রাজধানীতে শতবর্ষী হাট

রাজধানী ডেস্ক : আবাসিক এলাকার ছিমছাম পরিবেশ। আধুনিক ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা সারি সারি ভবন। সুন্দর পিচঢালা পথ। এর মাঝে এত ভিড় কেন? প্রশ্ন করে জানা গেল, হাট বসেছে এখানে। বলে কী, মাথা ঠিক আছে তো হাট এই রাজধানী ঢাকায় আমাদের চমকে দিয়ে এ হাটের দোকানিরা আরও জানাল, গত একশ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে এ হাট বসছে। স্থানীয় ভাষায় ‘মেরাইদ্যা হাট’। নড়াই নদীর পাড়ে নৌকায় পণ্য নিয়ে হাজির হন হাটুরেরা। এখন নদী শুকিয়ে খাল হয়েছে, নৌকার বদলে ভ্যানগাড়িতে আসে পণ্য। কিন্তু সেই হাট টিকে রয়েছে। বনশ্রী আবাসিক এলাকার জে বøকে রামপুরা খালের ধারে বসে এ হাট। বিশ্বাস না হলে ঘুরে আসতে পারেন। প্রতি বুধবার এক জমজমাট হাট বসে এখানে। শত শত দোকান, হাজার মানুষের এমন গমগমে হাট গ্রামের হাট ছাড়া দেখার সৌভাগ্য আর হয় না।

জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনের মধ্যবর্তী সময়ে জমিদার জানকি বল্লভ এ হাটটি প্রতিষ্ঠা করেন। একসময়ের নড়াই নদীকে সবাই এখন ‘রামপুরা খাল’ নামেই চেনেন। হাতিরঝিলের শেষ সীমানায় রামপুরা ব্রিজের নিচ থেকে এই নড়াই নদী তথা রামপুরা খালের শুরু। যা আফতাবনগর-বনশ্রীর মাঝ দিয়ে আরও পূর্বে গিয়ে বয়ে গেছে। তবে, স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটের মূল অংশ দখল করে সেখানে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

আব্দুল খালেক গত ৪০ বছর ধরে এ হাটে বাঁশের তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় ডালা, পাটি সাজিয়ে বসেন। তিনি বললেন, আমি স্বাধীনতার পর থেকে এখানে ব্যবসা করি। বাপ-দাদার কাছে শুনেছি তারাও আসত এ হাটে। তখন আরও বেশি জমজমাট ছিল।

তিনি জানান, নড়াই নদী তীরবর্তী এ স্থানটিতে একটি বড় বটগাছ এবং তার পাশে বিশাল এক পুকুর ঘিরেই বসতে শুরু করে হাট। দূর-দূরান্ত থেকে নৌকায় করে হাটুরেরা এ হাটে আসত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে খুব জনপ্রিয় এ হাট। আশপাশের এলাকার অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে এ হাটে। কেউ আসেন পণ্য নিয়ে। অনেকেই আসেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে। তবে, স্থানীয়দের কাছে এ হাট সাপ্তাহিক কেনাকাটার এবং একই সঙ্গে দলবেঁধে আড্ডা ও ঘোরাঘুরির হাট হিসেবেও জনপ্রিয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মীর হোসেন বললেন, একসময় জলদাসরা মাছ ধরে এনে এখানে নদীর ধারে মাছ বিক্রি করত। সেখানে থেকেই হাটের উৎপত্তি। দিনে দিনে হাটের আকার বাড়তে থাকে। তিনি জানান, হাটের বয়স নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। তবে, একশ বছরের বেশি হবে এটা ধরে নেওয়াই যায়। এখানে আমাদের তিন পুরুষ ধরে এ হাটের কথা শুনে আসছি।

একসময় মেরাদিয়া হাট পুরানো ঢাকার জমিদার জানকি বল্লভ দত্তের তালুক ছিল। হাট ছাড়াও মেরাদিয়া এলাকার শত শত একর জমির বন্দোবস্তকারী ছিলেন ওই জমিদার। সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) জরিপে জানকি বল্লভ দত্তের নাম রয়েছে। তিনি প্রজাদের কাছে জমি পত্তন দিয়ে খাজনা আদায় করতেন। ১৯৭২ সালে এক গেজেটে ওই জমি সাধারণের হাট হিসেবে উল্লেখ করা হয়।