শিশুর অনিদ্রা ও স্থূলতার কারণ হতে পারে স্মার্টফোনের নেশা

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : শিশুর হাতে স্মার্টফোন তুলে দেয়ার আগে সাবধান সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, স্মার্টফোনের নেশা ও ইলেকট্রনিকস ডিভাইসের অতিব্যবহার শিশুর অনিদ্রা ও স্থূলতার কারণ হতে পারে। খবর হেলথ নিউজ লাইন।

এখনকার দিনের শিশুদের অনেককেই স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের মতো ডিজিটাল ডিভাইসের পেছনে সারা দিন ব্যয় করতে দেখা যায়। গবেষকরা বলছেন, এসব ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস ডিভাইস শিশুর চোখ থেকে ঘুম কেড়ে নেয়ার পাশাপাশি তাদের করে তুলতে পারে স্থূলকায়।

স্মার্টফোনের অতিব্যবহারকে মনোবিজ্ঞানীরা এখন আসক্তি হিসেবেই দেখছেন। এর পেছনে যথেষ্ট কারণও রয়েছে। এর আগেও বেশকিছু গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা সমজাতীয় স্ক্রিনসংবলিত ডিভাইসে সারাক্ষণ মগ্ন হয়ে থাকার বিষয়টি শিশুর দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের বিশেষজ্ঞদের পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা যায়, যেসব শিশু দিনে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের মতো স্ক্রিন ডিভাইসে ব্যয় করে, তাদের স্থূলতার শঙ্কা বাড়ে ৪৩ শতাংশ।

এ ছাড়া এতে আরো দেখা যায়, যেসব শিশুর মধ্যে এসব ডিভাইসের আসক্তি বেশি, তাদের মধ্যে প্রতিদিন উচ্চমাত্রার চিনিসংবলিত পানীয় গ্রহণের সম্ভাবনাও অনেক বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া তাদের মধ্যে রাতে ভালো ঘুম না হওয়া অথবা দৈহিক শ্রমবিমুখতার আশঙ্কাও অনেক বেশি থাকে।

যেসব শিশু দিনে ৫ ঘণ্টা বা এর বেশি সময় স্ক্রিনভিত্তিক গ্যাজেট হাতে কাটায়, তাদের রাতে প্রয়োজনীয় টানা ৮ ঘণ্টার ঘুম না হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে ৭৯ শতাংশ।

২৪ হাজার ৮০০ শিশুর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) ২০১৩-১৫ সালের মধ্যে পরিচালিত ইয়ুথ রিস্ক বিহেভিয়ার সার্ভিল্যান্স সিস্টেম (ওয়াইআরবিএসএস) জরিপের তথ্য ব্যবহার করে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। স্ক্রিন টাইমের সঙ্গে স্থূলতা, অনিদ্রা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সম্পর্ক খুঁজে বের করতে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের দুই বিশেষজ্ঞ এরিকা এল কেনি ও স্টিভেন এল গোর্টমেকার এ গবেষণাটি চালান।