রাশিয়ায় ৭১ আরোহীসহ বিমান বিধ্বস্ত

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : রাশিয়ায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি ৭১ জন আরোহীসহ একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় সারাতভ এয়ারলাইন্স পরিচালিত বিমানটি উড্ডয়নের পাঁচ-ছয় মিনিটের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ হারায়। আরোহীদের মধ্যে কারো বাঁচার সম্ভাবনা নেই বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর এএফপি ও আরআইএ।
দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি মস্কো থেকে কাজাখস্তান সীমান্তবর্তী ওরস্ক শহরে যাচ্ছিল। বিমানে ৬৫ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলেন। মস্কোর দমদেদভো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যে বিমানটি রাডারের বাইরে চলে যায়। এর আগে সেটি ভূমি থেকে ৬ হাজার ৪০০ কিলোমিটার উপরে অবস্থান করছিল। এ সময় বিমানের গতি ছিল ঘণ্টায় ৪৬০ কিলোমিটার।
সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স বলেছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি মস্কোর বাইরে রামেনস্কি এলাকায় আছড়ে পড়ে। জায়গাটি মস্কো থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে আরগুনভো গ্রামের কাছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিমানটিকে জ্বলন্ত অবস্থায় ওপর থেকে পড়তে দেখার কথা সাংবাদিকদের জানান। বিমানের ৭১ জন আরোহীর বাঁচার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে রাশিয়ার জরুরি বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে।
রুশ টেলিভিশন বিমান ভূপতিত হওয়ার স্থানটির ভিডিও সম্প্রচার করেছে। এতে বরফাবৃত এলাকায় অনেকদূর পর্যন্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কয়েকদিন ধরে রাশিয়ায় রেকর্ড তুষারপাত হচ্ছে। এ কারণে দৃষ্টিগ্রাহ্যতা অনেকাংশে কমে এসেছে।
বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজের নির্মাতা রাশিয়ার আন্তনভ অ্যারোনটিকস কোম্পানি। মাত্র সাত বছর আগে নির্মিত হয় এএন-১৪৮ মডেলের এ উড়োজাহাজ। গত বছর স্থানীয় এক অপারেটরের কাছ থেকে সারাতভ এয়ারলাইন্স এ উড়োজাহাজটি কিনেছে। রাশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী বিমান বিধ্বস্তের স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ খতিয়ে দেখছে পরিবহন মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে আবহাওয়া পরিস্থিতি ও বৈমানিকের ভুল। সরকারি কৌঁসুলিরা এ বিষয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারিই তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।
রুশ গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, বিমানটি যেখানে পড়েছে সেখানে গাড়ি নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। উদ্ধারকর্মীরা হেঁটে ঘটনাস্থলে গেছেন। দেড়শ উদ্ধারকর্মীকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে রাশিয়ার ইমার্জেন্সি সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাশিয়ায় বেশ কয়েকটি বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সেদেশের অপারেটররা প্রায়ই বহরের পুরনো বিমান পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর আগে নভেম্বরে একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় ছয়জন মারা যান। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার বিখ্যাত রেড আর্মি কয়্যারের সদস্যদের নিয়ে সিরিয়া যাওয়ার পথে বিধ্বস্ত হয় একটি সামরিক বিমান। ৯২ আরোহীর সবাই মারা যান ওই দুর্ঘটনায়।