রম্য: পুরুষ আর মানুষ টয়লেট কমন

মোস্তফা কামাল

একসঙ্গে দুটি আন্তর্জাতিক দিবস ছিল গেল সোমবার ১৯ নভেম্বর। দুটি দিবসই বেশ ইন্টারেস্টিং। একটি বিশ্ব পুরুষ দিবস। আরেকটি বিশ্ব টয়লেট দিবস। দুই দিবসের বিষয়, গুরুত্ব, প্রতিপাদ্য সবই আলাদা। কিন্তু একই দিনে পড়ায় একটু লেজে গোবরে হয়ে গেছে। তাৎপর্য বিচারে বিশ্বের দেশে দেশে পালন হয় দিবস দুটি। বাংলাদেশে এখনো সেভাবে জের পড়েনি।
পুরুষ আর নারী নামে মানুষকে আমরা দুই ভাগ করে ফেলেছি বহু আগেই। মহিলা মানুষ, পুরুষ মানুষ বলতে-শুনতে অভ্যস্তও হয়ে গেছি আমরা। বিশ্বে পুরুষ দিবস চালু হয় ১৯৯৮ সাল থেকে। এর পর থেকে বিভিন্ন দেশে দিনটি পালিত হচ্ছে। দায়িত্ব এবং গুরুত্ব বিবেচনায় পুরুষের ক্ষেত্র বিশাল।
পুরুষ মানেই নিশ্চুপ হয়ে সহ্য করে যাওয়া কষ্টের প্রমাণ। পুরুষ মানেই স্তম্ভ। পুরুষ সমাজের একটি ভিত্তি। যাদের ওপর ভর করে সমাজের এক অংশ দাঁড়িয়ে। আরেক অংশের ভর নারীদের ওপর। আবার নিপীড়ন-নির্যাতনের পাল্লা দুদিকেই। সব মেয়েই যেমন সমাজে অবহেলিত নয়, তেমনি সব পুরুষও নয়। থাক সেই আলোচনা। দেখা যাক টয়লেট দিবসের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা।
টয়লেট নারী-পুরুষ দুই পক্ষের জন্যই কমন ও জরুরি। তবে রাস্তাঘাটে টয়লেটের অভাবে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় নারীদের। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পর্যাপ্ত টয়লেট পাওয়া যায় না। এ বাস্তবতায় শতভাগ টয়লেট সুবিধা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়। টয়লেটের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বেশি। বিশেষ করে ভারতে যেখানে প্রায় ৭০ কোটি মানুষের টয়লেট নেই, সেখানে বাংলাদেশের প্রায় সব বাড়িতেই টয়লেট রয়েছে।
২০০১ সালে বিশ্বে টয়লেট ব্যবহার ও স্যানিটাইজেশন সম্পর্কে ক্যাম্পেইন শুরু করে ওয়ার্ল্ড টয়লেট অর্গানাইজেশন-ডব্লিউটিও। সংগঠনটির সর্বশেষ তথ্যমতে, বিশ্বে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মানুষ বর্তমানে সঠিক ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অর্থাৎ বিশ্বের ৪০ ভাগ মানুষ স্যানিটেশন সুবিধার বাইরে। ওয়াটার এইড এবং সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের জরিপের তথ্যমতে, ঢাকা শহরে প্রতিদিন গড়ে ৫৫ লাখ ভাসমান মানুষ চলাফেরা করে। এছাড়া ১২ থেকে ১৫ লাখ মানুষ প্রতিদিন আসা-যাওয়া করলেও তাদের জন্য সঠিক টয়লেটের ব্যবস্থা অপ্রতুল।
এক রিপোর্টে দেখা যায়, রাজধানীর ধানমন্ডি, ভিক্টোরিয়া পার্ক, কলতা বাজার, ফার্মগেট, গুলিস্তানসহ বেশ কয়েকটি এলাকার পাবলিক টয়লেটের অবস্থা করুণ। ঢাকায় আবাসিক-অনাবাসিক, স্থায়ী-অস্থায়ীদের সঙ্গে প্রতিদিন যোগ হয় আরো কয়েক লাখ। যোগ করলে এ সংখ্যা সাকল্যে তিন কোটির ঘরে। বিপুল পরিমাণ এই জনসংখ্যার জন্য নেই পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা। জানা গেছে, দুই সিটি করপোরেশনের টয়লেট মিলে ঢাকায় মোট পাবলিক টয়লেট ৬৯টি। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি পাবলিক টয়লেট নতুনভাবে স্থাপন করা হলেও বিপুল পরিমাণ এই জনসংখ্যার জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে মহিলাদের জন্য নেই এসব পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের পর্যাপ্ত পরিবেশ। নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত এসব পাবলিক টয়লেট নারীবান্ধব নয় বলে প্রচ- দুর্ভোগ পোহাতে হয় নারীদের।
লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন