শপথ না নিলে ৩ মাসের মধ্যে ৭ আসনে নতুন নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিনিধি : বিএনপি ও তার ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী সাতজনের শপথ গ্রহণ নিয়ে ফ্রন্টে মতদ্বৈধতা দেখা দিয়েছে। জাতীয় ঐক্যজোটের প্রধান ড. কামাল হোসেন ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে দ্রুত নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি করলেও তাদের এমপিরা শপথ নেবেন কি না সুস্পষ্টভাবে বলেননি। এরই মধ্যে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্পিকার নবনির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ করাবেন। কোনো কারণে কোনো সদস্য এদিন শপথ নিতে না পারলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে শপথ নিতে পারবেন। এই সময়েও শপথ না নেওয়া নির্বাচিত ব্যক্তিদের আসন শূন্য ঘোষণা করে পুনর্নির্বাচনের জন্য সিইসি লিখিতভাবে জানাবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবারই নির্বাচিতদের শপথ অনুষ্ঠান হবে। গেজেট প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে শপথ গ্রহণের সুযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশন বেশি সময় না দিয়ে দ্রুত তা সম্পন্ন করার পক্ষে। ড. কামালের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির আইনজীবী নেতারা গেজেট প্রকাশ ও শপথ অনুষ্ঠানের স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করতে পারেন। তারা ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিট দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বিএনপি সূত্রে জানা যায়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অভিযোগ করা হয়, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে সরকারি দল ভোট ডাকাতির মাধ্যমে বিএনপিকে হারিয়ে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছে। তাদের মতে, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত নির্বাচন করা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের অফিসে অনুষ্ঠিত ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেও একই অভিযোগ করা হয়। শপথ অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণার পর পরই আদালতে তার স্থগিতাদেশ চেয়ে রিট করার বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে। সরকার সে সুযোগ দিতে চাচ্ছে না বলেই দ্রুত শপথ অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছে।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হয়েছে বলে উল্লেখ করে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। দ্রুত গেজেট আকারে ফলাফল প্রকাশ করেছে এবং শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বিএনপি ও তার সহযোগীরা ভোট ডাকাতির অভিযোগ করলেও নির্বাচন কমিশন ও সরকার একে ভিত্তিহীন বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। আওয়ামী লীগ মনে করে, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পক্ষে দেশবাসী রায় দিয়েছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অসাম্প্রদায়িক শক্তির বিপক্ষে ভোটার সাধারণের দৃঢ় অবস্থানেরই প্রতিফলন এই গণরায়। ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, কানাডার পর্যবেক্ষক দল, ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম, সার্ক মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। বরং তারা এই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বলে উল্লেখ করে।
নির্বাচনে পরাজিত দল প্রশ্ন তুলে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক বক্তব্য, অভিযোগ করলেও কোনো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। তারা যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। এদিকে নির্বাচনে বিজয়ী কোনো কোনো প্রার্থী ও দলের কোনো কোনো অংশ শপথ গ্রহণের পক্ষে। বিএনপি দলগতভাবেই শপথ গ্রহণের বিপক্ষে। দলের বিজয়ীদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে লিখিত রাখা হবে। এখনই শপথ না নিয়ে কিছুদিন তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চায়। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয় ও ফলাফল প্রত্যাখান করার পর দলীয় নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ ও সংসদে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে বলে বিএনপি শপথ না নেওয়ারই পক্ষে। তবে ড. কামাল কিছু সময় নেওয়ার পক্ষে বলে জানা যায়।
জানা যায়, বিএনপি ও গণফোরামের নির্বাচিত সাতজন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করলে তাদের নির্বাচনী এলাকায় পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠান করা হবে। শারীরিক অসুস্থতা ও জরুরি প্রয়োজনে দেশের বাইরে থাকলেই কোনো নির্বাচিত প্রার্থীর শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত রাখতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট আসন শূন্য ঘোষণা করে ৯০ দিনের মধ্যে পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।