শেখ মুজিবের রক্ষীবাহিনী করার দরকার ছিলো না

ঠিকানাকে সি আর দত্ত : জিয়ার ঘোষণায় মুক্তিযুদ্ধে যাইনি

সাঈদ- উর রব: মেজর জেনারেল (অব:) চিত্ত রঞ্জন দত্ত বীর প্রতীক। সবাই তাঁকে সি আর দত্ত নামেই চেনেন। মুক্তিযুদ্ধের এক বীর প্রতীক। ১১ জন সেক্টর কমান্ডারের একজন। পরবর্তীকালে বাংলাদেশে সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় গড়ে তুলেন হিন্দু- বৌদ্ধ- খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই তিনি এই সংগঠনের প্রেসিডেন্ট। সি আর দত্ত মুক্তিযুদ্ধে নিজে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই একেবারে ভিতর থেকেই মুক্তিযুদ্ধ দেখার সুযোগ হয়েছে তার। সেখানে কতটা অবদান সাধারণ মানুষের, রাজনীতিবিদ আর সেনা নায়কদের কার কী ভূমিকা, ক্লিক- কনস্পেরেসী, মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকাসহ আন্তর্জাতিক অবস্থান, স্বার্থগত সংঘাত, স্বাধীনতা পরবর্তী পরিস্থিতি, সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজনীতি- সবই তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে নিজেই ছিলেন নিয়ন্ত্রক। সেই বীর প্রতীক জেনারেল সি আর দত্ত এসেছিলেন আমেরিকায়। পাঠকদের মুক্তিযদ্ধের গল্প শুনাতে ঠিকানা তার মুখোমুখী হয়েছিলো। বীর প্রতীক জেনারেল দত্ত প্রাণ খুলে কথা বলেছেন। বলেছেন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কথা, দেশ পরিচালনার কথা, প্রেসিডেন্ট জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে, জেনারেল ওসমানী ও রবের নেতৃত্বের কথা,পাকিস্তান সামন্তবাদী রাজনীতিক ও সামরিক শাসকদের মানসিকতা, তার সেক্টর ৪ এর মুক্তিযুদ্ধের কথাসহ পরবর্তীকালের রাজনীতির সফলতা এবং ব্যর্থতা এবং সহযোদ্ধাদের বীরত্ব গাথা, সঙ্গে অজানা নানা কথা।
ঠিকানা: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং আপনার ভূমিকা সম্পর্কে কিছু বলেন?
সি আর দত্ত: আমার জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে পশ্চিম পাকিস্তানে। তখন আমি পশ্চিম পাকিস্তানে। পূর্ব পাকিস্তানে কী হচ্ছে তা আমরা জানি না। আমাদের জানতে দেয়া হতো না। পত্র পত্রিকাও খুব একটা যেত না। ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি আমি আমার পরিবার নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে এলাম ছুটিতে। আমরা সাধারণত তিন মাসের ছুটি পেতাম। সেই ছুটিতে আমি পূর্ব পাকিস্তানে আসি। পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা সম্পর্কে বা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আমার তেমন আইডিয়া ছিল না। তবে আমার বন্ধু- বান্ধবদের কাছ থেকে জানলাম যে, পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা অতটা ভাল না। এরমধ্যেই একদিন জেনারেল রব আমাকে ডাকলেন। পূর্ব পাকিস্তানে আসার এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। আমি উনার বাসায় গেলাম। উনার বাসাটি আমার বাসার পাশেই ছিলো। আমাদের বাসা ছিলো হবিগঞ্জে। উনার বাসায় যাবার পর আমাকে বললেন, আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েছি হবিগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ আর্গানাইজ এবং সিলেটকে শত্রুমুক্ত করার জন্য। উনি ঢাকা থেকে ফেরত আসার পর হবিগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকজনকে একত্রিত করলেন এবং কার্যক্রম শুরু করে দিলেন। এরমধ্যে তিনি রাস্তাঘাট খোদাই, পুল এবং কালভার্টগুলো ভেঙ্গে ফেললেন যাতে করে পাক হানাদার বাহিনী সহজে হবিগঞ্জে প্রবেশ করতে