শাহনাজ রহমতুল্লাহ : সীমানা ছেড়ে চলে গিয়েও চির অনির্বাণ

এবিএম সালেহ উদ্দীন :

উত্তম কাজের মধ্য দিয়ে প্রকৃত মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে ওঠে। যার ভিত্তিতে একজন সত্যিকার মানুষের পরিচয় পাওয়া যায়। আমরা আজ যাঁর কথা উল্লেখ করব, তিনি একজন পূর্ণায়ত মানুষ। যিনি তাঁর জীবনাচার ও কর্মের মাধ্যমে সার্থকতা অর্জন করেন।

শিল্প-সংস্কৃতির প্রধানতম শাখায় তিনি এবং তাঁর পরিবারের প্রভূত সাফল্য বিস্তারের মধ্য দিয়ে খ্যাতিমান হয়েছেন। তাঁর নাম শাহনাজ রহমতুল্লাহ (১৯৫২-২০১৯)। প্রতিভার অত্যুত্তম উন্মেষ, জীবনযাপনের সাবলীলতা, সঙ্গীতে স্বতঃস্ফূর্ততা এবং আত্মবিশ্বাসের এক বিরল দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন। সংগীতে তিনি গৌরব অর্জন করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামীদের মধ্যে কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংস্কৃতিসেবীদের বিরাট অবদান রয়েছে। তেমনি শাহনাজ রহমতুল্লাহ ও তাঁর পরিবারের বিরাট অবদান রয়েছে।
শৈশবের স্মৃতি দিয়ে শুরু করি। শিশুকালে মা আমাকে কোলে নিয়ে দুটি গানের কলি প্রায়ই মুখে আনতেন : ‘খোকন সোনা বলি শোন/ থাকবে না আর দুঃখ কোন/ মানুষ যদি হতে পারো…।’ সে কারণে এই গানটি অনেক কানে বাজে। আরেকটি গান : ‘একবার যেতে দে না/ আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়। যেথায় কোকিল ডাকে কুহু/ দোয়েল ডাকে মুহুর্মুহু/ নদী যেথায় ছুটে চলে আপন ঠিকানায়…’
‘খোকন সোনা’ নামের গানের কলি আমার মা পছন্দ করতেন। ‘খোকন’ আমার ডাকনাম। সেই সুবাদে বাড়িতে সবার কাছে এ নামটি প্রিয়। দ্বিতীয় গানটি শৈশব থেকে শুনতে শুনতে মুখস্থ হয়ে গেছে।

বুঝ হওয়ার পর কৈশোরের সবচেয়ে স্মৃতিবাহী সময় হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ঘটনাবলি ও মহান মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের আগে সত্তরের নির্বাচনে পাকিস্তান সরকারের ভরাডুবি হয়েছিল। সেই সময় (১৯৭০ সাল) ভোলা জেলার প্রলয়ংকরী জলোচ্ছ্বাসের শোকার্ত স্মৃতি, ভয়জড়িত হৃদয় এখনো কম্পিত হয়।

তারপর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময়কালে কিংবদন্তি গীতিকার গাজী মাযহারুল আনোয়ারের লেখা ‘জয় বাংলা বাংলার জয়…’, গীতিকার ও চলচ্চিত্রকার খান আতার লেখা ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে/ বাংলার আকাশে রক্তিম সূর্য আনলে যারা/ আমরা তোমাদের ভুলব না ভুলবো না… প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল…’, ‘সোনা সোনা সোনা/ লোকে বলে সোনা/ সোনা নয় যত খাঁটি… যত বল খাঁটি তার ছেয়ে খাঁটি বাংলাদেশের মাটি/ আমার বাংলাদেশের মাটি’, ‘আমার প্রাণের প্রতিটি নিঃশ্বাস/ আমার চেতনার অনন্ত বিশ্বাস/ শুধু সোনালি স্বপ্ন পরিবেশ/ বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ…’।
আবার একেবারে তারুণ্যোদ্দীপ্ত সময়ে-
‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়/ যে ছিল হৃদয়ের আঙিনায়,
সে হারাল কোথায় কোন দূর অজানায়…’
‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে/ কানে কানে বলে যায়…’
‘খোলা জানালায় চেয়ে দেখি তুমি আসছ…’
‘আমার ছোট্ট ভাইটি মায়ায় ভরা মুখটি…’

