রাইফেল হাতে আবার দাঁড়াতে চান স্বর্ণজয়ী শুটার সাদিয়া

স্পোর্টস রিপোর্ট : রাইফেল হাতে আবার দাঁড়াতে চান কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণজয়ী শুটার সৈয়দা সাদিয়া সুলতানা। শুটিংকে আঁকড়ে ধরেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান এই শুটার। দুই মাসের নরক যন্ত্রণা সয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই করছেন সাদিয়া। নতুন করে আবার জীবন শুরু করতে চান। এবার আর ১০ মিটার নয়, ৫০ মিটার রাইফেলে খেলেই ক্যারিয়ারটা শেষ করবেন। গত জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে মুঠোফোনের আলাপে এমনটাই জানালেন এই স্বর্ণকন্যা। গত বছরের ১৫ অক্টোবর আগুনে দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের এসডিইউতে ভর্তি হয়েছিলেন শুটার সাদিয়া। রান্না করার সময় তার গায়ে আগুন লেগে যায়। সঙ্গে সঙ্গে সাদিয়াকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেলে। দুই মাস প্রফেসার আবুল কালাম, প্রফেসর সাজ্জাদ খন্দকার, ডা. দোবিন্দ ও ডা. আমানের পর্যবেক্ষণে ছিলেন তিনি। শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ অপুসহ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সাদিয়ার উন্নত চিকিৎসা হয়। সাদিয়ার বাবা সৈয়দ সরওয়ার আলম, ‘আমার মেয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। যাতে সুস্থ হয়ে আবার শুটিংয়ে ফিরতে পারে। সাদিয়াকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা দেখছেন। সেই সঙ্গে ডা. তৌহিদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।’ প্রায় পাঁচ বছর ধরে শুটিং থেকে বিচ্ছিন্ন সাদিয়া। প্রতিযোগিতামূলক শুটিং দূরে থাক, অনুশীলনও করতেন না। চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ির বাসার চার দেয়ালের মধ্যেই অনেকটা বন্দী হয়ে ছিলেন। মাঝেমধ্যে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন শুটিং ক্লাবে গেলেও কোনো হেলদোল ছিল না। গত ১৮ আগস্ট ব্যবসায়ী মো. শাহিনুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় সাদিয়ার। ২০১০ দিল্লিতে কমনওয়েলথ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে স্বর্ণ জিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলেন। শারমিন আক্তার রতœার সঙ্গে জুটি গড়ে দলগতে দেশকে এনে দিয়েছিলেন স্বর্ণের পদক। ওই বছরেই ঢাকা এসএ গেমসে দলগতে স্বর্ণ জয়ের নায়িকা ছিলেন সাদিয়া। ব্যক্তিগত রুপার পদকও ঝুলিয়েছিলেন গলায়। ২০১৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে স্বর্ণ জেতার পর হঠাৎ শুটিং থেকে দূরে সরে যান সাদিয়া। বিভিন্ন কারণে বিষণœতায় ভুগতেন তিনি। কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ জেতার পর চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস) সাদিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিল। সেই ঘোষণা আজও আলোর মুখ দেখেনি। সাদিয়ার বাবা ৩৪ বছর ধরে সিজেকেএসে চাকরি করছেন। এখন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সৈয়দ সরওয়ার আলমের পাঁচ ছেলেমেয়ের সবার জন্ম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের কোয়ার্টারে। হাটহাজারীর এই মানুষটি এখানেই পরিবার নিয়ে কাটিয়েছেন প্রায় ৩১ বছর। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের প্রত্যেকটি ঘাস চেনেন সাদিয়ারা। তার তিন ভাই ব্যাডমিন্টন খেলতেন। বড় ভাই সৈয়দ সাজ্জাদ উল্লাহ সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে ব্যাডমিন্টনে মিশ্র দ্বৈতে স্বর্ণ জিতেছেন। এখন কোচ। মেজো ভাই সৈয়দ সিবাগাত উল্লাহ জাতীয় স্কুল ক্রীড়ায় ব্যাডমিন্টনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টানা দু’বার। এখন অনূর্ধ্ব-১৫ বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন। পঞ্চম শ্রেণী পড়–য়া ছোট ভাই সৈয়দ সাফাই উল্লাহও ব্যাডমিন্টন খেলে। সাদিয়ার ছোট বোন সৈয়দা সায়েমা সুলতানা ২০১২ সালে জাতীয় প্রতিযোগিতায় ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে জুনিয়র বিভাগে ব্রোঞ্জ জেতেন।