না পারেন। এর পাশাপাশি তিনি ছেলেদেরকেও বললেন, সতর্ক থাকার জন্য। কারণ যে কোন মুহূর্তে পাকিস্তানীরা আক্রমণ করতে পারে। উনি আমাকে ডেকে সমস্ত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলেন। এরপর ২৬ জানুয়ারি তিনি আমাকে আবার তার বাসায় ডাকলেন। আমি উনার বাসায় গেলাম। বাসায় গিয়ে দেখলাম উনার বাসায় আরো লোকজন বসে আছেন। আমি ওদেরকে চিনি না। আর বাইরে আমাকে দেখে কয়েকটি ছেলে জয় বাংলা বলে ে াগান দিলো, আমিও জয় বাংলা বলে তাদের সাথে কক্ত মিলিয়ে রব সাহেবের বাসায় ঢুকলাম। এখানে একটি কথা বলে রাখা ভাল, তাহলো আমি রব সাহেবকে দাদা ভাই ডাকতাম। ঘরের মধ্যে যাবার পর দাদা আসলেন। তিনি বলেন, আজকেতো আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যেতে হবে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে।
আমি তখন কোন কিছু চিন্তাভাবনা করিনি। চিন্তা ভাবনা না করেই বলে ফেলালাম- ঠিক আছে আমি মুক্তিযুদ্ধে যাব। তিনি বললেন, আজকে বিকেলেই আমাদের যেতে হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কী করে? তখন উনি বললেন, আমি জিপ নিয়ে আসবো। উনার বাসায় যখন আমার সাথে কথা বলছিলেন তখন অন্যান্য ছেলেদের সঙ্গে ওখানে হবিগঞ্জের মানিক চৌধুরী ছিলেন। মানিক চৌধুরীকে আমি চিনতাম না। মানিক চৌধুরী বাচ্চা ছেলে কিন্তু খুবই ডেয়ারিং ছেলে। জীপের সামনে আমি, দাদা, মানিক চৌধুরী এবং ড্রাইভার। পিছনে ছিলো কয়েকটি ছেলে। যারা পিছনে ছিলো তাদের হাতে ছিলো বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার। আমি তখন তাদেরকে বললাম এইগুলো কী ধরনের হাতিয়ার? যেখানে পৌঁছার কথা ছিলো সেখানে পৌঁছালাম আমরা অনেক রাতে। আমাদের যাবার কথা ছিলো শায়েস্তাগঞ্জে। কথা ছিলো শায়েস্তাগঞ্জের একটি চা বাগানে বিকেলে তৎকালীন মেজর (পরবর্তীতে জেনারেল) খালেদ মোশাররফ আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন। মেজর খালেদ মোশাররফকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো শমসের নগরে ডিফেন্স নেয়ার জন্য। পরে শুনেছি শমসের নগরে পাকিস্তানীরা ডিফেন্স নিয়েছে। তাদের প্রতিহত করার জন্যই মেজর খালেদ মোশাররফকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। কথা ছিলো মেজর খালেদ মোশাররফ আমাদের সঙ্গে দেখা করেই কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে যাবেন। সেখানেই পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ছক তৈরী হবে। এটা ছিলো মেজর খালেদ মোশাররফের প্ল্যান। আমারও তাদের সঙ্গে যাবার কথা ছিলো। আমাদের না পেয়েই তিনি চলে যান কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের দিকে। দেরিতে পোঁছার কারণে মেজর খালেদ মোশাররফের সাথে আমাদের দেখা হলো না। রাস্তা খোদাই এবং পুল ও কালভার্টগুলো ভেঙ্গে ফেলার কারণে আমাদের যেতে দেরী হয়ে যায়। মেজর খালেদ মোশাররফের সঙ্গে দেখা হলো না, আমরা রশিদপুরে যাত্রা বিরতি করলাম রাতে। এই সময় আমি ভাবলাম আমার কাছে তো সৈন্য সংখ্যা দেড় শ’র মত হবে। দাদা তাদেরকে অর্গানাইজ করেছিলেন। আর অস্ত্রের মধ্যে ছিলো- থ্রি নট থ্রি রাইফেল। এই পুরানো অস্ত্রগুলোও দাদা সংগ্রহ করলেন। আমি ভাবলাম এই অস্ত্র এবং সৈন্য আমি পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো কি করে? তখন দাদা বললেন, দেখি আমি মেজর খালেদ মোশাররফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি কিনা? জেনারেল খালেদ মোশাররফের সঙ্গে দেখা হলো না, কথাও হলো না।
ঠিকানা: মেজর খালেদ মোশাররফের সঙ্গে যখন দেখা হলো না তখন কি করলেন?
