শেখ হাসিনার হাতে যাদুর কাঠি!

নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী : দেশে রাজনৈতিক সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এ সংকটের সমাধান হবে, কী হবে না- এ নিয়ে সারাদেশে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে এখন সবার দৃষ্টি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দিকে। সংকট সমাধানের ঘোষণা দিয়ে শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু ও অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য তিনি কী সিদ্ধান্ত দেবেনÑ সবার আগ্রহ সে দিকে। কারণ চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা সমাধানের চাবি একমাত্র তার হাতেই রয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান দেবেনÑ এ অপেক্ষার প্রহর গুণছে দেশবাসী। এদিকে ঐক্যফ্রন্ট সমাধান না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে চাইছে। আলোচনায় সমাধান না হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ফের অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ৬ নভেম্বর, মঙ্গলবার, সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে যুক্তফ্রন্টের জনসভায় বলেছেন, আমরা সংলাপে বিশ্বাস করি। আমরা চাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জনগণের সমস্যার সমাধান হোক। জনগণ বন্দীদশা থেকে মুক্তি পাক। কিন্তু এটা নিয়ে কোন নাটক করলে চলবে না। আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে, সংসদ বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের জন্য একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করব, আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে, দেশ ও জনগণের স্বার্থে ৭ দফা দাবি মেনে নেবেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঐক্যফ্রন্ট একটু ছাড় দিলেই ৭২-৯৬ ঘন্টার মধ্যেই একটি পরিবর্তন আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতায় আশাবাদী। তাই তিনি সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তার ইচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট সংবিধানের বিধান মেনেই নির্বাচনে আসুক। এছাড়া আইনি বিষয়গুলো আদালতে মোকাবিলা করার বিষয়টিও মানতে হবে। তিনি সংবিধানের বাইরে কোন ছাড় দিতে রাজি নন।
এদিকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা সংকট সমাধানে এখনও পর্যন্ত আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। দু’পক্ষই সফলতা চাইলেও তার উদ্যোগ তারা তেমনভাবে নিতে পারেননি। তারা চাইছেন- যার যার মতো করে সমাধানের। ফলে আশার সম্ভাবনা ক্ষীণতর হওয়ায় টানেলের ও পাড়ে আলোর রেখা এখনও দেখা যাচ্ছে না। সরকার, রাজনীতিবিদ, নির্বাচন কমিশন সবাই মিলে আলোচনার টেবিলে ঝড় তুলছেন। যে যার মতো বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সমাধানের কোন আভাস মিলেনি।
চলতি সপ্তাহ বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। এই পয়েন্টে হঠাৎ করেই রাজনীতির মোড় ঘুরতে পারে। তা সত্বেও শঙ্কা এখনও কাটেনি।
আন্তর্জাতিক মহলও অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী ধরনের সমাধান আসে, সেটা দেখার জন্য। সংলাপ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটকে অনেকটাই সবর দেখা গেছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদেও কাছে যুক্তরাষ্ট্র কী চাইছে, তা স্পষ্ট করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মতো যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোও চাইছে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। তারা জনগণের চাওয়াকেই তারা প্রাধান্য দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ থেকেও চাপ আছে, যদিও তা তেমন জোরালো নয়। এর আগেরবার জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রতিনিধির মধ্যস্থতায় রাজনৈতিক সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, এবার তা হয়নি। নির্বাচনের বেশি সময় বাকি নেই। এ অবস্থায় সংকট সমাধান হতে হলে চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই হতে হবে। আর না হলে সংকট বাড়বে বৈ কমবে না।
সূত্র জানায়, শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনায় সমাধান হলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে সরকার ও সরকারি দলকে সমঝোতায় পৌঁছুতে হবে। আর না হলে তারা বিরোধী দলে বসার জন্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার পর। কারণ সরকার ও আওয়ামী লীগ মনে করছে তফসিলের আগে সমঝোতা না হলেও তফসিল ঘোষণা হয়ে গেলে অন্তত ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।
ঐক্যফ্রন্টের নেতারা মনে করছেন, সরকার তাদেরকে আন্দোলনের কর্মসূচি দিকে যেতে বাধ্য করবে না। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আগেই সমাধানের উদ্যোগ নেবে- সংবিধানের মধ্য থেকেই কীভাবে নির্বাচন করা যায়, যাতে করে দুই দলেরই সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়। হয়তো এ জন্য সরকার আরও কিছুদিন সময় নিতে পারে। সমাধানের জন্য আরও ছাড়ও দিতে পারে। দলের নেতারা যাই বলুক না কেন, তারাও প্রধানমন্ত্রীর দিকেই তাকিয়ে আছেন।