রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার প্রাথমিক ইন্টারভিউ প্রসঙ্গে ইমিগ্রেশন অফিসার

মোহাম্মদ এন মজুমদার

সাধারণত আবেদনকারীর আবেদন তথা ও-৫৮৯ এবং এর সাথে দেওয়া স্টেটমেন্ট ও সত্যতা, আবেদনকারীর মৌখিক বক্তব্য, আবেদনের সাথে দেওয়া এবং আবেদনকারীর সঙ্গে থাকা তথ্য প্রমাণাদির সার্বিক বিবেচনায় আবেদনটি বিবেচনা ও মঞ্জুর-নামঞ্জুর করা হয়ে থাকে। এমনকি অনেক সময় শুধুমাত্র আবেদনকারীর দেওয়া বক্তব্যকেই বিশ্বাসযোগ্য মনে করে আবেদন মঞ্জুর করা হয়। আবার হাজার সাক্ষাৎ ডকুমেন্ট তথা, পত্র-পত্রিকায় আবেদনকারী অত্যাচারিত হওয়ার ঘটনা, নির্যাতিত হওয়ার তথ্য, ডাক্তার সাইকোলোজিস্ট এবং রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারীর বক্তব্য ও এর সাথে দেওয়া তথ্যাদির সাথে সামঞ্জস্যের অভাবেও আবেদন নামঞ্জুর হতে পারে। আবেদনকারীর দেওয়া আবেদন তথ্য ও অন্যান্য সাক্ষাৎ মূল্যায়ন অথবা অবমূল্যায়নের সম্পূর্ণ এখতিয়ার ইমিগ্রেশন অফিসারের। অসম্পূর্ণ ও অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য, সাক্ষ্য ও প্রমাণাদির অভাব, বক্তব্য ও তার সাথে দেওয়া ডকুমেন্টের গরমিল ইত্যাদি বিভিন্ন কারণেই অথবা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার নেহায়েত ইচ্ছার কারণেই আবেদন নামঞ্জুর হতে পারে এবং আবেদনকারীকে আদালতে হাজির হতে বলা হতে পারে। তবে, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা ইচ্ছা করলে আবেদনটি একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট হিসেবে গণ্য করে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদনও দিতে পারেন। তবে বাস্তবে তা খুব কমই দেখা যায়। সাধারণত, আবেদন নামঞ্জুর হলে ইমিগ্রেশন কোর্টে পাঠানো হয়। ইমিগ্রেশন অফিসে প্রয়োজনে ইন্টারভিউয়ের সময় আবেদনকারী প্রয়োজনে নিজ খরচে ইন্টারপ্রিটার নিতে পারেন তবে ইন্টারপ্রিটার আবেদনকারীর বক্তব্যই হুবহু ইংরেজিতে তুলে ধরেন আবেদনকারীর ইন্টারপ্রিটার এবং আইনজীবী অতিরিক্ত কোনো সাহায্য করতে পারেন না। আবেদনকারীকে নিজেই তার বক্তব্য উপস্থাপন করতে হয়। তবে আবেদন প্রক্রিয়া, তথ্য ও প্রমাণাদির সাথে আবেদনকারীর বক্তব্য তুলে ধরতে আবেদনকারীকে সাহায্য করতে পারেন ইমিগ্রেশন আইনে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ল ফার্ম। বিএনপি দলীয় আবেদনকারীরা বিএনপি একটি প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, এ দলের রয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের উদাহরণ, বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন নয়- এ মর্মে দেওয়া বিভিন্ন আদালতের রায় ও অভিমতও এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সহায়তা করতে পারে।
লেখক পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল সেন্টার থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে কর্মরত আছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকা-ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি বিজ্ঞ প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা ও ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন। তিনি এখন থেকে নিয়মিত ঠিকানার পাঠকদের জন্য লিখবেন।