শারদোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি

সুব্রত চৌধুরী : বাংলার আকাশে এখন ছেঁড়া ছেঁড়া পেঁজা পেঁজা সাদা তুলোট মেঘের ছোটাছুটি, কাশবনে কাশ ফুলের দোল, শিউলি ফুলের সুগন্ধে মাতোয়ারা ধরিত্রী। আর এসব কিছুই বার্তা বয়ে আনছে শারদোৎসবের। দরজায় কড়া নাড়ছে দুর্গোৎসব। প্রবাসী বাংলাদেশী সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়। তাদের অন্তরে যেন নিয়তঃ ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হচ্ছে -‘মা আসছেন’। সারা বিশ্বের সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতো নিউজারসি রাজ্যের এবসিকন ও তৎসংলগ্ন শহরগুলোতে বসবাসরত প্রবাসী সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও কাউন্টডাউনে ব্যস্ত। পূজার খুশিতে লুটোপুটি খাওয়ার জন্য সবাই এখন হরেক আয়োজনে ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছে।

পুরাণে দেবী দুর্গার আবির্ভাব তত্ত্বে বলা হয়েছে, সমাজের সব অশুভ শক্তির বিনাশে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আবির্ভাব। ত্রেতাযুগে অসুরকূলের দাপটে সমগ্র মানব জাতি যখন উৎকণ্ঠিত, তখন মানব কল্যাণে এই ধরাধামে আবির্ভূত হন ভগবান শ্রী রামচন্দ্র। তিনি পিতৃ আদেশে বনবাসে থাকাকালীন লঙ্কেশর রাবন তার স্ত্রী সীতাকে অপহরণ করে লংকায় লুকিয়ে রাখেন। লংকাপুরী থেকে প্রিয়তমা স্ত্রী সীতাকে উদ্ধারের জন্য শক্তি সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে শ্রী রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহবান করেন। বসন্তকালের পরিবর্তে শরৎকালে দেবী দুর্গাকে আহবান করায় এ পূজাকে ‘অকালবোধন’ বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই শরৎকালে দুর্গাপূজার প্রচলন হয়।
সনাতনী হিন্দু স¤প্রদায়ের মানুষের বিশ্বাস,অসুর শক্তি বিনাশকারী দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে সমাজ থেকে সব পাপ দূর হয়ে যাবে, সমাজে ফিরে আসবে শান্তি। এবছর দেবী দুর্গা মর্ত্যে আসছেন ঘোটকে, দেবী দুর্গা বিদায়ও নেবেন ঘোটকে চড়ে।
শারদোৎসবের বার্তা পেয়ে উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাঙালি হিন্দুরা মেতে উঠেছে দুর্গোৎসবের হরেক আয়োজনে। নিউইয়র্কেও বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী মন্দিরে চলছে দুর্গোৎসবের মহা প্রস্তুতি। তারমধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ক্ইুন্স, ব্রকলিন।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্ম স্যাটেলাইটের কল্যাণে হাল ফ্যাশন সম্পর্কে সম্যক অবগত। তরুণীদের কাছে ভারতীয় টিভির বিভিন্ন সিরিয়ালের নায়িকাদের নাম দিয়ে তৈরি পোশাক বেশ জনপ্রিয়। তরুণীরা অনলাইনে অর্ডার দিয়ে, নিউইয়র্কের বিভিন্ন বাঙালি ফ্যাশন হাউজ থেকে তা সংগ্রহ করেছে। কেউ কেউ আবার দেশ থেকে পরিচিতজনদের মাধ্যমেও তাদের পছন্দের পোষাক সংগ্রহ করেছে। যেসব তরুণীর পছন্দ পাশ্চাত্য ফ্যাশন তারা ছুটছে মার্কিনী শপিং মলগুলোতে।
তরুণদের পছন্দ হাল ফ্যাশনের পাঞ্জাবি ও বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরিচ্ছদ। নিউইয়র্কসহ বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলেল ফ্যাশন হাউজ, অনলাইন অথবা দেশ থেকে তা আনছেন তারা। বাচ্চারা তাদের পোশাক ও জুতার জন্য মা-বাবার হাত ধরে ছুটছে মার্কিন শপিং মলগুলোতে। আবার কেউ কেউ ছুটছেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশী ফ্যাশন হাউজগুলোতে।
নিউইয়র্কের বিভিন্ন সংগঠন তাদের ধর্মীয় উৎসব পালনে নিয়েছে নানা কর্মসূচি, নানা অনুষ্ঠানমালা।
নিউজার্সি রাজ্যের সাউথ জার্সির এবসিকন শহরে দুর্গাপূজার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। এবসিকন সিটির ৪৪৪, পশ্চিম ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত রাধা কৃষ্ণ মন্দির এর নিজস্ব প্রাঙ্গণে আগামী চার অক্টোবর, শুক্রবার ষষ্ঠী পুজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হবে এবং আট অক্টোবর, মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপুজা শেষ হবে। দুর্গাপূজার বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে থাকছে তিথি অনুযায়ী পুজা অর্চনা, অঞ্জলি,ধর্মীয় সভা,আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মহাপ্রসাদ বিতরণ ইত্যাদি। দুর্গাপূজার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগঠনের সিনিয়র শিল্পীদের সাথে প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মও অংশগ্রহন করবে। তাই মহড়াতে অংশগ্রহনকারীদের কল-কাকলিতে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মহড়া প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকে। রাধা কৃষ্ণ মন্দির এর দুর্গাপূজার বিভিন্ন আয়োজনে নিউজার্সি ছাড়াও নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া সহ অন্যান্য রাজ্য থেকেও প্রবাসী হিন্দুদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে। রাধা কৃষ্ণ মন্দির এর দুর্গাপূজা নিয়ে আয়োজকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রবাসী হিন্দুদেরকে সপরিবারে দুর্গোৎসবে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এবসিকন শহরে প্রথমবারের মতো দুর্গাপুজার আয়োজনের সংবাদে প্রবাসী হিন্দুদের মাঝে বেশ সাড়া পড়েছে।
প্রবাসী বাঙালি হিন্দুদের মনে শারদোৎসব উপলক্ষে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের যে বহিঃপ্রকাশ তার সাথে দেশের শারদোৎসবের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের তুলনাই মেলে না। তারপরও ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো’র জন্য প্রবাসে এইসব আনন্দ-আয়োজনও কম কীসের?
প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের মনোজগতে শারদীয় দুর্গোৎসব
বাংলার আকাশে এখন ছেঁড়া ছেঁড়া পেঁজা পেঁজা সাদা তুলোট মেঘের ছোটাছুটি, কাশবনে কাশ ফুলের দোল, শিউলি ফুলের সুগন্ধে মাতোয়ারা ধরিত্রী। যদিও সুদূর মার্কিন মুলুকে এসবের কোন ছোঁয়াই নেই, তথাপি অন্তরে লালন-পালন করা দেশীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য মনন পোড়া মনকে জানান দেয়-ঋতুটা শরৎ,সময়টা শারদোৎসবের।আর এই বার্তা পেয়েই প্রবাসী বাঙালি হিন্দুরা মেতে উঠেছে শারদোৎসবের হরেক আয়োজনে। সবাই এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়। সারা বিশ্বের সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতো নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও দুর্গোৎসবের কাউন্টডাউনে ব্যস্ত।
সুদূর এই প্রবাসে বহুজাতিক ধর্মীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের মনোজগতে এই দুর্গোৎসবের কতটুকু আবেদন রয়েছে সেই সম্পর্কে জানার জন্য মুখোমুখি হয়েছিলাম এই প্রজন্মের কয়েকজনের সাথে।তাদের জবানীতে শোনা যাক দুর্গোৎসব সম্পর্কে তাদের মনোভাব।
স্নিগ্ধা দাশ – যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া স্নিগ্ধা দাশ এই দেশের আলো হাওয়ায় বেড়ে উঠেছে। আরআইটির এই কৃতী ছাত্রী জানালো, পূজার দিনগুলো সে স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত দুর্গোৎসবগুলোতেই কাটায়। সন্ধ্যা গড়াতেই মা-বাবার সাথে নতুন পোশাক-পরিচ্ছদে সজ্জিত হয়ে উৎসব প্রাঙ্গনে ছুটে যায়, দেবীর প্রার্থনা করে। তাদের জন্য নির্ধারিত দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে,অন্যদিন অন্যান্যদের পরিবেশনা সে প্রাণভরে উপভোগ করে।আর প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে ঢোল-করতালের তালে তালে সমবয়সীদের সাথে আরতি নৃত্যে মেতে ওঠা-তার কাছে সে এক অনাবিল আনন্দ।তবে বিজয়া দশমীর দিন সকালে তার মন বিষাদে ভরে যায়, ‘সংগীত রজনী’র আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সেই বিষাদ কিছুটা লাঘব হয়।দুর্গোৎসবে কলেজ খোলা থাকায় আনন্দ-উৎসবের রাশ টেনে ধরে রাখতে হয় বলে তার একটু মন খারাপ হয়।
বাংলাদেশের পূজার অনেক কিছুই সে এখানে উপভোগ করতে পারে না।বিশেষ করে পূজার অনেক আগে থেকেই মা-বাবার সাথে বিভিন্ন বিপনীতে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করা, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখা, দশমীর দিন প্রতিমা নিরঞ্জন-এসব কিছুই তাকে বেশ পীড়া দেয়।তারপরও সে মনে করে,বিদেশ-বিভুঁইয়ে এখানে পূজার যে ক’টা দিন আনন্দ-উৎসবে কাটে-তাও কম কীসের?
পুস্পিতা পাল- বাংলাদেশে জন্মগ্রহন করা পুস্পিতা পাল এক বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসে।এদেশের আলো-বাতাসে বেড়ে উঠলেও শিল্পবোদ্ধা মা-বাবার সার্বিক দেখভালে এই দেশের বহুজাতিক কৃষ্টি ও সংস্কৃতি তার মনোজগতে তেমন আঁচড় কাটতে পারেনি।আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলের নবম গ্রেডের কৃতী এই শিক্ষার্থী জানাল, স্থানীয় গীতা সংঘ আয়োজিত দুর্গোৎসবের ক’টা দিন সে বেশ আনন্দ-উৎসবেই কাটায়। তাদের জন্য নির্ধারিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সে গান পরিবেশন করে, অন্যান্য দিন বাকিদের পরিবেশনা উপভোগ করে।পুজার অনেক আগে থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া শুরু হয় বলে সে কাউন্টডাউন করতে থাকে- ‘মা আসছে……’। পূজোর সময় স্কুল খোলা থাকায় লাগামহীনভাবে আনন্দ করতে পারে না বলে তার মন একটু খারাপই থাকে। তারপরও দুর্গোৎসব বলে কথা। দশমীর দিন সিঁদুর খেলার ক্ষণটা সে বেশ উপভোগ করে।এছাড়া মিউজিকাল নাইটে বান্ধবীদের সাথে সে নেচে- গেয়ে বেশ আনন্দ পায়। দেশের পূজার কোনও সুখস্মৃতি তার না থাকলেও নাড়ির বন্ধন অটুট রাখতে প্রবাসে শত প্রতিকূলতার মাঝেও দুর্গোৎসবের আনন্দটুকু কোনও ভাবেই হারাতে সে রাজী নয়। তাই সে প্রাণভরে পূজার প্রতিটি আনন্দক্ষণ উপভোগ করে।
আকাশ সেনগুপ্ত -বাংলাদেশের চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী আকাশ সেনগুপ্ত ছয় বছর বয়সেই বাবা-মার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আসে।এরপর ভিন্ন কৃষ্টি-সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠলেও অভিবাবকদের সার্বিক দেখভালে আকাশ ধর্মীয় অনুশাসনগুলো বেশ ভালোই মেনে চলে।বর্তমানে আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলের দশম গ্রেডের কৃতী ছাত্র আকাশ জানালো, বিভিন্ন ধর্মীয় আচারাদি পালনের মাধ্যমে সে চারদিনব্যাপী দুর্গোৎসব উদযাপন করে। দুর্গাপুজা উপলক্ষে সে নতুন জামা-কাপড় কেনে,মার হাতে তৈরী বিভিন্ন ধরনের উপাদেয় খাবার খায়। পুজার সময় আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের বাড়িতে আতিথ্য নেয়। দুর্গাপুজা শেষে অনুষ্ঠিত ‘সংগীত রজনী’তে বিভিন্ন শিল্পীদের পরিবেশনা সে প্রাণভরে উপভোগ করে। সে আরো জানাল, দুর্গাপূজার সময় বাংলাদেশে থাকা আত্মীয়স্বজনদের তার খুব মনে পড়ে, যা তাকে খুব পীড়া দেয়।এছাড়া দেশের দুর্গাপূজার উৎসব-আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় সে খুব মনোকষ্টে ভোগে।
অনামিকা চক্রবর্তী – নর্থফিল্ডে বসবাসরত অনামিকা চক্রবর্তীর জন্ম বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ।তার বয়স যখন চার বছর তখন মা- বাবার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। বহুজাতিক কৃষ্টি ও সংস্কৃতিতে অনামিকা চক্রবর্তী বেড়ে উঠলেও তার মনোজগতে তা তেমন একটা আঁচড় কাটতে পারেনি।কোরিওগ্রাফার মা ও গিটারিষট বাবার ছায়াতলে একটা বাংগালি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেই তার বেড়ে ওঠা। নর্থফিল্ড মিডল স্কুলের অষ্টম গ্রেডের কৃতি এই ছাত্রী জানাল, পূজার চারদিন সে খুব আনন্দ- উচ্ছ্বাসে কাটায়। পূজার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সে তার সমবয়সীদের পরিবেশনা প্রাণভরে উপভোগ করে। সে নিজেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। দুর্গাপূজায় ঢাকের বাদ্যির তালে তালে হাল ফ্যাশনের পোশাক পরে বান্ধবীদের সাথে নাচার মুহূর্তটা তার কাছে খুবই প্রিয়।বিজয়া দশমীর দিন লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরে অঞ্জলি শেষে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠা সে খুব উপভোগ করে। তাছাড়া দুর্গা পূজা শেষে ‘সংগীত রজনী’তে শিল্পীদের পরিবেশনার সময় বান্ধবীদের সাথে মিলেমিশে নেচে-গেয়ে একাত্ম হওয়া সে খুবই উপভোগ করে। দুর্গাপূজার সময় স্কুল বন্ধ না থাকায় মনমতো পূজার আনন্দটুকু উপভোগ করতে পারে না বলে এক ধরনের দুঃখবোধ তাকে তাড়া করে ফেরে। পূজার কেনাকাটা সে প্রায়ই অনলাইনেই সেরে ফেলে।
আমাদের এই প্রবাস প্রজন্ম দিবানিশি ভিন্ন সংস্কৃতির ডামাডোলের মধ্যেও যে এখনো নিজস্ব ধর্মীয় অনুশাসন মেনে আচারাদি পালন করছে, বাঙালি কৃষ্টি ও সংস্কৃতি অন্তরে লালন করছে, বিজাতীয় সংস্কৃতির চোরাবালিতে পা ফেলছে না- তা সত্যিই আশা জাগানিয়া, যা আলোক বর্তিকা হিসাবে কাজ করবে প্রবাসে বেড়ে ওঠা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।