সি আর দত্ত: মেজর খালেদ মোশাররফের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় আমি শঙ্কিত হয়ে গেলাম। এই অল্প অস্ত্র এবং অল্প সৈন্য নিয়ে আমি কীভাবে সিলেট দখল করবো। আমি পরিস্থিতি দাদাকে বললাম- এই নিয়ে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে লড়াই করা আমার জন্য অসুবিধা হবে। এই সব চিন্তা করছি, আর আমরা আস্তে আস্তে এগুচ্ছি এবং মৌলভীবাজারে পৌঁছালাম। আমি তখন মৌলভীবাজারকে সেন্টার করলাম। ঐ সময়ে যারা পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন তাদের সবার কাছেই পর্যাপ্ত অস্ত্র ছিলো একমাত্র আমি ছাড়া। খালেদ মোশাররফের কাছে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অস্ত্র ছিলো, সফি উল্যাহর কাছে বেঙ্গল রেজিমেন্টের ছিলো আর অন্যদের কাছে ছিলো ইপিআরের অস্ত্র। আমি একমাত্র লোক ছিলাম যার সঙ্গে কোন লিঙ্ক ছিলো না, ছিলো না তেমন কোন অস্ত্র। তাছাড়া আমি এসেছিলাম ছুটিতে। দাদা যখন আমাকে নির্দেশ দিলেন- তখন দাদাকে আমি বললাম- আই উড ট্রাই মাই বেস্ট। কারণ আমি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবই। মৌলভীবাজার থেকে অগ্রসর হওয়া আমার জন্য কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালো। কারণ মৌলভীবাজারে পাকিস্তানীদের একটি শক্ত ঘাঁটি রয়েছে শেরপুর- সাদিপুর নদীর পাড়ে। আমি দাদাকে বললাম, দাদা এই অস্ত্র এবং সৈন্য নিয়ে আমি এগুতে পারবো না, আমাকে সাহায্য করতে হবে। আমার সঙ্গে মানিক চৌধুরীও ছিলো। দাদা আমার কথা শুনে বললেন, ঠিক আছে আমি ব্যবস্থা করছি। দাদা চলে গেলেন, ঐ এলাকায় ইপিআরের যত লোক ছিলেন তাদের একত্রিত করলেন এবং অস্ত্র যা পেয়েছেন তা নিয়ে এসে দাদা আমাকে বললেন- দেখ আমি অস্ত্র এবং সৈন্য নিয়ে এসেছি। আমার তখন প্রায় ৪ শ’র মত অস্ত্র এসে গেছে।
ঠিকানা: আপনি কেন পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেন? আপনি তো পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন? আপনি এত বড় সিদ্ধান্ত নিলেন কেন? তখন তো বলা যাচ্ছিলো না বাংলাদেশ স্বাধীন হবে কি হবে না?
সি আর দত্ত: সত্যি কথা যদি বলি তাহলে বলতে হবে ঘৃণার কারণে। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যখন পাকিস্তান আর্মিতে জয়েন করি, তখন আমিই একমাত্র হিন্দু অফিসার। একবার পূজো শেষে আমার মা আমার হাতে একটি আশির্বাদের ফিতা বেঁধে দিলেন। এই ফিতা দেখে আমার কমান্ডার আমাকে শুরুতেই বলেছিলো- ’ইউ বেটার টেক ইট আউট’। আমি তখন তাকে উত্তর দিয়েছিলাম- ’সরি, আই ক্যান নট। আমার মা আমাকে এটা দিয়েছেন। আমি এটা ফেলতে পারবো না।’ আর একটা ঘটনা হলো- জেনারেল আইয়ূব খানের বিরুদ্ধেও আমি রুঢ় রিপ্লাই করেছিলাম। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে যখন যুদ্ধ হলো ১৯৬৫ সালে। তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লালবাহাদুর শাস্ত্রী। যিনি চুক্তি করতে গিয়ে রাশিয়ায় মারা যান। এখানে একটি কথা বলে রাখা ভাল ভারত – পাকিস্তান যতবার যুদ্ধ হয়েছিলো তত বারই পাকিস্তান হেরেছিলো। সে যাই হোক, যুদ্ধের পর পাকিস্তান আর্মির যত অফিসার ছিলো তাদের নিয়ে মিটিং করা হলো। সেই মিটিং এ আমিও ছিলাম। সবাই বক্তব্য দিচ্ছে হিন্দুদের গালি দিয়ে। জেনারেল আইয়ুব খানও হিন্দুদের গালি দিয়ে বক্তব্য রাখলেন। বক্তব্যের পর সবাই জিজ্ঞেস করে তোমাদের কোন প্রশ্ন আছে কি না। কয়েকজন প্রশ্ন করলেন এবং বক্তব্য দিলেন। সব শেষে আমি দাঁড়িয়ে গেলাম এবং বললাম, মিস্টার প্রেসিডেন্ট আই হ্যাভ এ ওয়ান কোশ্চেন( প্রশ্ন)। তিনি বললেন, গো হেড। তখন আমি বলি, ইউ আর এ প্রেসিডেন্ট অব দা কান্ট্রি, তোমার প্রতিটি শব্দ কাউন্ট হয়। তুমি একজন প্রেসিডেন্ট হয়ে তোমার পুরো বক্তব্যে বিশ্বের সকল হিন্দুকে গালি দিলে। আমি ইস্ট পাকিস্তানের একজন অফিসার। আমার নাম চিত্ত রঞ্জন দত্ত। তুমি যখনই হিন্দু সম্প্রদায়ের কথা বলেছো তখন তোমার বলা উচিত ছিলো ভারতীয় হিন্দুদের কথা। সমস্ত বিশ্বের হিন্দুদের নয়- এ্যাম আই রাইট স্যার? তখন তার মুখ লাল হয়ে গেল। বললো- ইয়েস ইয়েস। আমিতো মনে করেছিলাম আমার চাকরি চলে গেছে। তারপরে সার্কুলার আসলো-পরবর্তী মিটিংগুলোতে কে কে আসবে তা একটি লিস্ট আগেই দিতে হবে। আমার মনে এই জিনিসগুলো থেকে গিয়েছিলো।
ঠিকানা: মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কেমন ছিলো?
সি আর দত্ত: মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার যে মানসিকতা- তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করানো যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের অবদানই ছিলো সবচেয়ে বেশি। এত অল্প সময়ের মধ্যে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে তৈরী হওয়া সত্যিই কল্পনাতীত। আমি সিভিলিয়ানদের কাছ থেকে যা পেয়েছি তা সত্যিই বিস্ময়কর। তারা আমাকে বলেছে, দাদা শুধু আপনি বলে দিন আমাদের কী করতে হবে।
ঠিকানা: অস্ত্র পাওয়ার পর কী করলেন?
সি আর দত্ত: অস্ত্র পাওয়ার পর আমরা পাকিস্তানী ঘাঁটির দিকে এগুতে থাকলাম। আমরা এর মধ্যে ছোটখাট দুই একটা বাধার সম্মুখীন হলাম। পাকিস্তানীরা মাঝে মধ্যেই গুলির শব্দ করতো এবং আর্টিলারী সেল বা মার্টাল সেল নিক্ষেপ করতো কিন্তু সত্যিকারের যে এ্যাটাক করবে পাকিস্তানীরা বা মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলো আক্রমণের জন্য- তা আমার কাছে মনে হলো না। আমি তখন চিন্তা করলাম, নিশ্চয় মৌলভীবাজারের মনু এবং সিলেটের সুরমা নদী পাড়ে তারা ডিফেন্স নিবে এবং আমাকে আর এগুতে দেবে না। আমাকে তারা মৌলভীবাজারেই শেষ করে দেবে। আমি তখন রব ভাইকে বললাম আমাকে আরো সৈন্য দিতে হবে। তিনি আমার কথা শুনে ইপিআরের ছেলেদের নিয়ে আসলেন। তাদের পেয়ে আমি সবাইকে নিয়ে এগুতে থাকলাম, সাহস পেলাম ট্রেইনড সৈন্যদের পেয়ে। মাঝে মধ্যে তাদের সাথে সংঘর্ষ হলো। আমরা এগিয়ে চললাম। পাকিস্তানীদের যুদ্ধের ধরণ দেখে মনে হয়েছে তারা শুধু আমাকে থামাবার জন্য কৌশল নিয়েছে। সুরমা এবং মনু নদীর পাড়ে ছোট ছোট বাধা দিয়েছে। আমরা সেই সব বাধা পার হয়ে গেলাম এবং সিলেট দখলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সুরমা দখল করে ঐখানে ডিফেন্স নিলাম। সুরমার পাশে ছিলো তামাবিল বর্ডার। বর্ডারের দায়িত্বে ছিলেন মেজর মোতালেব। মেজর মোতালেবের সাহায্য নিই আমরা। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমাকে সিলেট শত্রুমুক্ত করতে হবে। এর মধ্যে আমি যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তন করে একটি ট্রুপসকে আখালিয়ার দিকে পাঠিয়ে দিলাম। আরেকটা গ্রুপ তামাবিলের দিকে পাঠালাম। আখালিয়ায় ছিলো বিডিআরের হেডকোয়ার্টার। আমার প্ল্যান ছিলো সবাই চারিদিক থেকে সিলেট আক্রমণ করবো। পাকিস্তানীরা প্রস্তুতি নিচ্ছে আমাদের উপর আঘাত হানার। আমরা সুরমার পাড়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি সিলেটের দিকে অগ্রসর হবার জন্য। এই সময় চতুর্দিক থেকে পাকিস্তানীরা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। শুরু করলো গোলাবারুদ নিক্ষেপ এবং মর্টার আক্রমণ আর সেই সাথে আকাশ পথে বিমান আমক্রনও শুরু করলো। আমরা তখন সুরমার পাড়ে থাকতে পারলাম না। কারণ পাকিস্তানীদের কাছে যে অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিলো তার কিছুই আমাদের কাছে ছিলো না। আমরা পারলাম না। তারা যখন এয়ার এ্যাটাক শুরু করলো, আমি আর সহ্য করতে পারলাম না। আমরা পিছনে চলে আসলাম। ভারতের বর্ডারে। ভারতের শেওলাসুতার কান্ধিতে চলে আসলাম এবং ভারতের বর্ডার ক্রস করলাম। বর্ডার ক্রস করার ফলে আমি ভারতের সাহায্য পেলাম। আমাকে তারা ডাকে এবং আমার কী কী প্রয়োজন তা তারা দিতে সম্মত হয়। তারা বললো আমরা তোমাকে সব ধরনের সহযোগিতা দেব। আমি কখন শেওলাসুতারকান্ধিতে সেল্টার এবং ডিফেন্স নিলাম। সেখানে বসেই আমি আমার সেক্টরকে ছয়টা সেক্টরে ভাগ করলাম। এই ছয়টা সেক্টরে আমি সেক্টর কমান্ডার এবং সাব সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করলাম। আমি হেডকোয়ার্টার করলাম বারাপুঞ্জিতে। এর মধ্যে আমরা দু’ একটা এ্যাটাক করেছি। এইভাবে মে- জুন- জুলাই পর্যন্ত ছোটখাট যুদ্ধ করেছি। তিনি কথা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা যারা প্রথম দিকে যুদ্ধ করেছি তাদের মধ্যে কোন যোগাযোগ বা কো- অর্ডিনেশন ছিলো না। যাকে বলা যায় ডিস- কো- অর্ডিনেশন এবং অর্ডার দেয়ার মতও কোন লোক ছিলো না। নিজেরা নিজেদের মত করে যুদ্ধ করে গেলাম। আমি যে শেওলাসুতারকান্ধিতে ডিফেন্স নিলাম, বাকিরাও নিজেদের মত করে ডিফেন্স নিয়েছেন। এর মধ্যে আমার কাছে খবর এলো জেনারেল ওসমানী এসেছেন। তিনি দায়িত্ব নিলেন এবং তিনি সিলেটকে ছয় সেক্টরে ভাগ করলেন এবং দেশকে ১১ সেক্টরে ভাগ করলেন। আমার সিলেট চার নম্বর সেক্টর। এই সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হলো আমাকে। আমার এলাকা হলো- তামাবিল থেকে শুরু করে আগরতলার খোয়াই পর্যন্ত। আমার এলাকায় ছিলো টি গার্ডেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন, পাকিস্তানীরা যেন কোন চা এক্সপোর্ট করতে না পারে, ইউ হ্যাভ টু স্টপ দ্যাট। একই সময়ে আরো বলা হলো চা কারখানাগুলো ধ্বংস করার জন্য। এটা অত্যন্ত কঠিন কাজ।
ঠিকানা: যুদ্ধের সময় আপনার সব চেয়ে ভয়ঙ্কর ও আলোচিত অপারেশন কোনটি?
