রাজধানীতে বাসচাপায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নাদিয়া নিহত

ছবি সংগৃহীত

ঠিকানা অনলাইন : রাজধানীর প্রগতি সরণি এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহত ওই ছাত্রীর নাম নাদিয়া। তিনি নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে প্রথম সেমিস্টারে পড়তেন। তার বাসা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকার চাষাঢ়ায়।

২২ জানুয়ারি রোববার বেলা পৌনে একটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসটি জব্দ করেছে ভাটারা থানার পুলিশ। তবে পালিয়ে গেছেন বাসচালক ও তার সহযোগী।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম আছাদুজ্জামান বলেন, উত্তরার দিক থেকে আসা ভিক্টর বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে মারা যান নাদিয়া।

পুলিশ জানায়, নাদিয়া তার বন্ধু মেহেদী হাসানের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে যমুনা ফিউচার পার্কে এসেছিলেন বেড়াতে। মেহেদী একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়েন।

নাদিয়াদের মোটরসাইকেল যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে পৌঁছালে ভিক্টর পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়, তাতে নাদিয়া সড়কে ছিটকে পড়েন। বাসের চাকার নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন নাদিয়া। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নাদিয়ার সহপাঠীরা। শিক্ষার্থীরা ২২ জানুয়ারি রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর থানাধীন কাওলা এলাকায় বিকেল পাঁচটার দিকে মহাসড়কের উভয় পাশে অবরোধ করেন সহপাঠীরা। এতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পুলিশের অনুরোধে তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের সহপাঠী হত্যার বিচার চাই। বিচারের দাবিতে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করেছি। প্রতিনিয়তই মহাসড়কে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হচ্ছে। এর আগেও শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে নেমে আন্দোলন করেছে, কিন্তু মহাসড়কে মৃত্যু কমেনি। আজ আমাদের সহপাঠীকে হারিয়েছি। কাল হয়তো অন্য কোনো মা-বাবা তাদের সন্তান হারাবেন। আবার সন্তানেরা হারাবেন তাদের বাবা-মাকে। সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল আর কতকাল চলবে।’

বাসচালককে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সড়কে আর কেউ প্রাণ হারাক, তা আমরা চাই না।’

মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীর আন্দোলন প্রসঙ্গে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল হক মিঞা বলেন, ‘নাদিয়া নামের এক ছাত্রী বাসচাপায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন। পরে পুলিশ গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’

ভাটারা থানার সার্ভিস ডেলিভারি অফিসার এএসআই আকলিমা খাতুন বলেন, ‘নিহত ছাত্রীর মরদেহ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

ঠিকানা/এনআই