদের রাশি রাশি পাপের বোঝা বহন করতে হতনা।
আদম হাওয়ার পর তাদের সন্তান হাবিল এবং কাবিল নিজ নিজ বোনকে বিয়ে করা নিয়ে নতুন করে সংঘাতে জড়ালেন। হাবিলের কুরবানী অগ্রাহ্য হওয়ার পর দুর্দমনীয় ক্রোধ ও ঔদ্ধত্য বশে কাবিলকে খুনের মাধ্যমে হাবিল নরহত্যার যে পাপপঙ্কিল পথে পা বাড়িয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় প্রত্যহ প্রতি মুহূর্তে মানুষ খুনের মহড়া চলছে সমগ্র বিশ্ব-ব্রক্ষ্মান্ডে এবং মানুষের উষ্ণ রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে সবুজÑশ্যামল ভূখন্ড।
পবিত্র কুরআনের বর্ণনানুযায়ী, পৌত্তলিকতার স্থলে আল্লাহর একত্ববাদের পথে নিজ পিতা এবং কওমের লোকজনকে আহ্বান করতে গিয়ে রাজরোষে পড়েছিলেন হযরত ইব্রাহীম (আ)। পৌত্তলিক স¤্রাট নমরুদ ইব্রাহীম (আ)কে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চেয়েছিল। অথচ মহান আল্লাহর অপরিসীম কৃপায় হযরত ইব্রাহীম (আ) রক্ষা পেলেন এবং তাঁর বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়নি। অন্যদিকে পাপীষ্ঠ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ নমরুদ আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধেলিপ্ত হতে গিয়ে রাজ্য-সাম্রাজ্য-সৈন্যসামন্ত সবই হারিয়েছিল। আর একটি কানা ও খোঁড়া মশা নমরুদের নাসারন্ধ্র দিয়ে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে প্রতিনিয়ত মাথার ভেতর কামড় দিত। সেই যন্ত্রণার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নমরুদ একজন লোককে নিয়োগ করেছিল মুগর দিয়ে মাথায় আঘাত করার জন্য। একদিন নিজের নিয়োজিত চাকরের মুগরের প্রচন্ড আঘাতেই নমরুদের মাথা চৌচির হয়ে তার জীবনলীলার ইতি ঘটিয়েছিল।
এর পরবর্তী ধাপে হযরত মুসা (আ) এবং ফেরাউনের মধ্যকার বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ মুসলমানমাত্রেরই কম-বেশি জানা রয়েছে। আল্লাহর অপরিসীম কৃপায় নিজ অনুসারীসহ হযরত মুসা (আ) নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে নীল নদ পাড়ি দিয়েছিলেন চোখের নিমেষে। পক্ষান্তরে সদলবল ও সসৈন্যে ফেরাউনের সলিল সমাধি রচিত হয়েছিল অতল স্পর্শী নীল নদে। আবার হযরত মুসা(আ) এর জ্ঞাতিভ্রাতা মহৈশ্বর্যশালী কারুনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ভয়াবহ পরিণতির কথা কার না জানা আছে। আল্লাহর আদেশ অমান্যের দায়ে যাবতীয় সহায়-সম্পদও দালান-কোঠাসহ কারুনকে গ্রাস করেছিল মাটি। মহাপ্রলয়ের আগ পর্যন্ত ডেড সী বা মৃত সাগর কারুনের করুণ পরিণতির নিদর্শন হয়ে থাকবে।
হযরত লুত (আ) এর আদেশ অমান্য করে তাঁর স্ত্রী, গোষ্ঠী এবং কওমের অনেকেই সমকামিতায় লিপ্ত হয়ে যে জঘণ্য পাপে জড়িয়েছিল তার অপরিহার্য পরিণতির কথা স্মরণ করলে অদ্যাবধি অনেকের অন্তরাত্মা শুকিয়ে যায়। যাহোক, ইতিহাস থেকে জানা যায়, হযরত ইসা (আ) এর জন্মের প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার বছর পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যসহ পরিচিত বিশ্বের বৃহত্তর অংশ অন্ধকারের তামস-তমি¯্রায় সমাচ্ছন্ন ছিল। শিক্ষা-দীক্ষা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোকবঞ্চিত মানবগোষ্ঠী তখন অদৃষ্ট নির্ভর ও নিয়তি লাঞ্ছিত জীবন যাপন করত। অথচ সেই ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগেও প্রাচীন গ্রীসে এক অকল্পনীয় সমাজ ও সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। অসংখ্য