শেখ রেহানা, জয় প্রার্থী হচ্ছেন না

নিজস্ব প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার সক্রিয় রাজনীতিতে আসা এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগ্রহ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়েরও রাজনীতির ব্যাপারে গভীর আগ্রহ রয়েছে। বিদেশে থেকেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি মত প্রকাশ করে আসছেন। প্রাথমিক সদস্য পদ নেয়াসহ দলে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে তাকে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী করার ব্যাপারে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিপুল আগ্রহ রয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয়েরও আকাক্সক্ষা রয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা দু’জনই প্রার্থী হবেন বলে আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যাপক কথাবার্তা চলছে। কিন্তু তারা কেউই এবার নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না।
আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, কৌশলগত কারণেই শেখ রেহানা ও জয়কে দলের সক্রিয় ভূমিকা ও সরকার থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। জয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা পথে থাকলেও তিনি সরকারি বেতন, ভাতা, যানবাহন-সরকারি কোন সুযোগ-সুবিধাই নিচ্ছেন না। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার নেপথ্যে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। পিতৃভূমি পীরগঞ্জের প্রতি তার টানও যথেষ্ট। এলাকার মানুষেরও আগ্রহ রয়েছে প্রচুর। তাকে এখান থেকে প্রার্থী করতে চান তারা। যতদূর জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুত্র জয়কে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী করতে চান না। তিনি নিজেও আগামী মেয়াদের পর দলের সভাপতি পদ ও সরকারের থাকতে আগ্রহী নন। তাই জয়কে আগামীর জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। জয়কে সব রকম বিতর্কের উর্ধ্বে রাখতে চান। মন্ত্রী ও সরকারের কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এলে অনাকাক্সিক্ষত বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। অপরদিকে জাতীয় পার্টির এরশাদও পীরগঞ্জের আসনটি ছাড়তে রাজি নন। তবে জয় প্রার্থী হলে তিনিও অবস্থানে পরিবর্তন আনার মনোভাব সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ব্যক্ত করেছেন।
শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার সক্রিয় রাজনীতিতে আসার আগ্রহ রয়েছে। গোপালগঞ্জ থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহও ব্যক্ত করেন। কর্নেল (অব.) ফারুকের আসন থেকে নির্বাচন করার কথা উঠেছিল। শেখ রেহানার মানসিকতার পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। তারও বয়স এখন ৬৮। নিজে প্রার্থী না হয়ে পুত্রকে রাজনীতিতে আনতে চান। জাতীয় নির্বাচনেও অংশ নেবেন তার পুত্র। তবে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নয়, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। তার আগে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন।