শপথ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করলেন জামায়াত আমির

ছবি সংগৃহীত

ঠিকানা অনলাইন : নতুন করে আমির নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীকেও স্মরণ করেন।

১৮ নভেম্বর শুক্রবার রাজধানীর একটি মিলনায়াতনে জামায়াত আমির হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ গ্রহণ পরবর্তী বক্তব্যে এই নেতাদের স্মরণ করেন জামায়াত আমির। এ সময় জামায়াতের সাবেক আমির ও সেক্রেটারি জেনারেলদেরও স্মরণ করেন তিনি।

জামায়াত আমির তার বক্তব্যে বলেন, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে স্থান লাভ করেছে, আমি তাদের গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করছি। দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, জুলুম-নির্যাতন বরণ করেছেন এবং এই আন্দোলন করতে গিয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করছি।

সম্প্রতি ২০২৩-২৫ কার্যকালের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৫-৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দলটির সদস্যদের ভোটে এ নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে আবারও আমির নির্বাচিত হন ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার রাজধানীর একটি মিলনায়াতনে পুনর্নির্বাচিত আমিরের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া শপথ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ।

এরপর পুনর্নির্বাচিত আমিরকে শপথ পাঠ করান আমির নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার মওলানা এটিএম মাছুম। শপথ গ্রহণ শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

আমির হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শফিকুর রহমান ২০২৩-২৫ কার্যকালের জন্য কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

এ সময় জামায়াত আমির বলেন, দেশ আজ এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে। আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। ভোটাধিকার বলতে কিছু নেই। দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই সরকারের আমলে দফায় দফায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়ে তা জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছে। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিও করেন তিনি।

ঠিকানা/এনআই