জ্ঞানী-গুণী, কবি-সাহিত্যিক- দার্শনিক-নাট্যকার দেশটির সবুজ আকাশের তলদেশে জ্ঞান চর্চায় নিয়োজিত ছিলেন। এ সকল জ্ঞানী-গুণীদের মধ্যমণি ছিলেন প্রাতঃস্মরণীয় দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ সক্রেটীস। ভাস্করের পুত্র সক্রেটীস ছিলেন অত্যন্ত কুৎসিত ও কদাকার, চোখ দুটি বাইরের দিকে ঠেলা দেয়া। অথচ তার গভীর অন্তর্দৃষ্টি এবং প্রজ্ঞার আলোকে ভাস্বর হয়ে উঠেছিল প্রাচীন গ্রীসের আকাশ-বাতাস। জ্ঞান অন্বেষু যুবকরা দলে দলে পিছু নিল মহাজ্ঞানী সক্রেটিসের। কোন আনুষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা গ্রন্থ ভবতি পন্ডিতঃ
পদ্ধতির সুযোগ না থাকায় অধিকাংশ সময় আলোচনা অনুষ্ঠিত হত উন্মুক্ত ময়দানে এবং খোলা আকাশের নিচে। বহুল কথিত সক্রেটিস পদ্ধতি বা নিজস্ব পদ্ধতিতে প্রথিতযশা দার্শনিক সক্রেটিস সুনির্বাচিত ও যুক্তিসিদ্ধ প্রশ্ন এবং উত্তরের মাধ্যমে শিষ্যদের শিক্ষাদান করতেন। অল্পদিনের মধ্যেই সক্রেটিসের সুখ্যাতি দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ল। গ্রীসের তৎকালীন পন্ডিতম্মন্য এবং স্বঘোষিত শিক্ষাবিদগণ প্রতিহিংসার অনলে জ্বলেপুড়ে খাক হতে লাগল। তারাও জ্ঞান অন্বেষণের নামে সক্রেটিসকে হেনস্থা করার নিমিত্ত সংঘবদ্ধ হল। প্রায়শ তারা নানাবিধ প্রশ্নবাণে সক্রেটিসকে বিব্রত করতে চাইত। মৃদুভাষী সক্রেটিস গভীর মনোযোগসহকারে তাদের অর্থহীন বাক্যালাপ শুনতেন এবং পরে সুনির্বাচিত ও যুক্তিসিদ্ধ প্রশ্নের সাহায্যে তাদের অজ্ঞতা ও অন্ধত্বের স্বরূপ সর্বসম্মুখে তুলে ধরতেন। তিনি তথাকথিত জ্ঞানী-গুণীদের কাছ থেকে জানতে চাইতেন প্রাত্যহিক জীবনের অতি পরিচিত প্রেম, ভালবাসা, দয়া, ঔদার্য ইত্যাদি জাতীয় জিনিসগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা ও প্রকৃতি। স্বঘোষিত পন্ডিতগণ নিজ নিজ চিন্তা-চেতনার আলোকে এগুলোর বিশদ-ব্যাখ্যা তুলে ধরার চেষ্টা করত সক্রেটিসের নিকট। তারপর সক্রেটিস বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রশ্নের পর প্রশ্নবানে হামবড়া ও পন্ডিতম্মন্য ব্যক্তিদের জর্জরিত করে তুলতেন। প্রথমে ২-৪টি প্রশ্নের সঠিক জবাব দানে সক্ষম হলেও এক পর্যায়ে তারা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হত। ফলে তাদের অজ্ঞতা, অহেতুক অহমিকা ও জ্ঞানের দৈন্য সর্বসম্মুখে প্রকাশ হয়ে পড়ত এবং তারা চরমভাবে অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হত।
শেষ পর্যন্ত এই পন্ডিতম্মন্য এবং বাকসর্বস্ব জ্ঞানীরা সক্রেটিসের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কুৎসা রটনা শুরু করল। তারা সক্রেটিসকে ধর্মদ্রোহী আখ্যা দিয়ে যুবসমাজকে বিপথগামী করার দায়ে রাজার নিকট অভিযোগ করল। কান্ডজ্ঞানহীন রাজাও সক্রেটিসকে ভবিষ্যত প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে অবিবেচক ও তথাকথিত জ্ঞানপাপীদের পক্ষাবলম্বন করল। অবশেষে ধর্মদ্রোহিতা এবং যুবসমাজকে বিপথগামী করার দায়ে সক্রেটিসের বিরুদ্ধে বিচারের নামে প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করা হল , তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হল এবং হেমলক বিষ প্রয়োগে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের নির্দেশ দেয়া হল। বিচারকদের উদ্দেশ্যে, সক্রেটিস বলেছিলেন, আমার মৃত্যর সময় এসে গেছে। আমাকে মরতে হবে আর তোমরা বেঁছে থাকবে। আর জগদীশ্বরই জানেন আমার মৃত্যু এবং তোমাদের বেঁচে থাকার মধ্যে কোনটা তুলনামূলকভাবে উত্তম।
এরপর কথোপকথনের এক পর্যায়ে শিষ্যপরিমন্ডিত সেলে শায়িত সক্রেটিসের হাতে হেমলকের পাত্রটি হস্তান্তর করা হল। কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত ছাড়াই সক্রেটিস বিষ পান করলেন এবং অস্তগামী সূর্যের মত ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। প্রাণপ্রিয় শিক্ষককে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখে গুণমুগ্ধ শিষ্যরা বুক চাপড়ে আর্তনাদ শুরু করল। সক্রেটিস তাদের ধৈর্য ধারণের পরামর্শ দিয়ে বললেন, আমি বেঁচে ছিলেম বলেই মরছি। মৃতলোক ত আর মরতে পারেনা।
সক্রেটিস তার শিষ্যদের উদ্দেশ্যে বলতেন : মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন অন্যায় করেনা, অন্যায় যা করে তা মূলত অজ্ঞতাবশেই করে। তার মানব জীবনের প্রধান এবং প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত জ্ঞান অনুশীলন করা। তিনি আরও বলতেন, প্রথমে নিজকে চেন,তবেই বিশ্বপ্রকৃতিকে চেনা তোমাদের পক্ষে সম্ভব হবে। সক্রেটিসকে ফাঁসিতে ঝুলানোর ২ বছরের মাথায় বিচারকদের আত্মোপলব্ধি ঘটল। তারা নিজেদের মহাভ্রান্তির প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে সক্রেটিসের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনয়নকারীদের দুজনকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করল এবং কয়েকজনকে গ্রীস থেকে বিতাড়িত করল। অবশেষে সক্রেটিসের সম্মানে নির্মাণ করা হল তাঁর ব্রোঞ্জের প্রতিকৃতি যা অদ্যাবধি শোভা পাচ্ছে গ্রীসের রাজধানী শহর থেকে সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। যাহোক, সক্রেটিসের আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে প্রতিহিংসা এবং ভ্রান্তি জগত থেকে বিদায় নিলে বিশ্বের মানব সম্প্রদায় বহু অনাসৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেত। কিন্তু দুর্ভাগ্য সেই মহাভ্রান্তি ও প্রতিহিংসা আজও জগত থেকে বিদায় নেয়নি।
প্লেটো: সক্রেটিসই ভাব শিষ্য ছিলেন স্বনামধন্য দার্শনিক প্লেটো। ভিন্ন দেশ থেকে গ্রীসে তার আগমন ঘটেছিল সক্রেটিসের কাছ থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শনের জ্ঞান আহরণের স্বার্থে। সক্রেটিস কিছুকাল দেশের বাইরে থাকায় প্লেটো সময় নষ্ট না করে ছোটখাট স্কুল খুলে দর্শন চর্চা শুরু করেন। সক্রেটিসের মৃত্যুর পর তাঁর ভাবশিষ্য হিসেবে প্লেটোর পরিচিতি সর্বত্র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে স্বার্থান্বেষী মহল ও হস্তিমূর্খ জ্ঞানীরা প্লেটোর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও ঊর্ণনাভের মত ষড়যন্ত্রের জালবিস্তার শুরু করে। গুরুর করুণ পরিণতির কথা চিন্তা করে প্লেটো কোন ধরনের ঝুঁকি না দিয়ে গ্রীস থেকে পালিয়ে প্রাণে বেঁচে যান। এক্ষেত্রেও মহাভ্রান্তির অভিশাপ থেকে গ্রীসবাসীর মুক্তি ঘটেনি।
অ্যারিস্টটল: প্লেটোর হাতে গড়া তারই সুযোগ্য শিষ্য বিশ্ববিখ্যাত দার্শনিক অ্যারিস্টটল। জ্ঞান-বিজ্ঞান-দর্শন-সমাজবিজ্ঞান তথা জ্ঞানের সর্বশাখায় তার ছিল সদম্ভ পদচারণা। অ্যারিস্টটলের জ্ঞানের প্রাখর্য এবং প্রশংসা করতে গিয়ে তাঁরই শিষ্য বিশ্ববিজয়ী আলেকজান্ডার বলেছিলেন: টু মাই ফাদার আই ঔ মাই লাইফ, টু অ্যারিস্টটল দ্য নলেজ হাউ টু লিভ ওয়ার্দিলী ( জন্মের জন্য বাবার কাছে আর সার্থক জীবনযাপনের জ্ঞানের জন্য অ্যারিস্টটলের নিকট আমি ঋণী)। অ্যারিস্টটলকেও রাজরোষ এবং প্রতিহিংসার কবলে পড়ে গ্রীস থেকে পলায়ন করতে হয়েছিল বলে জানা যায়।
হযরত ঈসা ( যীশু খ্রিস্ট): মহান আল্লাহর ইচ্ছাতেই বিবি মরিয়মের জঠরে পুরুষের সংস্পর্শ ছাড়া হযরত ঈসা (আ) এর জন্ম হয়েছিল। ইযরত ঈসার জন্মকে কেন্দ্র করে প্রতিহিংসা পরায়ণরা বিবি মরিয়মকে নাজেহাল করতে চাইলে শিশু ঈসাই তার সমুচিত জবাব দিয়েছিলেন। অথচ চোর না শুনে ধর্মের কাহিনী- তাই সন্দেহপরায়ণরা বিবি মরিয়মের খালু হযরত জাকারিয়া (আ) এর উপর অহেতুক দোষ চাপিয়েছিল। কিন্তু মহান আল্লাহর শক্তির নিকট সকল কিছু চরমভাবে মার খাওয়ার পরও শত্রুরা হাল ছেড়ে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত তারা হযরত ঈসা (আ) এর বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ উত্থাপন করে রাজশক্তির সহায়তায় তাঁকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। অথচ আল্লাহর কুদরতে হযরত ঈসা (আ) প্রাণে বেঁচে গেলেন এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনয়নকারীকেই শূলে চড়ানো হল। যুগে যুগে এ ধরনের স্বখাত সলিল রচনার বহু নিদর্শন পাওয়া গেলেও জগত-সংসার থেকে অদ্যাবধি ঔদ্ধত্য ও প্রতিহিংসার পরিসমাপ্তি ঘটেনি।
সূরা ফীল: পুত্র ইসমাইল (আ)কে নিয়ে পবিত্র কাবা গৃহ নির্মাণ শেষে আল্লাহর নির্দেশে ইব্রাহীম (আ) আযান দিয়েছিলেন। সে আযানের ধ্বনি যাদের কর্ণকুহরে স্বয়ং আল্লাহ পৌঁছে দিয়েছিলেন তাঁরাই যুগের পর যুগ পবিত্র কাবাগৃহ তাওফে তথা হজ্বব্রত পালনের জন্য মক্কা উপস্থিত হবেন এবং হয়ে আসছেন। পৌত্তলিক যুগেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। প্রতিহিংসা বশে হজ্ব উপলক্ষে মক্কায় জনগণের আগমনের পথে বাধা সৃষ্টির লক্ষে স¤্রাট আবরাহা কাবাগৃহের অনুরূপ একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিল এবং কুরায়েশ বংশীয় এক ব্যক্তিকে উক্ত মসজিদের ইমাম নিয়োগ করেছিল। এক রাতে উক্ত ইমাম মসজিদের মিম্বরে পায়খানা করে রাতারাতি সে দেশ ত্যাগ করল। এতে আব্রাহা বিক্ষুব্ধ হয়ে বিশাল হস্তিবাহিনী ও দলবল নিয়ে কাবাগৃহ পদদলিত করার জন্য যাত্রা করল। আরাফার ময়দানে আব্রাহার বিশালবাহিনী পৌঁছামাত্রই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পাখির মুখ থেকে ঝরে পড়া শস্যের দানাতুল্য বস্তুর আঘাতে সবকিছু দুমড়ে-মুচড়ে ভুক্ত খড়ের আকৃতি ধারণ করল। আল্লাহর শক্তিমত্তার বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রদর্শনের এহেন সর্বগ্রাসী ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববাসী বিশেষত মক্কাবাসীরা পৌত্তলিকতা পরিহার এবং আল্লাহর একত্ববাদের প্রশ্নে মহানবীর (স) আহ্বানে সাড়া না দিয়ে তার বিরুদ্ধাচারণের মাধ্যমে মহাভুলে জড়িয়ে পড়েছিল। তারা ইসলাম প্রচারে বাধাদান ছাড়াও মহানবী(স) কে সর্বদা নানাভাবে বিব্রত করত, পাগল বলে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করত এবং তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত করেছিল। পৌত্তলিক মক্কাবাসীদের নির্মম-নিষ্ঠুর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আল্লাহর নির্দেশে মহানবী (স) মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও মহানবী (স) এবং শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রতি পৌত্তলিক মক্কাবাসীর প্রতিহিংসা ও ক্ষোভের প্রশমন ঘটেনি। পৌত্তলিকরা ইসলামের সমূল উৎপাটন এবং মহানবী (স) ও সাহাবীদের