রোহিঙ্গাদের সমর্থনে শিকাগোয় সমাবেশ

শিকাগো থেকে সংবাদদাতা : শিকাগো শহরের শেখ মুজিব ওয়ে সংলগ্ন ডিভান এভিনিউতে ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের সমর্থনে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন আমেরিকান সিনেটের উপনেতা ডিক ডারবিন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন কংগ্রেসমেন জেন সাকুস্কি। তিনি কংগ্রেসের দক্ষিণ এশিয়া কমিটির প্রধান। সিনেটর ডিক ডারবিন তার ভাষণে বলেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে অনেক বড় মানবতার কাজ করেছেন। বাংলাদেশের মত জন বহুল দেশের জন্য এটা বিরাট সমস্যা। তিনি তাঁর সাধ্য অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে কাজ করে যাবেন। এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার জন্য জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক বিশ্বকে আহবান জানান। জেন সাকুস্কি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে অসম্ভব প্রশংসিত হয়েছে। তিনি গত বছর মিয়ানমার ও বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

অনারারি কন্সাল মুনীর চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অবদান কতটা স্বীকৃত সেটা প্রভাবশালী এই দুই নেতার বক্তব্য থেকে অনুধাবন করা যায়। অনেকেই বলবেন আশ্রয় না দিয়ে বাংলাদেশের উপায় ছিলো না। উপায় ছিলো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবিক কারণে সেটি প্রয়োগ করেননি। আমেরিকা বা ইউরোপের ধনী ধনী দেশ রিফুজি ঠেকানোর অনেক কায়দা প্রয়োগ করছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় ধর্মীয় কারণে নয়, বরং এদের গণহত্যা থেকে বাঁচানোর জন্য। তিনি বলেন, যেকোন ধর্মের, যেকোন জাতির মানুষ অত্যাচারিত হলে তাদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো একটি উন্নত মানসিকতার পরিচায়ক। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের নিজেদের খাওয়া থাকা নিয়ে সমস্যা, ওদের পালবে কীভাবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খাবার ভাগ করে হলেও ওদের আশ্রয় দিতে অটল ছিলেন। এখন অনেকেই বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কারণে কক্সবাজারে অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রোহিঙ্গাদের খাওয়া পড়া দেওয়ার জন্য অনেক আর্ন্তজাতিক সংস্থাই কাজ করছেন। তিনি বলেন, স্থানিয়দের কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু নিজের কষ্ট স্বীকার করে অন্যের উপকারকেই উদারতা বলে। বাংলাদেশ সেই উদারতা দেখাচ্ছে। মিয়ানমারের উপর সবচেয়ে বেশী প্রভাব চীনের। এই মুহুর্তে চীন ও আর্ন্তজাতিক স¤প্রদায়কে বুঝিয়ে রাজি করানো ছাড়া বাংলাদেশের আর বিকল্প পথ নেই। সমাবেশ থেকে সবাই এই কথাই জোর দিয়ে বলেছেন।