যেভাবে হবেন আত্মবিশ্বাসী

আপনি প্রবেশ করেছেন চাকরির বাজারে। এই বাজারের অন্য চাকরিপ্রার্থীদের পেছনে ফেলতে চাইলে আত্মবিশ্বাস তৈরি করুন। মনে রাখবেন, জীবনযুদ্ধে সবসময় শক্তিমান এবং দ্রুতগামীরা জয়ী হতে পারে না। যিনি আত্মবিশ্বাসে অটল থাকেন; আজ কিংবা কাল তার জয়ই সুনিশ্চিত!
শিল্পোদ্যোক্তার মতে
যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত শিল্পোদ্যোক্তা হেনরি ফোর্ড বলেন, ‘যদি মনে করেন আপনি পারবেন, কিংবা মনে করেন যে আপনি পারবেন না- দুই ক্ষেত্রেই আপনার বিশ্বাসই সঠিক।’ সুতরাং আত্মবিশ্বাস রাখুন আপনি পারবেন এবং আপনাকে দিয়েই হবে!
আশপাশে তাকিয়ে কখনও ভাববেন না যে, অন্য প্রার্থীরা আপনার চেয়ে বেশি যোগ্য কিংবা তারা আপনার চেয়ে অনেক অনেক ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করেছেন, তাদের যোগাযোগ আপনার চেয়ে বেশি- সুতরাং এত বাধা অতিক্রম করে আপনার পক্ষে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ ধরনের চিন্তা মাথায় আশকারা দিতে গেলেই ধরাটা খাবেন। তাই এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। মনে রাখবেন, আপনার সামনে যত বেশি বাধা, তার চেয়েও বেশি সুযোগ অপেক্ষা করে বসে আছে। তা কী করে নিজের ভেতর এই বিশ্বাস তৈরি করবেন? আত্মবিশ্বাস তৈরির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। আপনাকেই আপনার ভেতরের বিশ্বাসটা জাগিয়ে তুলতে হবে। এ জন্য যেসব পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন-
মনের থিতু
সবার আগে মনটাকে স্থির করতে শিখুন। আপনি কী করতে চান, সেটা মনকে বোঝান। মনটাকে স্থির করিয়ে তাকে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলুন এবং সেই পরিকল্পনা ধরে আগাতে থাকুন।
বাড়ান জ্ঞানের পরিধি
আপনার জানার বা জ্ঞানের পরিধি বাড়ান। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহের ওপর নজর রাখুন এবং ঘটনা বিশ্নেষণ করার চেষ্টা করুন। ইতিবাচক চিন্তা করুন। কারণ ইতিবাচক চিন্তা আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে দারুণভাবে ভূমিকা রাখতে পারে। নেতিবাচক চিন্তা মন থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন। এ ধরনের চিন্তা মানুষের হীনমন্যতার জন্ম দেয়।
অতীত অভিজ্ঞতা
অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিন। অভিজ্ঞতা পাঠশালার মতো। এ পর্যন্ত যা অর্জন করেছেন তার সবটুকু কাজে লাগিয়ে বর্তমান সময়ের সিদ্ধান্তগুলো নিন। অতীতের ব্যর্থতাগুলো মন থেকে মুছে ফেলুন। কারণ ব্যর্থতা জীবনেরই অংশ। ব্যর্থতা হচ্ছে মুদ্রার এপিঠ। মনে রাখবেন মুদ্রার অন্য পিঠে আছে সাফল্য।
যোগাযোগ
মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান। যত বেশি মানুষের সঙ্গে মিশবেন, আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলি তত বেশি পূর্ণ হবে। একই সঙ্গে নৈরাশ্যবাদী এবং মন্দ লোকদের সঙ্গ পরিহার করার চেষ্টা করুন। কারণ তাদের দ্বারা আপনিও প্রভাবিত হতে পারেন।
এমন অসংখ্য উপায় অবলম্বন করতে পারেন নিজেকে এগিয়ে নিতে আর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে। সেই আত্মবিশ্বাসই হবে আপনার হাতিয়ার। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই চাকরিদাতার সামনে হাজির হোন, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিন। যেন প্রথম দর্শনেই একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষকে দেখতে পান চাকরিদাতা। আর আত্মবিশ্বাসী ছবিটাই আপনাকে এগিয়ে রাখবে। চাকরিদাতারা আত্মবিশ্বাসীদেরই খোঁজে প্রতিনিয়ত।