প্রাণে নিধনের লক্ষে কয়েকটি বড় ধরনের যুদ্ধ বাধিয়েছিল। পৌত্তলিক আরবদের এই মহাভ্রান্তি ও ঔদ্ধত্যের কারণে বিভিন্ন যুদ্ধবিগ্রহে বহু তাজা প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। পৌত্তলিকদের কথা না হয় বাদই দিলাম। ওহুদের যুদ্ধে তীরন্দাজ বাহিনীর প্রতি মহানবীর (স) নির্দেশ ছিল তাঁর হুকুম না পাওয়ার আগ পর্যন্ত কোন অবস্থাতেই নিজেদের সুরক্ষিত অবস্থান ত্যাগ না করতে। প্রথম দফা যুদ্ধে পৌত্তলিকরা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যুদ্ধের ময়দান ত্যাগ করায় তীরন্দাজ বাহিনী ধারণা করেছিল যে মুসলমানদের কাঙ্খিত বিজয় অর্জিত হয়েছে। তাই মহানবীর (স) নির্দেশ অমান্য করে তারা নিজেদের অবস্থান ত্যাগ করল। ফলে পৌত্তলিকদের পাল্টা হামলার মুখে বীর হামজাসহ অসংখ্য সাহাবীর তাজা রক্তে ওহুদের প্রান্তর রঞ্জিত হয়েছিল, মহানবীর(স) দুটি দন্ত মোবারক শহীদ হয়েছিল এবং মুসলমানদের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছিল। উল্লেখ্য, প্রতিহিংসাপরায়ণতা এবং চরম ভ্রান্তির কারণেই ইসলামের তৃতীয় হযরত উসমান (রা) খুন হলেন মুসলমানদের হাতে; হযরত আলী (রা)ও শাহাদাত বরণ করেন একই ভ্রমের খেসারত হিসেবে, আর মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াজিদের নির্দেশে কারবালার মরুপ্রান্তরে মহানবী (স) এর দৌহিত্র হযরত হোসেন (রা) এর শিরচ্ছেদ করেছিল পাপীষ্ঠ নিষ্ঠুর সীমার।
প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ: মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তিতে ১৯৪৭ সালে প্রায় বার শ মাইল ভৌগোলিক ব্যবধানের দুটি রাজ্য নিয়ে গড়ে উঠেছিল পাকিস্তান। অথচ সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্বপাকিস্তানীদের মুখের ভাষা বাংলাকে কেড়ে নেয়ার যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ পদক্ষেপ পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী গ্রহণ করেছিল তারই পরিপ্রেক্ষিতে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে নানা আন্দোলন ও বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল। পরিশেষে সত্তুরের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সত্ত্বেও পিপলস পার্টীর নেতা জুলফিকার আলী ভূট্টোর ভ্রান্ত পরামর্শে সামরিক যান্তা ইয়াহিয়া নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে আলোচনার নামে কালক্ষেপণ ও সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন শেষে পূর্বপাকিস্তানকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। অপারেশন সার্চ লাইটের নির্দেশ দিয়ে ইয়াহিয়া যে মহাভ্রান্তির পথে পা বাড়িয়েছিল তার পরিণতিতে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল। আর সেই অনাকাঙ্খিত মহাপাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে পাকিস্তানে ভ্রাতৃঘাতি সংঘর্ষের ইতি ইহজন্মে ঘটবে বলে ধারণা করা যায়না। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অনলবর্ষী বক্তা, বলিষ্ঠ সংগঠক, দূরদর্শী রাজনীতিবিদ ও নির্ভীক যোদ্ধা। প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করেই তার নেতৃত্বের উদ্ভব ও বিকাশ। অথচ আকাশস্পর্শী প্রজ্ঞাসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু তার একেবারেই কাছের কেউটে খন্দকার মোস্তাকের সহজাত প্রবৃত্তি ও হিংসুটে স্বভাব সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জানতেন না। তাই চাণক্য মোস্তাকের নির্ঘাত পরাজয় জেনে বঙ্গবন্ধু চিরায়ত নিয়ম নীতি লঙ্ঘন করে ভোটের বাস্ক ঢাকায় নিয়ে এসে পুনঃগণনার মাধ্যমে নিজের আজীবনের গৌরবোজ্জ্বল মুখে কলঙ্কের কালিমা লেপন করেছিলেন। দুশ্চরিত্র ও কুলাঙ্গার মোস্তাকের পরামর্শেই বঙ্গবন্ধু তার আজন্মের বিশ্বস্ত সহকর্মী মুক্তিযুদ্ধের সফল নায়ক তাজউদ্দিনের সাথে অনাকাঙ্খিত দূরত্ব সৃষ্টি করে নিজের ও জাতির পতনের স্বখাত সলিল রচনা করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকার ভূমিকা সম্পর্কে পরিপূর্ণ ওয়াকেফহাল হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের জন্য আমেরিকার কাছ থেকে খাদ্য ক্রয়ের চুক্তি করে যে ভ্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তার পরিণতিতে চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষে হাজার হাজার বাংলাদেশী না খেয়ে মারা যাওয়ায় বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছিল। আবার জনমত সৃষ্টি এবং সর্বসাধারণের মধ্যে কোন ধরনের সম্যক ধারণা সৃষ্টির আগেই বাকশালের সূচনাও বঙ্গবন্ধুর বড় ধরনের ভুল হিসেবে বিবেচিত। সর্বমহলে ব্যাপক আলোচনা ও জনমনে বাকশাল সম্পর্কে ধারণা জন্মানোর পর মতবাদটি প্রবর্তন করা হলে তার প্রতিপক্ষ দলগুলো এত তুলকালাম কান্ড সৃষ্টি করতে পারতনা এবং তার জনপ্রিয়তার উপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ত না। সর্বোপরি বঙ্গবন্ধু নিহত হতে পারেন- ইন্ধিরা গান্ধীর এমন সতর্কবার্তাকে সজ্ঞানে উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু নিজেই সপরিজনে মৃত্যুর ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করেছিলেন বললে হয়ত বা অত্যুক্তি হবেনা। এদিকে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের পাল্টা অভ্যুত্থান সম্পর্কেও ধোয়াটে পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় সুবিধেভোগীরা মনের মাধুরি মিশিয়ে ভারতীয় সেনাআগ্রাসনের কাল্পনিক গুজব সৃষ্টিতে সফলকাম হয়েছিল। অন্যদিকে চৌকস খালেদ মোশাররফও ব্যাজ পরা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ভবনে ব্যস্ত থাকায় তার পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছিল এবং সিপাহী-জনতার বিপ্লবের নামে কয়েকজন উৎসর্গীকৃত মুক্তিযোদ্ধা সেনানায়ককে জীবন হারাতে হয়েছিল। যাহোক পরবর্তী ধাপে হাঁ নার অছিলায় ভোটারবিহীন নির্বাচন, এরশাদের মিডিয়া ক্যু, ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, ২০১৪ সালের নির্বাচন, পিস্তলের লাইসেন্স না থাকার অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের ১০ বছরের কারাদন্ড এবং বর্তমানে জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারাদন্ড ইত্যাদির পেছনে কি রহস্য অন্তর্নিহিত রয়েছে তা নিকট ভবিষ্যতই বলে দিবে।
উপসংহারে বলা যায়, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বহু ধরনের নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। নির্বাচনে জামানাত খোয়া যাওয়া বহু রাজনৈতিক নেতা ও হোমরা-চোমরার আস্ফালন বড় ধরনের অশনি সঙ্কেত দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সকল দলের অংশ গ্রহণে অবাধ-সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় জাতি হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে।
সহযোগী সম্পাদক, ঠিকানা।
নিউ ইয়র্ক।