রম্য: সুশীলরা যূথবদ্ধ সুবোধরা?

মোস্তফা কামাল

সুবোধদের দিন শেষ। সুশীলরা আশা দেখছেন। নানা গালমন্দ, নাকানি-চুবানি, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের পর সুশীলরা হালে পানি পেতে যাচ্ছেন বলে কানাঘুষা বেশ তুঙ্গে। বড় দুই দলই কমবেশি তাদের গিবত করে থাকে। ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে এ গিবতের ঝাঁজটার তীব্রতা বেশি। পাই-পয়সা, ছালবাকলা, চালচুলাহীন ধরনের সম্বোধন প্রায়ই ছোড়া হয় তাদের প্রতি। যদিও বরাবর সুশীল সমাজের বিশিষ্টজনদের ভূমিকা তুলনামূলক আওয়ামী লীগেরই পক্ষে। আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন হওয়ার পেছনেও সুশীলদের অবদান ব্যাপক। পাশাপাশি জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারকে অনেক ব্যাপারে বেকায়দায় ফেলেছিলেন এই সুশীলরা। বিশেষ করে, সিপিডি, আসক এবং প্রশিকা ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে সেই সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে।
সুশীলদের প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হচ্ছে সিপিডি, আসক, সুজন, টিআইবি, বিআইডিএস ছাড়াও কিছু মানবাধিকার সংস্থা। ড. কামাল হোসেন, অধ্যাপক ইউনূস, ফজলে হাসান আবেদ, বদিউল আলম মজুমদার, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রমুখ ডক্টর এই মহলের অন্যতম। একসময় ড. আতিউর, ড. বারাকাতরাও ছিলেন এই কমিউনিটিতে। সরাসরি রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার কোটাভুক্ত হয়ে সুশীল সমাজে একটা ছেদ পড়েছে। এখনকার চিত্র ও হিসাব ভিন্ন। কয়েকজন বাদে অবশিষ্ট সুশীলরা এখন বেশ ফ্যাক্টর। ক্ষমতার রাজনীতিতে সাবজেক্ট-অবজেক্ট হয়ে গেছেন তারা। সামনে সুদিনের আশাও দেখা দিয়েছে। সরকারি মহল থেকে সুশীলদের প্রতি আক্রমণের তির জোরালো হওয়ার কারণ এখানেই।
প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকার ও সরকারি দলের আতিপাতিরাও সুশীলদের সমালোচনা করছেন। নির্দ্বিধায় সুশীলদের মানহানিসহ তাচ্ছিল্য করা কোনো ব্যাপারই নয়। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় তাদের সম্বোধন করেছেন ‘সুশীলবাবু’ নামে। লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, সুশীলদের পক্ষ থেকে এ ধরনের সম্বোধনের প্রতিবাদ বা জবাব দেওয়ার দরকার মনে করা হয়নি। সরকার বা কোনো পক্ষের সঙ্গে বাদানুবাদে তারা সময় নষ্ট করতে চান না। স্টাইলটি অনেকটা ভারতীয়।
একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি ভারতের শাসনক্ষমতায় থাকার পরও হালে এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে এই সুশীল সমাজের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তাদের বিশাল ভূমিকা। সামনে বাংলাদেশেও সুশীলদের সে রকম কিছু একটার লক্ষণ দেখছেন অনেকে। কিন্তু সুবোধদের কী হবে? তারা তো সুশীলদের মতো যূথবদ্ধ নন। তা না হওয়ায় প্রভাব-প্রতাপশালী হতে পারছেন না। সাম্প্রতিক কালিমাখা ও মোবাইল থেরাপিতেও তা পরিষ্কার। শাজাহান ব্রাদার্স আগে ধর্মঘটেই শান্তি নিত। সুবোধ জনগণ তা সহ্য করে যাওয়ার পরিণতিতে এখন কালিমাখা প্রজেক্টের শিকার। কালিমাখার পাইলট প্রকল্প ঠেকানোর সাহস-সাধ্য কোনোটাই নেই তাদের। আরও সহ্য ও শান্তির অপেক্ষায় সুবোধরা।
লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন