শীতের সিলেটে প্রবাসীদের আনাগোনা এবং অন্যান্য

প্রণবকান্তি দেব: শীতের সিলেট অন্যরকম। খেলা, মেলা, আনন্দ আয়োজন থাকে প্রতিদিন। মুখর পর্যটনকেন্দ্র, প্রবাসীদের আনাগোনা আর উৎসব-অনুষ্ঠানে এক ভিন্ন আমেজে তখন সময় পার করে মানুষ। সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পেশাজীবি সংগঠনগুলো এ সময়টাকে বেছে নেয় নির্বাচনের জন্য। এ বছরও তার ব্যাতিক্রম নয়। শীতের প্রকোপ একটু বেশি হলেও নানাবিধ আয়োজন চলছেই। সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গণও সরব সমান তালে। শহর পেরিয়ে গ্রামাঞ্চলেও লেগেছে উৎসবের হাওয়া।
অন্যদিকে, এবারে শীতের মৌসুমে সিলেটে এসেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসীরাও। কেউ এসেছেন আত্মীয়-স্বজনের সাথে সাক্ষাতে, কেউ বিয়ে-শাদীসহ পারিবারিক নানা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে, আবার কেউ কেউ এসেছেন নিজেদের অবসর সময় কাটাতে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ পৃথিবীর নানাপ্রান্তে বসবাসরত সিলেটীরা জন্মমাটির টানে দেশে আসার জন্য এ ডিসেম্বর-জানুয়ারি সময়টাকেই বেছে নেন। প্রবাসে ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে কিছুটা সময় আয়েশে কাটাতে পরিবার পরিজনসহ ছুটে আসেন দেশে থাকা প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে। নিজেদের মতো করে কাটান কিছু সময়।
এই উৎসব আর আনন্দ জড়ানো সময়েই সিলেট-ঢাকা রুটে দেখা দিয়েছে বিমানের টিকিট সংকট। আবার টিকিট পাওয়া গেলেও যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত মূল্য। এতে ভোগান্তি চরমে পৌছেছে এ রুটে যাতায়াত করা যাত্রীদের। কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটগুলো ডোমেস্টিক ফ্লাইটের যাত্রীদের পরিবহন করছে না। এ কারণে এ রুটে টিকিটের কিছুটা সংকট চলছে। দামও আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিমানের বোয়িং-এ করে এক মাসের অধিক সময় ধরে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী পরিবহন বন্ধ রয়েছে। ফলে সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই সুযোগে বিমানের পাশাপাশি বেসরকারি বিমান অপারেটরগুলোও তাদের টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ বিমানের জেলা ব্যবস্থাপক মনসুর আহমদ ভুঁইয়া স্থানীয় মিডিয়াকে জানান, বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ওসমানীতে আসা ফ্লাইটগুলো ইতোপূর্বে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী পরিবহন করতো। কিন্তু গত ১ ডিসেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটগুলো ডোমেস্টিক ফ্লাইটের যাত্রী পরিবহন করছে না। এ কারণে এ রুটে টিকিটের কিছুটা সংকট চলছে। দামও আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। বোয়িংয়ে যাত্রী পরিবহন করা গেলে এ সংকট থাকবে না বলে মন্তব্য এই কর্মকর্তার।
বিমানের অন্য একটি সূত্র জানায়, প্রতি সপ্তাহে ওসমানী বিমানবন্দর থেকে সিলেট-হিথরো ৪টি, সিলেট-ম্যানচেস্টার তিনটিসহ দুবাই-শারজাহ-জেদ্দা মিলিয়ে মোট ১৫টি ফ্লাইট অপারেট হয়। ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত এসব ফ্লাইটে অভ্যন্তরীণ রুটের প্রায় ৫ হাজার যাত্রী অপারেটর করা যেতো। প্রতিটি বোয়িংয়ের ধারণ ক্ষমতা ছিল সাড়ে ৩শ’। বর্তমানে ড্যাশ-৮ ও এটিআরসহ যেসব ফ্লাইট অপারেটর হচ্ছে, সেগুলোর যাত্রী ধারণক্ষমতা ৬০-৬৫ জন। যে কারণে এ রুটে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে।
এদিকে, বিমান ও ট্রাভেল এজেন্সি সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে সিলেট-ঢাকা রুটে বাংলাদেশ বিমান ছাড়াও ইউএস বাংলা ও নভোএয়ারের ফ্লাইট চলাচল করছে। সবমিলিয়ে প্রতিদিন এ রুটে ১০-১২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল করলেও এর মাধ্যমে যাত্রীদের টিকিটের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।
হজ্জ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সিলেট চ্যাপ্টারের সভাপতি জহিরুল কবির চৌধুরী শীরু জানান, ‘এবার দেশে প্রবাসীদের ব্যাপক আগমনের কারণে অভ্যন্তরীণ রুটে টিকিটের কিছুটা সংকট চলছে। এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনাকারী অপারেটরগুলোর ৮০ পার্সেন্ট টিকিট বুকড হয়ে গেলে বাকি ২০ পার্সেন্ট টিকিটের দাম বৃদ্ধি হয়ে যাচ্ছে পিক টাইমের কারণে।’
এদিকে একটি সুসংবাদ হলো- সিলেটের বিশ্বনাথে মেয়েদের শিক্ষা প্রসারে নিজের বসতঘরেই বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন এক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। বিদ্যালয়ের নাম দিয়েছেন ‘বাইশঘর মুহিবুন নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়’। তিনি হলেন উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বাইশঘর গ্রামের মৃত মনোয়ার চৌধুরীর পুত্র এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। জানা যায়, এলাকায় মেয়েদের জন্য কোনো উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার। সেই লক্ষ্যে তিনি এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন।
গত ১৬ জানুয়ারি সোমবার নিজের বসতঘরেই বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টির উদ্বোধন করেন মাহবুবুর রহমান। এসময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
উদ্বোধন শেষে নবাগত ১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুলব্যাগ ও স্কুলড্রেস বিতরণ করা হয়। এসব শিক্ষার্থীর ফি ছাড়া ভর্তি ও ২০২৩ সালের পুরো এক বছরের বেতনও ফ্রি রেখেছেন এই প্রবাসী। তিনি জানান, ভবিষ্যতে বসতঘরে বিদ্যালয়টি থাকবে না। বাড়ির পূর্বপাশে তার দান করা ৪৯ শতক ভূমিতে ভবন নির্মাণের পর হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী।