শারীরিক সমস্যাগ্রস্ত প্রত্যেকেরই রয়েছে করোনা ঝুঁকি

ঠিকানা রিপোর্ট : এত দিন ধারণা করা হতো, ৬৫ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সী ব্যক্তিদের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। কিন্তু এই ভুল ধারণা ভাঙল সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। ২৮ জুন তারা বলেছে, শারীরিক সমস্যাগ্রস্ত প্রত্যেক ব্যক্তিরই রয়েছে করোনাঝুঁকি। মূলত কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, আরকানসাস, ডেলাওয়ার, ইউটাহসহ কমপক্ষে ৩২টি অঙ্গরাজ্যে নতুন সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সিডিসির পক্ষ থেকে সংক্রমণঝুঁকির বাড়তি তালিকা প্রকাশ করা ছাড়াও কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এলার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের পরিচালক এবং ইউএস সায়েন্টিফিকের প্রধান মুখপাত্র ড. অ্যান্থনি ফাউচি এবং সিডিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও নতুন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। নতুন নির্দেশনায় সিডিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য সমস্যাগ্রস্ত ৬৫ বা এর বেশি বয়সীরা হঠাৎ করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন এবং তাদের অবস্থা গুরুতর হবেÑএ ধারণা ঠিক নয়। বরং স্বাস্থ্য সমস্যাগত সকল বয়সীদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার এবং করোনার ফলে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার এমনকি মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ার পুরোপুরি আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ও ভয়াবহ পরিণতির শিকার হওয়ার ঝুঁকি উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। ৪০ থেকে ৫০, ৫০ থেকে ৬০ এবং ৬০ থেকে ঊর্ধ্ববয়সী শারীরিক সমস্যাগ্রস্ত প্রত্যেকেরই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার এবং ভয়ানকভাবে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে শারীরিক সমস্যাগ্রস্ত ৫০ থেকে ৫৯ বয়সীদের তুলনায় ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের আক্রান্ত ও ভয়ানক পরিণতি বরণের আশঙ্কা তুলনামূলক কম। অনুরূপভাবে ৬০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী স্বাস্থ্য সমস্যাগ্রস্তদের তুলনায় শারীরিক সমস্যাগ্রস্ত ৫০ থেকে ৫৯ বয়সীদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার এবং ভয়ানকভাবে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম। সত্তরোর্ধ্ব, বিশেষত ৮৫ বা তদূর্ধ্ব বয়সী শারীরিক সমস্যাগ্রস্তদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার এবং ভয়ানকভাবে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা সর্বাধিক। তাই সংস্থার পক্ষ থেকে সমস্যাগ্রস্ত বুড়োদের বিশেষভাবে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ।
এদিকে সিডিসির পরিচালক ড. রবার্ট রেডফিল্ড দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব পালন করা না হলে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ কোনোভাবেই ঠেকানো যাবে না। একমাত্র সামাজিক দূরত্বই করোনা সংক্রমণ সার্থকভাবে প্রতিহত করতে পারে।
এদিকে বিভিন্ন রাজ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংক্রামক রোগবিষয়ক প্রধান ড. অ্যান্থনি ফাউচি বলেছেন, এ বিষয়ে দেশটির বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, সবাই মিলে একসঙ্গে নির্মূল করার মাধ্যমেই আমরা একমাত্র এর অবসান ঘটাতে পারব। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যখন বলছেন যে সংক্রমণের বিস্তার শ্লথ করে দিতে অবশ্যই আরো কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে, তখন ভাইস প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতির ‘অগ্রগতি’র প্রশংসা করেছেন। লকডাউন শিথিল করার সাথে করোনাভাইরাসের বিস্তার লাভের ধারণাকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এজন্য তিনি উপসর্গবিহীন লোকজনের পরীক্ষায় পজিটিভ ফল আসাকে দায়ী করেছেন।
প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ায় এরই মধ্যে টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য অর্থনীতি সচলে বিধিনিষেধ আরও শিথিলের পথ থেকে সরে এসেছে। অনেকে বলছেন, শনাক্তকরণ পরীক্ষার আওতা বাড়ায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা কিছু কিছু এলাকায় পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্ত রোগী বেশি পাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখন বলছেন, দেশটিতে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের ১০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে।