শিকাগোতে গণলুট শতাধিক গ্রেফতার

ঠিকানা ডেস্ক : শিকাগোতে গণলুটের ঘটনা ঘটেছে। ১০ আগস্ট কয়েক ঘণ্টা ধরে এই গণলুট চলে। পরে পুলিশের সঙ্গে লুটেরাদের গোলাগুলি হয়। এই ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। গ্রেফতার হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
শিকাগোর পুলিশ কর্মকর্তা ডেভিড ব্রাউন লুটেরাদের এমন কর্মকাণ্ডকে ‘খাঁটি অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এদিকে শিকাগোর মেয়র লরি লাইটফুট এটিকে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন অংশ হিসেবে মানতে নারাজ। এ নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ব্রাউন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটা কোনো আন্দোলন ছিলো না। বরং এটা ছিল খাঁটি অপরাধ।
জানা গেছে, শিকাগোর অভিজাত এলাকা মিশিগান অ্যাভিনিউয়ে পুলিশের সঙ্গে লুটেরাদের বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, গণলুট চালানোর সময় লুটেরারা দোকান থেকে দুই হাত ভরে পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের সঙ্গে লুটেরাদের গোলাগুলির ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই গণলুটকে সমর্থন করে পোস্ট দিয়েছেন যা শিকাগো পুলিশের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ব্রাউন বলেন, গোলাগুলির পর অনেক মানুষ জমা হয়।গুজবের কারণে এই সংঘাত সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে।
ঘটনার পরপরই সংশ্নিষ্ট এলাকা বরাবর সব ধরনের ট্রেন ও বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় শিকাগো ট্রানজিট অথরিটি। এই শহরে প্রবেশের একটি ব্রিজ দিয়েও চলাচল সীমিত করা হয়। জনগণের নিরাপত্তার অনুরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।
শিকাগোর মেয়র লরি লাইটফুট এই দাঙ্গার ঘটনাকে অপরাধমূলক আচরণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, কোনো প্রতিবাদ বিক্ষোভ বা যুক্তিসঙ্গত আন্দোলনের ব্যাপারে আমাদের আপত্তি নেই। এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে আমরা শিগগিরই পদক্ষেপ নেব। অপরাধীদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। রোববারে ঘটনায় দাঙ্গাকারী ও গুলিবর্ষণকারীদের বিস্তারিত তথ্য দিতে স্থানীয়দের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেপলিসে পুলিশ হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তখন পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার বিচার দাবিতে যে বিক্ষোভ শুরু হয় তা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের কোথাও কোথাও চলমান রয়েছে। থেমে থেমে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে অনেক শহরে। দেশজুড়ে পুলিশ সংস্কার ও ফ্লয়েড হত্যার বিচার দাবিতে চলমান আন্দোলন ঠেকাতে হিমশিম খেতে হয়েছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ দমাতে বেশ কিছু অঞ্চলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেন। অনেক জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে বহু মানুষ আটক এবং আহত হয়েছেন।