সি আর দত্ত: যুদ্ধের প্রতিটি অপারেশনই আলোচিত। আমাদের পুরো মুক্তির সংগ্রামই ছিলো স্মরণীয় এবং বরণীয়। তবে তার মধ্যেও যে অপারেশনটি ছিলো সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সেটি হচ্ছে- লাতু অপারেশন। লাতুর অপারেশন ছিলো এ রকম- পাকিস্তানীরা লাতুর অপজিটে পজিশন নিলো। স্থানটি ছিলো বড়লেখা- জুড়ির দিকে। পাকিস্তানীদের অবস্থান উঁচু পাহাড়ের চূড়ায়। আমরা যদি এই জায়গাটি দখল না করি তাহলে আমি আর অগ্রসর হতে পারছি না। আমার পক্ষে জুড়ি বা সিলেটের দিকে আগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়। আমার রাস্তা বন্ধ। আমি চিন্তা করলাম যেভাবেই হোক এটা আমাকে দখল করতেই হবে। যে জন্য আমি তৎকালীন মেজর এবং এখন জেনারেল রব তাকে চার্জ দিলাম লাতু অপারেশনের জন্য। মেজর রব এই অপারেশন পরিচালনা করলেন যা ছিলো তাই নিয়ে। আশ্চর্যের বিষয় হলো- লাতু অপারেশনটি সাকসেসফুল অপারেশন। আমরা আক্রমণ শুরু করলাম এবং ভারতীয়রা বললো আমার সাহয্যের দরকার আছে কি না। একদিকে আমরা পজিশন নিলাম অন্যদিকে ভারতীয়রা পজিশন নিলো। আক্রমণ শুরু হলো। আমরা আমক্রণ করলাম অপজিট থেকে ভারতীয়রা বোম্বিং শুরু করলো। ভারতীয়রা এমনভাবে বোম্বিং শুরু করলো যে পাকিস্তানীরা পিছু হটতে বাধ্য হলো। আমরা সাকসেসফুল হলাম, কুলাউড়াতে যাবার পথ পরিষ্কার হয়ে গেল।
ঠিকানা: কুলাউড়াতে আপনার উপর আক্রমণ চালানো হয়েছিলো এবং আপনি আহত হয়েছিলেন- সেই সম্পর্কে আপনি কিছু বলুন।
সি আর দত্ত: আমাকে ডাকা হলো। আমি কো- অর্ডিনেট করতে গেলাম। একজন অফিসার এলেন। আমাকে শিলচর নিয়ে গেলেন। শিলচর গিয়ে কথাবার্তা বললাম। কথাবার্তা শেষ করে আমি একটি জিপে করে আমার হেডকোয়ার্টারের দিকে আসছিলাম। আসার সময় কুলাউড়ায় আমার উপরে আক্রমণ চালালো। আমার গাড়ি উল্টে গেল। তারপরেও কোনভাবে আমি জিপ নিয়ে আমার ক্যাম্প বারাপুঞ্জিতে পৌঁছে গেলাম। তবে আমার উপরে যে আক্রমণ করেছে তাকে সাধারণ জনগণ ধরে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই খবর শুনার পর মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং যে আক্রমণ করেছিলো তাকে ধরে ফেলে।
ঠিকানা: আপনি জেনারেল বঙ্গবীর ওসমানীর ও জেনারেল রবের কথা বললেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের কথা ইতিহাসে তেমনভাবে আসেনি কেন?
সি আর দত্ত: দেশের মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা ছিলো প্রশ্নাতীত। আমার নেতৃত্বে যতগুলো অপারেশন হয়েছে তার নির্দেশ দিয়েছিলেন বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানী এবং জেনারেল রব। জেনারেল রব যদি না থাকতেন তাহলে আমার পক্ষে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিলো না। লাতু অপারেশনে জয়লাভ করার পর আমার আস্তে আস্তে সিলেটের দিকে অগ্রসর হলাম এবং ১৭ ডিসেম্বর আমরা সিলেট শত্রুমুক্ত করলাম। এটা সম্ভব হয়েছে- জেনারেল ওসমানীর কারণেই। সিলেট জয়ের পেছনে ওসমানীর অবদান অবিস্মরণীয়। কারণ তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন- ইউ হ্যাভ টু অকুপাই সিলেট, তোমার যা সাহায্য দরকার আমরা দিবো এবং তিনি সাহায্য করেছেন। আমাদের যা যা প্রয়োজন ছিলো তা তিনি দিয়েছেন। সুতরাং তার অবদান আছে একথা আমি বলতে দি¦ধা করবো না। এছাড়া সেক্টর কমান্ডার বানিয়েছেন জেনারেল ওসমানী। তিনিই শফি উল্যাহ, জিয়াউর রহমানসহ সবাইকে সেক্টর কমান্ডার বানিয়েছেন। জেনারেল ওসমানী যখন সমস্ত কামান্ডের দায়িত্ব নিলেন- সারা বাংলাদেশকে ১১ টা ভাগে ভাগ করলেন এবং ১১ জন সেক্টর কমান্ডারসহ সাব সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করলেন। আমাকে তিনি ৪ নম্বর সেক্টরের দায়িত্ব দিলেন। যুদ্ধের সময় সব সেক্টরে সমস্ত নির্দেশ ছিলো জেনারেল ওসমানীর। তিনি প্রসঙ্গক্রমে বলেন, কানাইঘাট অপারেশন ছিলো আরেকটি আলোচিত অপারেশন। আমি যখন তার নির্দেশে কানাইঘাট অপারেশন সফল করলাম জেনারেল ওসমানী আমাকে দেখতে এসেছিলেন। জেনারেল ওসমানীর অবদান ছিলো বলেই মুক্তিযোদ্ধারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো এবং বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলো।
ঠিকানা: জেনারেল ওসমানীর কাছে আত্মসমর্পন না করে জেনারেল নিয়াজী কেন অররার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলো- এর কারণ কি?
সি আর দত্ত: এ ব্যাপারে আমি যতটুকু শুনেছি, ’জেনারেল ওসমানী ওয়াজ অকুপাইড ইন সাম আদার অপারেশন। এটা জেনারেল ওসমানীর প্রতি ডিসরেসপেক্ট, আই ডোন্ট থিং সো। হি ওয়াজ রেসপেক্টেড অল টাইম- এটা আমি বলবো। আমি যখন কানাইঘাট অপারেশনে জিতলাম জেনারেল ওসমানী ওয়াজ দেয়ার। তার সঙ্গে একজন ভারতীয় কমান্ডারও ছিলো। সবাই একই সঙ্গে কো- অর্ডিনেট করেছে।
ঠিকানা: স্বাধীনতার ৩৬ বছর পরে স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি- বিপক্ষের শক্তি বলে জাতিকে যে বিভক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে- এটা আপনি কীভাবে দেখছেন?
সি আর দত্ত: আমি রাজনীতি বুঝি না এবং যেতেও চাই না। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোন কথাবার্তা আমি পছন্দ করি না।
ঠিকানা: বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?
সি আর দত্ত: বর্তমানে যারাই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। কারণ, আজকে এই পার্টি, কালকে ঐ পার্টি। এই পার্টিগুলো পালাবদল করে বাংলাদেশকে যে ভয়াবহ জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলো, তারা ক্ষমতা নিয়ে ভাল করেছেন, দেশকে রক্ষা করেছেন।
ঠিকানা: বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কী- দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার করা না কি দল এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা? সি আর দত্ত: দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার যে পদক্ষেগুলো নিচ্ছেন- তা আমার কাছে কারেক্ট লাইন বলেই মনে হয়েছে।
ঠিকানা: বঙ্গবুন্ধু শেখ মুজিব সম্পর্কে জামাতের আমীর নিজামী বলেছেন- বঙ্গবন্ধুকে স্থপতি বলা যায়, জাতির পিতা বলা যায় না- এই মন্তব্য সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?
সি আর দত্ত: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমি সব সময় শ্রদ্ধা করি। উনার কারণেই আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি। এটা আমাকে বলতেই হবে। উনিই লীড়ারশীপ দিয়েছেন। তাকে জাতির পিতা বলতে অসুবিধা কোথায়?
ঠিকানা: মুক্তিযুদ্ধে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী?
সি আর দত্ত: তিনি তো আমার মতই। অন্যান্য সেক্টর কমান্ডাররা যা করেছেন তিনিও তা করেছেন। আমিতো মেজর জিয়ার ঘোষণা শুনে মুক্তিযুদ্ধে যাইনি। আমি তার আগেই যুদ্ধে গিয়েছি এবং জিয়া কখন ঘোষণা করেছিলো তা আমি শুনিনি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিলো অনেক আগে থেকেই।
ঠিকানা: তাহলে জিয়ার ঘোষণা কী মিথ্যা?
সি আর দত্ত: জিয়ার ঘোষণা সত্য কী মিথ্যা তাতো আমি বলতে পারবো না।
ঠিকানা: আপনি তাহলে তার ঘোষণাটা শুনেননি?
সি আর দত্ত: শুনেছি। তবে পরে। জিয়ার ঘোষণটা ছিলো সম্ভবত ২৬/২৭ মার্চ। তখন তো বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছিলো। তাহলে কেন বলা হবে তার নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে- এটা তো ঠিক না।
ঠিকানা: বিএনপির সরকার মুক্তিযুদ্ধে আবদানের জন্য আপনিসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধদের নামে রাস্তার নামকরণ করেছে- আপনার মন্তব্য কী?
সি আর দত্ত: এটাতো ভালই লেগেছে।
ঠিকানা: দেশের দব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে মানুষের জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে- এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?
সি আর দত্ত: আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে চাইবো জিনিসপত্রে দাম কম থাকুক। তবে আমার মনে হয় যারা ক্ষমতায় আছেন তারা এটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
ঠিকানা: বঙ্গবন্ধুর সময়ে তিনি রক্ষীবাহিনী করেছিলেন। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন- এটা বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর বিকল্প- এই ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
সি আর দত্ত: রক্ষী বাহিনী করার দরকার ছিলো না।
ঠিকানা: বর্তমান প্রশাসনে সেনা বাহিনীর ভূমিকাকে আপনি কি বিধিসম্মত বা সংবিধান সম্মত মনে করেন?
সি আর দত্ত: অতীতে আমরা সব সময় দেখেছি, দেশের মধ্যে যখন কোন দুর্যোগ আসে তখন বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সাহায্য নেয়া হয়েছে এবং সাহায্য নিতে কোন আপত্তি থাকার তো কোন কারণ আমি দেখি না।
ঠিকানা: বর্তমান সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশকে সংকট থেকে উত্তরণ করতে পারবেন, না সংকট আরো বাড়াবেন- এই বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
সি আর দত্ত: যারা ক্ষমতায় আছেন তারা তো আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন সংকট নিরসনের জন্য। কেউ তো চাইবে না সংকট বাড়ানোর জন্য।
ঠিকানা: যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ দুইভাগে বিভক্ত- বিভিন্ন পত্র- পত্রিকায় এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিচ্ছেন- এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
সি আর দত্ত: আমার তো জানা নেই যে, যুক্তরাষ্ট্রে ঐক্য পরিষদ বিভক্ত। তবে আপনি যেহেতু বিভক্তির কথা বলছেন সেহেতু আমি সবার সাথে বসবো এবং এবার যাবার আগেই এ সমস্যার সমাধান করে যাবো।
ঠিকানা: আপনারা যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন- সেই স্বপ্নের সাথে বর্তমান বাংলাদেশের কতটুকু মিল খুঁজে পান- স্বপ্নের বাংলাদেশ আর বাস্তবতার বাংলাদেশ?
সি আর দত্ত: সরকারের যতটুকু করার তারা তো তা করছেন। সব সরকারই চেষ্টা করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে। সরকারগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কোন অবস্থান নিচ্ছেন না।
ঠিকানা: বাংলাদেশে উগ্র জঙ্গীবাদের উত্থানের কথা খুব জোরালোভাবেই শুনা যাচ্ছে- এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
সি আর দত্ত: এ বিষয়ে আমি কোন উত্তর দিতে পারবো না।
ঠিকানা: আপনার সময় কাটছে কীভাবে?
সি আর দত্ত: বই পড়ে সময় কাটাচ্ছি।
ঠিকানা: প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন কি?
সি আর দত্ত: বাংলাদেশকে সব সময় সাহায্য করুন। যখন যে কাজে দরকার সেই কাজটিই প্রবাসীদের করা উচিত।
ঠিকানা: আপনাকে ঠিকানা পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।
সি আর দত্ত: আপনাকে এবং ঠিকানা পরিবারের সকলকে ধন্যবাদ।
সি আর দত্তের তিন মেয়ে, এক ছেলে। ছেলের নাম- ড: চিরঞ্জীব দত্ত, নিউইয়র্কে থাকেন। বড় মেয়ে মহূয়া দত্ত নিউইয়র্কে, ব্যারিস্টার চয়নিকা দত্ত, কানাডায় এবং কবিতা দত্ত, ফ্লোরিড়ায়।