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানসহ এসব গান স্বাধীনতাসংগ্রামে উদ্দীপনা জোগায়।

এ ছাড়া অনেকের মতো খ্যাতিমান কবি ও গীতিকার সিকান্দর আবু জাফরের লেখা অনেক গানে কণ্ঠ দিয়ে যিনি অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন; যাঁর সুরেলা কণ্ঠ বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ, নদী ও তরুলতার সঙ্গে মিশে আছে; তিনি হচ্ছেন কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ।
সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা এই মহান শিল্পীর পুরো পরিবারটিই সুপ্রাচীন ঐতিহ্যে লালিত এবং শিল্প-সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। বাবা কলকাতার প্রখ্যাত আইনজীবী, সুশিক্ষিতা মাতা, বড় ভাই প্রয়াত আনোয়ার পারভেজ, যিনি ছিলেন স্বনামধন্য গীতিকার ও শিল্পী। ছোট ভাই জাফর ইকবাল আশির দশকের দিকে অকালে চলে যাওয়া সবার প্রিয় নায়ক ও গায়ক।

ছোটবেলা থেকেই মেধা ও মননশীলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা শাহনাজ রহমতুল্লাহ অপূর্ব কণ্ঠস্বর ও সুরের মাদকতা নিয়ে সংগীতজগতে সুপ্রতিষ্ঠিত হন। এমন প্রতিভাময়ী শিল্পী পৃথিবীতে না থাকার কথা মনে হলে আমাদের বেচেইন ও বিচলিত হয়ে যেতে হয়।

শাহনাজ রহমতুল্লাহর মতো সংগীত সাধক ও সুরেলা কণ্ঠশিল্পীর বিকল্প তিনি নিজেই। তাঁর মতো তেমন শিল্পী কখন কীভাবে জন্মাবে, তা জানা নেই। তিনি সংগীতের ভাষা ও সুরের মর্ম বুঝতে পারতেন। গানের ভাষাকে রপ্ত করে সুরেলা কণ্ঠের সঙ্গে নিজের আত্মার সম্মিলন ঘটিয়ে মর্মের অনুভবের মাধ্যমে তিনি গান গাইতেন। স্বাধীনতার গান, দেশের গান, মুক্তিযুদ্ধের গান এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের গান গেয়েছেন। তিনি সংগীতের সুরে সুরে বিস্ময়কর আলো জ্বালিয়ে গেছেন বাংলার ঘরে ঘরে। গানের ভাষায় তিনি গণমানুষকে জাগিয়ে তুলেছেন। যে প্রাণের ভাষায় জেগে ওঠে দেশ, মাটি, মানুষ ও প্রকৃতি।

তিনি সংগীতে দক্ষতার অধিকারকে এমন শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা কখনো বিস্মৃত হবে না। সুরের সবুজ বীণায় নিজের কণ্ঠকে সাবলীলতায় করে তুলেছেন বৈচিত্র্যময় ও বর্ণময়। এমন মধুঝরা কণ্ঠের কালজয়ী শিল্পীর তুলনা বিরল।
সুদীর্ঘ ৫০ বছর গান গেয়েছেন শাহনাজ রহমতুল্লাহ। বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০টি বাংলা গানের তালিকায় শাহনাজ রহমতুল্লাহর কণ্ঠে গাওয়া চারটি গান ছিল। আর কোনো শিল্পীর একসঙ্গে চারটি গান ছিল না। বাংলা সংগীতভুবনে তাঁর কালজয়ী গানগুলো শতাব্দী থেকে শতাব্দীকাল ধরে টিকে থাকবে।

শিল্পী অথবা বড় কিছু হতে হলে শুধু মেধা কিংবা ঐশ্বরিক দানের ওপর নির্ভরশীল থাকলেই চলে না। মেধার যথার্থ ব্যবহার থাকতে হয়। মেধা দিয়ে কেউ মানুষ মারার যুদ্ধকৌশল শেখায়। ধ্বংসের উন্মত্ততায় যুদ্ধকে আলিঙ্গন করে। আবার কেউ মানুষকে রক্ষা করার জন্য মেধাকে কাজে লাগায়। মানুষের স্বার্থে মানবতার কল্যাণে যিনি কাজ করেন, তিনিই তো শ্রেষ্ঠ। শাহনাজ রহমতুল্লাহর শিল্পবোধ ও সাংস্কৃতিক জীবন ছিল উন্নত এবং মেধা ও মননের যথার্থ প্রয়োগ। তিনি সংগীতের মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। শিল্পের সঙ্গে যত দিন ছিলেন একাকার হয়েছিলেন মাটি ও মানুষের সাথে। দেশের হয়ে প্রেমনিঃসৃত স্বাধীনতার গান গেয়ে মিশে গিয়েছিলেন। যাঁর কণ্ঠ ও সুরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার মাটির সোঁদা গন্ধ, সবুজে আকীর্ণ ছায়াঘেরা বন-বনানী ও বাতাসের আশ্চর্য সজীবতা।
তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন, সময় ফুরিয়ে আসছে। জীবনের শেষ দিকে তাই বিরাট পরিবর্তন ঘটে গেল। হয়তো চাইলেন, এই ক্ষণিকের জীবনকে মহাজীবনের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে মানিয়ে নিতে হলে পৃথিবীতেই কাজ করতে হবে। তাই তো শান্তির সুশীতল ছায়ায় জান্নাতে স্থায়ী ঘর বানানোর প্রত্যাশায় তিনি আল্লাহর পরম সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভের আশায় নিবিষ্ট হলেন। প্রাণপ্রিয় স্বামীর হাত ধরে তিনি হজ, ওমরাহ পালন করলেন। পবিত্র মক্কা ও মদিনা জিয়ারত করে এলেন।
অতঃপর জাগতিক চাকচিক্যময় জীবনের চেয়ে পারলৌকিক অবিনশ্বর মহাজীবনের জন্য তৈরি হতে শুরু করলেন। এভাবেই একদিন বিস্ময়কর বিশ্বাসের দীপ্তিতে মহামহিমের সান্নিধ্যছায়ায় পৌঁছে গেলেন।

গানের ভুবন থেকে নিজেকে কেন সরিয়ে নিলেন? মৃত্যুর আগে পবিত্র ওমরাহ পালনের মধ্য দিয়ে জীবনের এক বিরাট পরিবর্তন ঘটল। এই পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নামাজ পড়েই তাঁর সময়টা বেশ ভালোই কাটছে। ওমরাহ করে আসার পরদিন থেকেই আর গান করতে ইচ্ছা করেনি।

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, পবিত্র কাবাঘর ও মহানবী (সা.)-এর রওজা শরিফ দেখে তিনি চমকিত হন এবং এক অপূর্ব আলোকরশ্মি ও আলোর ছটা তাঁকে বারবার চমকিত ও ঝলকিত করে তুলছে। তার পর থেকে পার্থিব বিষয়ে আগ্রহী নন তিনি। বাকিটা জীবন সৃষ্টিকর্তার কৃতজ্ঞতায় ধ্যানমগ্ন প্রার্থনা করেই কাটিয়ে দিতে চান।

সেই থেকে গানের জগৎ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে গুটিয়ে নিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করতেন। নিজের বাড়ির ছাদের ওপর গড়ে তোলা রকমারি ফল ও ফুল গাছের পরিচর্যা করে সময় কাটাতেন। তিনি তাঁর ৫০ বছরের ভক্ত ও অনুসারীদের বৃক্ষরোপণে মনোনিবেশ করার কথা বলতেন।
কীভাবে তাঁর সংগীতবিহীন সময় কাটে? এই প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েন। ফজর পর্যন্ত জায়নামাজে অপেক্ষা করতে থাকেন। বেশ ভালো লাগে তখন। নামাজের ওয়াক্ত হলে ফজর পড়ে কোরআন শরিফ পড়া শুরু করেন। অতঃপর সকালের নাশতা পর্ব শেষ করে নিজের লালিত গাছের কাছে চলে যেতেন। কেননা তাঁর মতে, বৃক্ষরোপণ ও ফুলের পরিচর্যা ইমানের অংশ। যা মানুষের কল্যাণে আসে, তা-ই আল্লাহ পছন্দ করেন।

