রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতিতে যুক্তরাষ্ট্র : ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ

ঠিকানা ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ গত ডিসেম্বরে আশঙ্কাকে ছাড়িয়ে গেছে। যা ২০০৮ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। দৃঢ় অভ্যন্তরীণ চাহিদার ফলে আমদানি রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যাওয়ায় এ ঘাটতি হয়েছে। ফলে বেশ কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনা করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে। খবর রয়টার্স।
মঙ্গলবার বাণিজ্য বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, উচ্চমাত্রার আমদানির ফলে বেড়ে যাওয়া বাণিজ্য ঘাটতির কারণে বছরে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়টি কঠিন হতে পারে। পাশাপাশি আশঙ্কা করা হচ্ছে, জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কর কর্তন প্যাকেজের কারণে আমদানি আরো বেড়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে এমন একসময় এ কর কর্তনের সিদ্ধান্তটি কার্যকর হচ্ছে, যখন অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান প্রায় পরিপূর্ণ। এর ফলে যে বাড়তি চাহিদা দেখা দেবে, তা মেটাতে হলে আরো বেশি আমদানির প্রয়োজন হবে।
নিউইয়র্কের আরডিকিউ ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ জন রাইডিং বলেন, যখন একটি অর্থনীতিতে পূর্ণ কর্মসংস্থান থাকে, তখন চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত আমদানি প্রবৃদ্ধি দেখা যায় এবং এর ফলে ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি সৃষ্টি হয়।
গত ডিসেম্বরে বাণিজ্য ঘাটতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৫ হাজার ৩০১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। বাণিজ্য ঘাটতির আংশিক কারণ ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি।
বছরওয়ারি হিসাবে ২০১৭ সালে বাণিজ্য ঘাটতি ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৫৬ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ। এটি জিডিপির ২ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে এ হার ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ২০১৭ সালে ৮ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৩৭ হাজার ৫২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার গৃহীত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় সব অন্যায্য আমদানি বাতিল এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে এমইউএফজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস রুপকে বলেন, বাণিজ্য চুক্তিগুলো পুরোপুরি অন্যায্য নয়। ভুললে চলবে না যে, মার্কিন কোম্পানিগুলো দেশের বাইরে পণ্য অ্যাসেম্বল করে এবং এরপর সেগুলো দেশে আনে, যা পণ্যের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার সমস্যা।
ডিসেম্বরে পণ্যের আমদানি ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২১ হাজার ৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ সময় খাদ্য, মূলধনী ও ভোক্তাপণ্য আমদানির নতুন রেকর্ড হয়েছে। ওষুধ প্রস্তুতের জন্য পণ্যের আমদানি বেড়েছে ১৮০ কোটি ডলার। মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য গৃহস্থালি পণ্যের আমদানি বেড়েছে ১৭০ কোটি ডলার। অন্যদিকে মোটরগাড়ির আমদানি ১১০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।
দৃঢ় অভ্যন্তরীণ চাহিদার ফলে আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিন বছরের বেশি সময় পর চতুর্থ প্রান্তিকে এ চাহিদায় সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায়ও আমদানির খরচ বেড়ে গেছে। অপরিশোধিত তেলের বর্তমান গড়মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৫২ দশমিক ১০ ডলার, যা ২০১৫ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
চীন থেকে পণ্য আমদানির পরিমাণ ৭ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার কানাডা ও মেক্সিকো থেকেও পণ্য আমদানি হ্রাস পেয়েছে।
ডিসেম্বরে পণ্য রফতানি ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। বেসামরিক বিমান এবং শিল্পযন্ত্রের রফতানি বাড়ায় মূলধনীপণ্যের রফতানিও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
শিল্পসংক্রান্ত সরবরাহ ও উপাদানেরও রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালের আগস্টের পর পেট্রোলিয়ামের রফতানি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ডলারের দরপতনে আন্তর্জাতিক বাজারের যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যগুলোর অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে।
ডিসেম্বরে চীনে রফতানি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য ঘাটতি ডিসেম্বরে ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।