শেখ হাসিনা সরকার ডান্ডাবাজীতে বিশ্বাস করে না

ঠিকানার মুখোমুখি মহিউদ্দিন খান আলমগীর

সাঈদ- উর- রব: ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি আলোচিত নাম। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ছিলেন ডাকসাইটে আমলা। রাজনীতিতে তার আর্ভিভাব ঘটে জনতার মঞ্চের মাধ্যমে। অনেকের অভিযোগ মতে, চাকরিবিধি এবং শপথ ভেঙ্গে তিনি সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারিদের নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করে তৎকালীন বিএনপি সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে তারই পুরস্কার স্বরূপ আওয়ামী লীগ তাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিলো ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে। সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। মহিউদ্দিন খান আলমগীরও চাঁদপুরের মতলব থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য। রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে জেল- জুলুমেরও শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে ১/১১ এর ক্ষমতা পরিবর্তনের সাথে সাথেই টার্গেটকরা অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি তাকেও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তিনি প্রায় দুই বছরের মত জেলে ছিলেন। ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণ করার পর পরই তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন ও ফখরুদ্দিন সরকারের অনিয়মের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন। সংসদে এবং সংসদের বাইরে তিনি কঠোর সমালোচনা করেছেন ফখরুদ্দিন সরকারের ও দুর্নীতি দমন কমিশনের। তিনি ডিজিএফআইকে সরাসরি অভিযুক্ত করে জেলাখানায় তাকে যারা শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করেছে তাদের বিচার দাবি করেন প্রকাশ্যে। তিনি সম্প্রতি এক ব্যক্তিগত সফরে আমেরিকায় আসেন। আমেরিকায় অবস্থানকালে তিনি ঠিকানা অফিসে আসেন এবং ঠিকানাকে একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতকার প্রদান করেন। এই সাক্ষাতকারে তিনি বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান রাজনীতি, ১/১১ এর সৃষ্টির কারণ, ফখরুদ্দিন সরকারকে অবৈধ সরকার হিসাবে অভিহিত করে সংবিধান লংঘনের জন্যে তাদের শাস্তি, দুর্নীতি দমনের নামে রাজনীতিবিদদের জেলাখানায় নির্যাতন, একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের সেনা বাহিনীকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন এবং আগামীতে যাতে কেউ বাংলাদেশ সেনা বাহিনীকে নিজেদের ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠিগত স্বার্থে ব্যবহার করার সাহস না পায় তেমন দন্ড প্রদানের পক্ষে খোলাখুলি মতামত ব্যক্ত করেছেন। ঠিকানাকে দেয়া তার এই সুদীর্ঘ সাক্ষাতকারটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
ঠিকানা: আপনি আমেরিকায় ব্যক্তিগত সফরে না সরকারি সফরে এসেছেন?
মহিউদ্দিন খান আলমগীর: আমি ব্যক্তিগত সফরে আমেরিকায় এসেছি। আমার দুই ছেলে এখানে থাকে। মূলত: ওদের সাথে দেখা করতে এসেছি। ওদের সাথে দেখা করার পাশাপাশি এখানে আমার বন্ধু- বান্ধব যারা আছেন তাদের সাথেও দেখা করছি এবং বন্ধন দৃঢ় করার কাজ করে যাচ্ছি।
ঠিকানা: তাহলেতো সাংগঠনিকও বলা যায়?
ম. খা আলমগীর: ঠিক সাংগঠনিক বলা যায় না। সমাজে যেহেতু আমরা বাস করি সেহেতু সবার সাথে মিশা উচিত। সে কারণে আমি মনে করি এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং সামাজিক।
ঠিকানা: কেমন লাগছে?
ম. খা আলমগীর: প্রায় তিন বছর পরে এলাম। আরেক অর্থে জেলখানা থেকে বের হবার পরে প্রথম এলাম। এর আগেও ঠিকানায় এসেছিলাম। এখানে এসে পুরানো বন্ধু- বান্ধবদের পেয়ে আমার ভালই লাগছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সাথে বা বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করছেন, তাদের সাথে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে এগিয়ে যাবার উপকরণগুলো পাচ্ছি।
ঠিকানা: এখানে কোন সরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক বা দেখা হয়েছি কি?
ম. খা আলমগীর: কয়েকজনের সাথে কথাবার্তা বলেছি। এরমধ্যে ছিলো বাংলাদেশের উন্নয়ন ও তথাকথিত জঙ্গী প্রসঙ্গ। তারা বাংলাদেশের জঙ্গী সম্পর্কে উদ্বিগ্ন। তাদের কাছে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাখ্যা করেছি। জঙ্গীবাদ দমনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষ থেকে যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা রয়েছে সেটা ব্যাখ্যা করেছি।
ঠিকানা: বর্তমান সরকার সম্পর্কে আমেরিকার প্রশাসনের ধারণা কি?
ম. খা আলমগীর: তারা আশাবাদী। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মোড়কে গণতান্ত্রিকতা থেকে বাংলাদেশ দূরে সরে যাবার যে আশংকা সৃষ্টি হয়েছিলো, সেই আশংকা থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের ভিত্তি, একটি গণতান্ত্রিক সমাজ এগিয়ে নেয়ার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে এই সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঠিকানা: আপনি সংসদেও বলেছেন এবং সংসদের বাইরেও বলেছেন জেলখানার অত্যাচারের কথা এবং যারা অত্যাচার করেছে তাদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। আসলে জেলখানায় কী ধরনের অত্যাচার হয়েছিলো?
ম. খা আলমগীর: জেল জেলই। জেলে মানুষকে জামাই আদরে রাখা হয় না। অত্যাচার করা হয়, নির্যাতন করা হয়। তারচেয়ে বড় কথা এবারের জেলে আমরা যারা বন্দী ছিলাম। আমাদের রাজনৈতিক কারণে বন্দী করা হয়েছিলো- তাদের সবার উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিলো, এমনি কি নির্যাতন করা হয়েছিলো, অত্যাচার করা হয়েছিলো একটি স্বৈরতান্ত্রিক সরকারকে প্রলম্বিত করার জন্য একটি স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশে তৈরী করার জন্যে। আমি মনে করি এটাই সবচেয়ে বড় নির্যাতন। মানসিকভাবে এই ধরনের নির্যাতন সহ্য করা আমাদের পক্ষে কঠিন ছিলো। কিন্তু আমরা সহ্য করেছি। আমরা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত বা নতি স্বীকার করিনি। স্বৈরতন্ত্রের কাছে, স্বৈরতন্ত্রের মোড়কে যারা রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলো এবং রাজনৈতিক দলের একাংশ ভাড়া নিতে চেয়েছিলো তাদের কাছে। তাদেরকে আমরা প্রতিহত করতে সমর্থ হয়েছি।
ঠিকানা: শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়নি?
ম. খা আলমগীর: মানসিক ও শারীরিকভাবেও নির্যাতন করা হয়েছিলো।
ঠিকানা: যারা নির্যাতন করেছে তাদের কি চিনতে পেরেছেন?
ম. খা আলমগীর: যারা নির্যাতন করেছে তাদের অধিকাংশকে আমরা সনাক্ত করেছি। আমরা মনে করি তারা মানবাধিকার লংঘন করেছে, তাদের নির্যাতন করার কোন আইনগত ভিত্তি ছিলো না, কোন স্বাধীন বা গণতান্ত্রিক দেশে এই ধরনের নির্যাতন হতে পারে না। এই ধরনের নির্যাতন হওয়ার জন্য বাংলাদেশ সৃষ্টি করেননি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরাও এই বাংলাদেশের জন্য সংগ্রাম করিনি। কাজেই যারাই এই নির্যাতন করেছে তাদের সনাক্ত করে যথাসময়ে যথাযথভাবে আইনের সামনে দাঁড় করানোর জন্য আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
ঠিকানা: আপনি বলছেন যারা চাপ সৃষ্টি করেছে তাদের কাছে মাথা নত করেননি কিন্তু বাইরেতো শুনা যায় মাথা নত করেছিলেন বলেই আপনারা আজ মন্ত্রিসভার বাইরে?
ম. খা আলমগীর: এটা আমি মনে করি না। তারা আমাদের বলেছিল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিতে হবে। আমরা অস্বীকার করেছি, কোন দিন বিবৃতি দেইনি। তারা বলেছে ফেরদৌস কোরেশীর নেতৃত্বে রাজা দল সৃষ্টি করার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে, আমরা অংশগ্রহণ করিনি। তারা বলেছিল স্বৈরতান্ত্রিকতায় সমর্থন করতে হবে, আমরা সমর্থন করিনি। তারা বলেছিল, ফখরুদ্দিনের সরকার যাতে প্রলম্বিত হয় সেজন্য প্রচারধর্মী কাজে অংশ নিতে বলেছিল, আমরা তা করিনি। যারা জেলে গিয়েছিলেন, নির্যাতিত হয়েছিলেন তারা কিন্তু ঐ তথাকথিত সংস্কারবাদীও নন। সংস্কারবাদী তারাই যারা জেলের বাইরে ছিলেন এবং এই মূল্য দিয়েই তারা জেলের বাইরে ছিলেন। আমি মনে করি যারা সংস্কারবাদী হিসাবে জেলের বাইরে থেকে সাময়িকভাবে নির্যাতন এড়িয়ে চলেছেন তারা গণতান্ত্রিকতার অনুকূলে, দেশের স্বার্থের অনুকূলে তাদের আনুগত্য সকল সন্দেহের উর্ধে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হননি।
ঠিকানা: আপনাদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ ছিলো সেই সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
ম. খা আলমগীর: আমাদের বিরুদ্ধে সর্ব প্রথম যে অভিযোগ আনা হয়েছিলো সেটা হলো আমরা দুর্নীতিবাজ। ১৯৫৪ সাল থেকে শুরু করে তৎকালীন বাংলাদেশে যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়ে আসছিলো সেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করার জন্যে স্বৈরতান্ত্রিক গোষ্ঠি সব সময় দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে। ১৯৫৪ সালে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিলো, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান দুর্নীতির মোড়কেই নিজের শাসন প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং তা প্রলম্বিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৬২ সালেও তা দেখা গেছে, এয়াহিয়াও একই কথা বলেছেন, ঠিক তেমনি ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমানের সময় সেই দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে, জেনারেল এরশাদ যখন ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন তখন তিনি সাইকেলে চড়ে তার অফিসে যেয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সংগ্রামের কথা প্রকাশ করতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু জনসাধারণ রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খায় নি। এমনকি সরকারও দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। যে ৫২ জন রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীকে দুর্নীতির অভিযোগে তথাকথিত সম্পদের মামলা দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে লেলিয়ে দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছিলো, তাদের কারো বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। কাজেই এ কথা আমাদের মনে রাখা দরকার- তারা দুর্নীতি দমন কমিশনকে, দুর্নীতি দমন আইনকে নিজেদের গোষ্ঠিগত স্বার্থ উদ্ধার করার জন্যে, ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধার করার জন্যে, তাদের স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্যে ব্যবহার করার অপপ্রয়াস চালিয়েছিলো। সেই অপপ্রচার সফল হয়নি।
ঠিকানা: আপনাকে ১৯৯৬ এর হিরো বলা যায়- জনতার মঞ্চের আপনিই তো মূল ব্যক্তি। আওয়ামী লীগে আপনার এত বড় অবদানকে অস্বীকার করে আপনাকে মন্ত্রিসভার বাইরে কেন রাখা হয়েছে?
ম. খা আলমগীর: এ কথা সুষ্পষ্টভাবে আমি বিশ্বাস করি এবং সেই বিশ্বাসের কথা আমি ব্যক্ত করি- কোন প্রাপ্তির জন্য আমরা আন্দোলন করিনি, কোন প্রাপ্তির জন্য সংগ্রাম করিনি। আমাদের অনুগত্য বাংলাদেশের প্রতি, আমাদের আনুগত্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি, আমাদের আনুগত্য শেখ হাসিনার প্রতি। কাজেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশকে গড়ার জন্যে যে কার্যক্রমই গ্রহণ করা হোক না কেন সেই কার্যক্রমকে আমরা সমর্থন করবো। আমরা মন্ত্রী হবার জন্যে তো আন্দোলন করিনি। মন্ত্রী হবো বলেতো জেলে যাইনি। কাজেই এই প্রশ্নটি অবান্তর।
ঠিকানা: বাইরে প্রচার রয়েছে সংস্কারপন্থী বলেই যাদেরকে আওয়ামী লীগের মূল শক্তি ভাবা হয় যেমন আমির হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক এবং পরবর্তীকালে আপনিসহ আরো অনেকে- তাদেরকে বাদ রাখা এটাতো অকল্পনীয় বিষয়।
ম. খা আলমগীর: আপানি যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তাদের কথা তারা বলবেন। সংস্কারবাদীদের অনুকূলে আমি কোন পদক্ষেপ নিয়েছি- এই ধরনের অভিযোগ কিম্বা বিবৃতি কেউ দিতে বা বলতে পারবেন না- এটা আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি। আমি নিজস্ব স্বার্থের খাতিরে আদর্শকে কোন দিন দূরে সরিয়ে দিইনি। আমি আদর্শচ্যুত হইনি।
ঠিকানা: এখন আপনি বললেন আপনি শেখ হাসিনার নেতৃত্ব মেনে চলেন। ডিজিএফআই বা আর্মির যারা আপনাদের নির্যাতন করেছে বর্তমান সরকার তা যদি ওভারলুক করে বা চেপে যায় তাহলে আপনারা কি করবেন?
ম. খা আলমগীর: আমি বার বার বলেছি আমাদের যে সামরিক বাহিনী আছে এটা আমাদের নিরাপত্তার ধারক ও বাহক। আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আমাদের সামরিক বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের ভিতর দিয়ে প্রতিষ্ঠিত। তার একটি ঐতিহ্য আছে। এই সামরিক বাহিনীকে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্যে, দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্যে, যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং এদেরকে যথাযথভাবে সম্মান করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা দেখেছি সামরিক বাহিনীকে কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে বা গোষ্ঠিগত স্বার্থে ব্যবহার করতে চেয়েছিলো। সেই ব্যবহার করার প্রক্রিয়ায় তারা সফল হয়নি। আমি মনে করি যে ঘটনা বাংলাদেশে ঘটে গেছে তার প্রেক্ষিতে আর কোন দিন কোন ব্যক্তি বিশেষ কিংবা গোষ্ঠি বিশেষ সামরিক বাহিনীকে নিজের বা গোষ্ঠিগত স্বার্থে ব্যবহার করতে স্পর্ধা দেখাতে সক্ষম হবে না। সামরিক বাহিনীর ঐতিহ্য সমুজ্জ্বল থাকবে এবং সামরিক বাহিনীর দেশপ্রেম রক্ষা করার জন্য শেখ হাসিনার সরকার বদ্ধপরিকর।
ঠিকানা: আপনি সেনা বাহিনীর যে ঐতিহ্যের কথা, ভাবমূর্তির কথা বলছেন- জেনারেল মঈনের যে ভূমিকা সেটা কী সম্পূরক সেনা বাহিনীর ভূমিকা সমুজ্জ্বল রাখার ক্ষেত্রে?
ম. খা আলমগীর: এটা আপনি মঈনকে জিজ্ঞেস করুন।
ঠিকানা: একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে আপনার বক্তব্য কী?
ম. খা আলমগীর: আমিতো আগেই বলেছি কতিপয় ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠি বিশেষের স্বার্থ রক্ষা করার জন্যে সামরিক বাহিনীকে বাংলাদেশে কয়েকবার ব্যবহার করেছে। কিন্তু সামরিক বাহিনী আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক, সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এটার ঐহিত্য রক্ষায় আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমরা কোন ব্যক্তি বিশেষ কিংবা গোষ্ঠি বিশেষকে নিয়ে সামরিক বাহিনীর ঐতিহ্য- মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান, দেশ রক্ষায় তাদের অবদান নষ্ট হতে দেব না।
ঠিকানা: বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে সেনা বাহিনীর কিছু লোকজন, জিয়াকে হত্যা করেছে সেনা বহিনীর কিছু লোকজন, স্বৈরাচারি এরশাদের ক্ষমতা দখল এবং সর্বশেষ ১/১১ এ সেনা বাহিনীর যে ভূমিকা ছিলো তাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ম. খা আলমগীর: বঙ্গবন্ধুকে সেনা বাহিনীর কতিপয় বিপদগামী উচ্চাভিলাসী অফিসার হত্যা করেছে। এর জন্য আমি নিন্দা জ্ঞাপন করি। যারা মেরেছে তাদের বিচার করেছি। বিচারে তারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হবে। জিয়াউর রহমান যেভাবে ক্ষমতা দখল করেছেন সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে, সেটাকেও আমরা পছন্দ করি না। এরশাদ যেভাবে ক্ষমতা দখল করেছেন সেটাও সমর্থন এবং পছন্দ করিনি। আমরা মনে করি পরবর্তীকালে যারা সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে চেয়েছেন তারা এরশাদ বা জিয়ার মত সফল হননি। এর অর্থ হলো সামরিক বাহিনীকে কোন ব্যক্তি বিশেষ কিংবা গোষ্ঠি বিশেষ আমাদের দেশে ব্যবহার করার মত স্পর্ধা ভবিষ্যতে দেখাবেন না।
ঠিকানা: আপনি বলেছেন ১/১১ যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন তারা গণতন্ত্রকে নষ্ট করার জন্যে এসেছিলো, রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে নষ্ট করার জন্যে এসেছিলো এবং সবাই জানে এটার পিছনে সরাসরি সমর্থন জুগিয়েছেন জেনারেল মঈন। তার সম্পর্কে যখন প্রশ্ন করা হচ্ছে আপনি বলছেন যে- তাকে জিজ্ঞেস করুন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে আপনার কি কোন বক্তব্য থাকবে না?
ম. খা আলমগীর: আমার বক্তব্য কিন্তু সুস্পষ্ট। আমি মনে করি সামরিক বাহিনীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার কোন এখতিয়ার নেই, আইনগত কোন বৈধতা নেই। কাজেই কোন ব্যক্তি বিশেষ বা গোষ্ঠি বিশেষের তরফ থেকে সামরিক বাহিনী বা সামরিক বাহিনীর কোন অংশকে যদি এ ভাবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালানো হয়, তার জন্য আমি নিন্দা করি এবং সেটা আমরা কোন কালেই সহ্য করবো না। ফখরুদ্দিন আহমেদের তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই এই ধরনের অপব্যবহার করার কতিপয় অপচেষ্টা প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা সেটা সমর্থন করিনি, দেশবাসীও সমর্থন করেনি। যার ফলশ্রুতিতে নির্বাচন হয়েছে এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তবে এ কথা যোগ করতে চাই- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার লংঘন করা, মানুষের উপর নির্যাতন করা, অত্যাচার করা, যারা সক্রিয়ভাবে আইন বিরুদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করেছে তাদের তদন্ত যথা সময়ে হওয়া উচিত এবং তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।
ঠিকানা: অনেক সময়ই অভিযোগ শুনা যায় সামরিক সরকার বা উচ্চাবিলাষী কিছু জেনারেলের সাথে আঁতাত করে বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় এসেছেন। এই বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
ম. খা আলমগীর: শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে এসেছেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুযায়ী নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের সমর্থনের ভিত্তিতে। তারা ভোট দিয়ে শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে জয়ী করেছেন। যার ফলে তিনি এসেছেন। কাজেই তার জয়ের পিছনে কোন গোষ্ঠি বিশেষ কিংবা ব্যক্তি বিশেষ কিংবা সামরিক বাহিনী সহায়তা করেছে তা আমি বিশ্বাস করি না। বিশ্বাস করার কোন কারণও নেই। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলেছি যেখানেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্পর্শে এসেছি সেখানেই বলেছি সামরিক বাহিনী বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আমাদেরকে রাজনৈতিক দল হিসাবে সমর্থন করবে এটা আমরা চাই না। সেনা বাহিনী নিরপেক্ষ থাকবে এবং দেশ রক্ষা করার দায়িত্বে থাকবে। এর বাইরে তাদের অন্য কোন ভূমিকা নেই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম কিন্তু সেনা ছাউনীতে নয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কখনোই সেনা বাহিনীকে বা নিরাপত্তা বাহিনীকে নিজের কাজে ব্যবহার করেনি এবং ব্যবহার করতে চাইবেও না। এটা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পরিপন্থী, এটা শেখ হাসিনার নীতির পরিপন্থী, আমরা নীতি রক্ষা করার জন্য আমাদের যা করণীয় আমরা নিশ্চয় তা করবো।
ঠিকানা: ১/১১ এর সরকার ক্ষমতায় আসা এবং দুই বছর ক্ষমতায় থাকাটাকে আপনি কি বৈধ বলে মনে করেন?
ম. খা আলমগীর: আমি মনে করি ১/১১তে যারা ক্ষমতা দখল করেছে বা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে তারা ক্ষমতায় এসেছে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন এবং তার তল্পীবাহকদের আইন পরিপন্থী কাজের ফলশ্রুতি হিসাবে। যখন পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নসাৎ করে একটি রাজনৈতিক দল তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চেয়েছিলো তখন জনগণ এর প্রতিবাদ করেছে, প্রতিরোধ করেছে। এই প্রতিবাদ, প্রতিরোধের ফলশ্রুতিতে ১/১১ ঘটনা ঘটেছে এবং ১/১১-এর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব ছিলো পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা। আমি মনে করবো প্রাথমিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও ১/১১ এর পর যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই সরকার যদি তারপরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতো তাহলে এই সরকার সম্পর্কে আমাদের বলার কিছু ছিলো না। কিন্তু তিন মাসের পরে তারা নিজেদেরকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রেখে সংবিধান লংঘন করেছে। এই কাজটি তাদের করা উচিত হয়নি।
ঠিকানা: ১/১১ এ যারা ক্ষমতায় এসেছে তাদের মূল এজেন্ডাতো রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো না, ছিলো অন্য কিছু। আপনার মন্তব্য কী?
ম. খা আলমগীর: এটা তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো না এ কথা সত্যি। কোন মতেই ছিলো না, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তারা করেছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করেছেন বলেই তারা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সফল হতে পারেনি। আরেকটি কথা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই- বাংলাদেশের গত সোয়া দুই বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ হলো তারা যারা স্বৈরতান্ত্রিক সরকারকে প্রলম্বিত করেছিলো। তারা পুরো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে, দুর্নীতি দমন কমিশনকে, সরকারের প্রতিটি বিভাগকে, আইন- শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চেয়েছিলো। আইন বহির্ভূত কাজগুলোই হলো সবচেয়ে বড় দুর্নীতি। এটা রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি।
ঠিকানা: কারা এই কাজটি করেছে?
ম. খা আলমগীর: একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র এই কাজটি করেছিলো। এই প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ভিতর কিছু স্বার্থন্বেষীমহল যারা নিরাপত্তা বাহিনীর মোড়কে সামনে এসেছিলো। তারা সংশ্লিষ্ট হয়ে নির্বাচনের বাইরে নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চেয়েছিলো। এদের সাথে ছিলেন তথাকথিত সুশীল সমাজের কতিপয় ধামাধরা ভাড়াটে লোক। এরা মনে করেছিলো নির্বাচনের বাইরে তারা এসে সরকারের উপদেষ্টা হবে।
ঠিকানা: ১/১১ রাজনীতিবিদদের জন্য একটা শিক্ষা ছিলো। তাদের কী করা উচিত এবং কীভাবে চলা উচিত। আমরা কি তা দেখতে পাচ্ছি?