বৃক্ষরোপণ ও গাছ লাগানো এবং গাছের পরিচর্যার ব্যাপারে বিশ্বনবীর (সা.) অনেক নির্দেশনা রয়েছে।
গাছ মানুষকে ছায়া দেয়, মায়া দেয়, জীবনীশক্তির খোরাক জোগায়। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য হচ্ছে বৃক্ষরাজি ও সবুজ শ্যামলিমা, যা মানুষের মন-প্রাণে স্বস্তি ও শান্তির জোগান দান করে।
এ প্রসঙ্গে নোরা ওয়ালনের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে :
‘গাছ মানুষের মনকে শান্তি দেয়।’
হাল বার্লান্ড বলেছেন :
‘গাছের ব্যাপারে জেনে আমি ধৈর্যের অর্থ বুঝতে পারি। ঘাসের ব্যাপারে জেনে আমি জেদের প্রশংসা করতে পারি।’
স্যার পি. স. জগদীশ কুমার বলেন :
‘গাছ কাটা আপনার নখ কাটার মতো নয়, তবে শ্বাস কাটানোর মতো।’
প্রচণ্ড গরম কিংবা যেকোনো ক্লান্তির অবসাদের জন্য গাছের ছায়ায় মানুষের হৃদয় শীতল হয়। মানুষের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করে।
এ ব্যাপারে জর্জ নাকাশিমা বলেন :
‘একটি গাছ প্রকৃতির সাথে আমাদের সবচেয়ে নিবিড় সংযোগ।’
রবীন্দ্রনাথের অনেক কবিতা ও গানে বৃক্ষের কথা আছে। এখানে একটি গানের কলি মনে পড়ছে :
‘পথিকবন্ধু, ছায়ার আসন পাতি
এসো শ্যাম সুন্দর
এসো বাকাসের অধীর খেলার সাথী
মাতাও নীলাম্বর।…’

আমাদের শিল্পাঙ্গন ও সংগীতজগতের উজ্জ্বল তারকা বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যের পুণ্যময়তায় শাহনাজ রহমতুল্লাহ মানুষের হৃদয় জয় করে গেছেন। সংগীতের মাধ্যমে তিনি পারিবারিক ঐতিহ্যকে অনুসরণ করেন এবং সমগ্র বাংলায় তাঁর সুরের নিবিড়ধারাকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। তেমনি দেশ, মাটি ও প্রকৃতিপ্রেমের একান্ত অনুসঙ্গী হিসেবে গাছের সাথে নিবিড় সম্পর্ক সৃষ্টি করে গেছেন। তিনি মানুষ ও গাছের একাত্মতার কথা বলেছেন। এ জন্য অবসরে বেশির ভাগ সময় তিনি নিজ বাড়ির ছাদে নানান স্বাদের ফলমূল ও রকমারি ফুলের পরিচর্যায় নিবিষ্ট থাকতেন।

সংগীতের ব্যাপারে তিনি শুদ্ধ সংগীতচর্চার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মের মধ্যে অবিচ্ছিন্ন ধারা চালু রেখেছিলেন। তেমনি শুদ্ধ সংগীতের অধ্যবসায়ের জন্য ভক্ত-অনুরাগীকে আহ্বান করেন। জীবনসায়াহ্নের শেষান্তে একটি সাক্ষাৎকারে সে কথা স্পষ্টভাবে বলে গেছেন।
পরিশেষে বলতে হয়, বর্তমানে যুগ পাল্টিয়ে কথিত আধুনিকতার ছোঁয়ায় সবকিছু ঝলকিত হলেও আমাদের দেশে প্রতিভাবান শিল্পীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে! প্রতিবছর আমরা যাঁদের হারাচ্ছি (!), তাঁদের আর কোনো বিকল্প আসছে না।

সংগীতজগতের কিংবদন্তি মহান শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহর সৃষ্টিশীল গানের অবদানের কথা যতই উচ্চারিত হবে, ততই শিল্প-সংস্কৃতি ও সংগীতের ভুবন উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ হবে। যখনই তাঁর মাধুর্যমণ্ডিত কণ্ঠের কথা স্মৃতিতে ভেসে আসে, তখন শুধু গানের কথা নয়, তাঁর সমগ্র জীবনের শিল্পসত্তা ও তাঁর মানস পরিস্ফুটিত হয়ে ওঠে। তখনই তাঁর প্রতি এবং স্রষ্টার প্রতি আমাদের প্রণতি আরও বেশি পূর্ণতর হয়ে ওঠে।
(প্রবন্ধটি ২ জানুয়ারি শাহনাজ রহমতুল্লাহর জন্মবার্ষিকীতে নিবেদিত)

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক