রাজনীতিতে প্রিয়াঙ্কার আগমন যে কারণে

জয়ন্ত ঘোষাল : ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতের কংগ্রেস রাজনীতিতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর আনুষ্ঠানিক যোগদান নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় চলছে। কেনো এই রাজনৈতিক মুভ? কী এর প্রতিক্রিয়া? এসব প্রশ্ন সামনে আসছে, আর তা নিয়েই চলছে জোর আলোচনা।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী চাননি ভোটের আগে এখন থেকেই রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা এ দুটি অস্ত্রই একসঙ্গে ব্যবহার হোক। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও প্রথমে তার বড় ছেলে সঞ্জয় গান্ধীকেই রাজনীতিতে এনেছিলেন। সঞ্জয়ের মৃত্যুর পর তিনি ছোট ছেলে, পেশায় পাইলট, রাজীব গান্ধীকে নিয়ে আসেন। এখন তাহলে ভাই-বোন দুই শক্তিশালী রাজনৈতিক অস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করা হবে কেনোÑ সে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
জবাবে কংগ্রেস সূত্রে বলা হচ্ছে, প্রথমত, সাংগঠনিক রাজ্যওয়ারি গবেষণা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে মোদির মোকাবেলায় এখনো এককভাবে রাহুল গান্ধী সম্পূর্ণ সফল হচ্ছেন না। দ্বিতীয়ত, উল্টর প্রদেশের মতো বড় রাজ্যে দুটি আঞ্চলিক দলের নেতা, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং বহুজন সমাজ পার্টি মায়াবতীর জোট হলেও সেখানে তারা কংগ্রেসকে সঙ্গে নেয়নি। তারা শুধু কংগ্রেসকে দুটি আসন দিতে রাজি হয়েছে। এতে বিপদ বেড়েছে রাহুল গান্ধীর। উল্টর প্রদেশে কংগ্রেসের অবস্থান বেশ দুর্বল (চতুর্থ)। জাতপাতের সমীকরণ মায়াবতী-অখিলেশের, অন্যদিকে বিজেপির আছে হিন্দুত্ববাদের ভোট। তাহলে কংগ্রেস কী করবে? এখন প্রিয়াঙ্কাকে আনায় এবং ‘অসুস্থ’ সোনিয়া যদি অবসর নেন, তাহলে সে স্থানে যদি প্রিয়াঙ্কা ভোটপ্রার্থী হন, তাহলেতো প্রিয়াঙ্কা ফ্যাক্টর দিয়ে ঝড় তোলা সম্ভব হতে পারে।
গান্ধী পরিবারের অর্থাৎ রাজীব গান্ধীর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা। দাদি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তার মুুখের আদলে মিল আছে। উল্টর প্রদেশে কংগ্রেসের হৃতগৌরব ফিরে পেতে যদি প্রিয়াঙ্কাকে ব্যবহার করা সম্ভব হয়, তাহলে নরেন্দ্র মোদির মতো শক্তিশালী নেতাকে সরাতে ‘ভাই-বোন’ দ্বৈত শক্তিকে ব্যবহার করতে দোষ কোথায়?
তাছাড়া প্রিয়াঙ্কার স্বামী রবার্ট ভদ্রর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়। গুজব আছেÑ ভোটের আগে সরকার তাকে হরিয়ানার মতো রাজ্যে জমি কেনাবেচার কেলেঙ্কারিতে ফাঁসিয়ে গ্রেফতার করতে পারে। এখন প্রিয়াঙ্কা নিজেই রাজনীতিতে এসে যাওয়ায় সরকার কোনো ব্যবস্থা নিলেও কংগ্রেস ঝাঁপিয়ে পড়বে প্রচারে। বলা হবে, প্রিয়াঙ্কা রাজনীতিতে এসেছেন, তাই এই অভিসন্ধিমূলক রাজনীতি ও ষড়যন্ত্র হচ্ছে!
প্রিয়াঙ্কা আসলে শুরু থেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে উৎসাহী ছিলেন। সমস্যা একটাই, প্রিয়াঙ্কা আসতে না আসতেই এতো বেশি প্রচার তার পক্ষে শুরু হয়ে গেছে যে, তা রাহুল গান্ধীর জন্য অস্বস্তিকর। এ সুযোগে বিজেপি এখন চেষ্টা করছে রাহুল আর প্রিয়াঙ্কার মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে; কিন্তু কংগ্রেসও প্রিয়াঙ্কার নাম ঘোষণা করলেও ধীরে ধীরে তাকে পিছিয়ে দিয়ে আবার রাহুলকেই সামনে এগিয়ে আনছে। একটি দলে নেতা একজনই হয়। একজন মোদি, একজন মায়াবতী, একজন মমতা। কংগ্রেসে এর ব্যতিক্রম হয় কী করে?