রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আরও ১০০ কোটি ডলার চাইল জাতিসংঘ

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গাকে সহায়তার জন্য গত ১৬ মার্চ নতুন করে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা চেয়েছে জাতিসংঘ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো। এ অর্থ সহায়তা গত অক্টোবরে চাওয়া ৪৪৩ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত। জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ দিকে লাখো রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার কথা অবশেষে স্বীকার করেছে মিয়ানমার।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতিসংঘের মতে, চলতি বছর রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দানকারীদের জরুরি সহায়তার জন্য ৯৫১ মিলিয়ন ডলার তহবিল গঠনের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এ সহায়তার মধ্যে রয়েছে খাদ্য, সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, শিক্ষা কেন্দ্র নির্মাণ ও আসন্ন বর্ষা মৌসুম মোকাবেলা। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও এনজিও মিলে প্রায় শ’খানেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ আর্থিক সহায়তার আবেদন জানাতে শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি, ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) প্রধান এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গত ১৬ মার্চ জেনেভায় এক বৈঠকে মিলিত হন।

পরে ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যারা মানবিকতা দেখিয়ে দরজা খুলে দিয়েছে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদাপন্ন দেশহীন শরণার্থী, যাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংকট শুরু হওয়ার আগে আসা লোকজনও রয়েছেন; তাদের সবার জরুরি প্রয়োজন বিষয়ে আমরা এখানে কথা বলছি।

যেসব খাতের জন্য তহবিল : আবেদিত নতুন তহবিলের শতকরা ৫৪ ভাগ খাদ্য, বাসস্থান, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও অন্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা হবে। তাদের হিসাবে শরণার্থীদের জন্য দৈনিক ১ কোটি ৬০ লাখ লিটার খাবার পানি ও প্রতি মাসে ১২ হাজার ২০০ টন খাদ্যসামগ্রী প্রয়োজন। এ সহায়তা থেকে প্রায় ২০০ স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ৬ লাখ ১৪ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর জন্য ৫ হাজার শিক্ষা কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা শিশুর রাখাইনের সহিংসতার ভীতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ট্রমা সেন্টারও খোলা হবে এ সহায়তা থেকে।

জাতিসংঘের মতে, বর্তমান জরুরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা এবং রোহিঙ্গাদের চলমান দুর্দশা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে। দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা ভূমিধস ও বন্যার হুমকিতে রয়েছে; যা বর্তমান পরিস্থিতির ওপর একটি দুর্যোগ হিসেবে দেখা দিতে পারে। এসব সংকটের সমাধান রয়েছে মিয়ানমারে। সে ক্ষেত্রে সব শরণার্থীর প্রত্যাবাসনের যুক্তি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

লাখো রোহিঙ্গা পালানো কথা স্বীকার মিয়ানমারের : রাখাইনের প্রাদেশিক সরকারের সচিব টিন মং সোয়ে বলেছেন, ২৫ আগস্টের পর থেকে প্রায় ৫ লাখ ৩৫ হাজার মুসলমান মংডু ছেড়ে পালিয়ে গেছে। মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রথম এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করা হলো। রেঙ্গুন থেকে বিবিসি বার্মিজ বিভাগের সংবাদদাতা স ইয়েন নাইং জানান, রাখাইন রাজ্য সরকারের সচিব গত ১৬ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাখাইন রাজ্য সরকারের সচিব বলেছেন, ৫ লাখেরও বেশি ‘মুসলিম রিফিউজি’ বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। গত বছরের আগস্ট মাসের শেষ দিকে আরসা (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি)-এর আক্রমণের পর তারা পালিয়ে যায়।’ রাখাইনের আঞ্চলিক সরকারের এ সচিব জানান, গত বছরের বছর ২৫ আগস্টের আগে রাখাইনে ‘প্রায় ১০ লাখ ৫ হাজার মুসলিম’ ছিল। এখনও রাখাইনে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার মুসলিম রয়েছে। তবে জাতিসংঘের হিসেব মতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ।