রং হেডেড কেবল ইউএনও খসরুই?

মোস্তফা কামাল : Wrong Headed-এর হুবহু বাংলা অনুবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। এরপরও শব্দ ধরে ধরে অর্থ করলে দাঁড়ায় ‘ভুল মাথাওয়ালা’। অভিধানে এর কাছাকাছি কিছু প্রতিশব্দ পাওয়া যায়। যেমন- অবাধ্য, রাগী, একগুঁয়ে, বদমেজাজি, উদ্ভট, তেড়া, দেমাগি, বেয়াদব ইত্যাদি। বাংলাদেশের আদালতেও সময়ে-সময়ে আলোচিত এবং চিহ্নিত এই ‘রং হেডেড’। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-ইউএনও কায়সার খসরু ‘রং হেডেড’ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন উচ্চ আদালতে। বাংলাদেশে আদালত কর্তৃক শনাক্ত রং হেডেড তিনিই প্রথম বা শেষ?
গত ২৪ জুলাই বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে রং হেডেড চিহ্ন দেয়ার পাশাপাশি বলেছে, এই ইউএনওর ভাষা মাস্তানদের চেয়েও খারাপ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নিয়ে খবর প্রকাশের জেরে কক্সবাজারের এক সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনে অশোভন আচরণ করেন ইউএনও কায়সার খসরু। খবরটি এক আইনজীবী আদালতের নজরে আনার পর বেঞ্চ থেকে এই রুলিং দেয়া হয়। নজরে না আনলে কি এই রং হেডেডকে পেতো আদালত?
বিভিন্ন সময় আরো বেশ ক’জনকেই রং হেডেড বলা হয়েছে উচ্চ আদালত থেকে। টেকনাফের ইউএনও সর্বশেষজন। এতে কী হবে বা হতে পারে তার? এরইমধ্যে হওয়ার মধ্যে হয়েছেন ওএসডি-অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি। মানে বসে-বসে বেতন খাওয়া। এর আগে, গণস্বাস্থের ট্রাস্ট্রি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাসহ বিভিন্ন সময়ে আরো যাদের রং হেডেড বলা হয়েছে, কী হয়েছিল তাদের? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও আলোচিত ছিল এ তালিকায়। আদালতের ঘোষণার বাইরেও কি রং হেডেড নেই?
বাস্তবতা হচ্ছে আদালতের শনাক্তের বাইরে রং হেডেডে ভরা বাংলাদেশ। প্রায় সব সেক্টরেই তাদের অবনতির বদলে উন্নতির উদাহরণ ভুরি-ভুরি। সাংবাদিককে পিটিয়ে মৃত্যুর দুয়ার দেখিয়ে আনা, নিজস্ব মোজ-ফূর্তির জন্য সরোবর তৈরি, পাশের রুমে খাট পেতে প্রমোদ করাসহ বিভিন্ন ডিসির কাণ্ডকীর্তির খবর মানুষ জেনেছে। বাবার বয়সী বৃদ্ধকে কান ধরে ওঠবস করানো, কিলঘুষিতে নাক-মুখ ফাটিয়ে দেয়াসহ নানা কর্মে ডিসি, এসপি, এমপি, নেতাসহ আরো কতোজনের নামই এসেছে। ‘চিরকূটের মাধ্যমে’ ভর্তি, টেন্ডার, ক্যাম্পাসে বিউটি পার্লার বাণিজ্য, ছাত্রনেতাদের সঙ্গে মিলেমিশে চাঁদার টাকা ভাগ, স্বজনদের চাকরি দেয়াসহ কতো দুষ্ট কাজের খবর ‘শিক্ষাগুরু’ ভিসিদের নিয়েও। মহামারিতেও টেস্ট জালিয়াতিসহ চিকিৎসাবাণিজ্য, নিত্যপণ্যের দাম চড়ানো, মানুষকে পঁচা মাল খাওয়ানোর মতো কাজে কামিয়াবরা এই সমাজেই বুক ফুলিয়ে ঘোরেন। কতো আদাব-সালামে তেলতেলে হন! তারা কি রাইট হেডেড?
লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন, ঢাকা।