ম. খা আলমগীর: একটা বাণী বা ম্যাসেজ তো নিশ্চয় আছে। ম্যাসেজটি হলো একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে দেশের স্বার্থকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। যেখানে সহযোগিতা করা প্রয়োজন তা করতে হবে। রাজনীতি সহমর্মিতা এবং সহিষ্ণুতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে। আমি মনে করি এটা ১/১১ অবদান নয়। বাংলাদেশের ইতিহাস যদি পর্যালোচনা করি তাহলে দেখতে পাবো গণতান্ত্রিক শক্তির বিকাশের প্রক্রিয়ায় এই প্রয়োজনটি বার বার উত্থাপিত হয়েছে, নজরে এসেছে। ১/১১’র সময় এই প্রয়োজনটি আরো সোচ্চারভাবে সকলের সামনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত সোয়া দুই বছরের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তার আলোকে যে অভিজ্ঞতা রাজনীতিবিদদের হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাটি হলো সকল কিছুর উর্ধে দেশের স্বার্থকে স্থান দেয়া। গণতান্ত্রিক বা বহুবাচনিক সমাজে মতদ্বৈততা থাকবে, মতানৈক্য থাকবে কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে মনান্তর থাকবে।
ঠিকানা: এখন কি আপনি সেটা দেখতে পাচ্ছেন?
ম. খা আলমগীর: আমি দেখতে পাচ্ছি। সংসদে আমরা ঐক্যমতে পৌঁছেছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জারিকৃত অবৈধ অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের ক্ষেত্রেও আমরা ঐক্যমত দেখেছি। তেমনি সংসদীয় কমিটিগুলোও কাজ করছে। দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রশ্নেও ঐক্যমত দেখতে পাচ্ছি। আমরা মনে করি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যে প্রক্রিয়ায় দেশ শাসিত হচ্ছিলো সে প্রক্রিয়া থেকে আমরা অনেক দূরে সরে এসে গণতান্ত্রিকতাকে অধিকতর মূল্য দিয়েছি।
ঠিকানা: গত দুই বছর যে অন্যায় কাজগুলো হয়েছে- এই অন্যায় কাজগুলোর বিচার কি বর্তমান সরকার করতে পারবে বলে আপনি মনে করেন?
ম. খা আলমগীর: কতগুলো অন্যায় কাজের বিচারতো করতেই হবে। যেমন ধরুন দুর্নীতি দমন কমিশনকে মানুষের মৌলিক অধিকার লংঘনে ব্যবহার করা, আইন লংঘন করার অপরাধী যারা তাদের বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত। মানুষের উপর গ্রামেগঞ্জে যে অত্যাচার, নির্যাতন চলেছে, হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, মা বোনদের উপর নির্যাতন করা হয়েছে, চাঁদাবাজি চলছে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়া হয়েছে- এই সব কাজ যারা করেছে তাদের চিহ্নিত করে বিচার করা উচিত। সব চেয়ে বড় কথা হচ্ছে- যারা সংবিধান লংঘন করেছে, দেশের সর্বোচ্চ আইন লংঘন করেছে তাদের ভূমিকা জনতার সামনে এনে এমনভাবে তাদের বিচার করতে হবে যাতে আগামীতে কেউ সংবিধান লংঘনের সাহস না পায়।
ঠিকানা: বর্তমান সরকারের সেই সমর্থন বা ইচ্ছা আছে কী?
ম. খা. আলমগীর: আমরা কোন ডান্ডবাজির কাজে বিশ্বাস করি না। শেখ হাসিনার সরকার ডান্ডাবাজিতে বিশ্বাস করে না। কাজেই যারা অন্যায় করেছে, অপরাধ করেছে তাদেরকে আমরা দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করতে চাই। প্রচলিত আইনে বিচার করার ক্ষেত্রে দেখা যায় হয়ত দেরী হচ্ছে কিন্তু আমরা কারো মানবাধিকার লংঘন করে ব্যক্তি বিশেষকে শাস্তি দিতে চাই না। সে জন্য মানবাধিকার রক্ষা করে আমরা এই ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা এ কথা জানি কোন একটি অবিচার দিয়ে আরেকটি অবিচারের বিচার করা যায় না, নিষ্পতি করা যায় না। যারা অবিচার করেছে, নির্যাতন করেছে তাদের উপর আমরা আবার অবিচার ও নির্যাতনের উপকরণ ছড়িয়ে দিয়ে বিচার করতে পারবো না। আমরা মনে রাখছি মার্টিন লুথার কিং- এর সেই বিখ্যাত উক্তিটি- ইনজাস্টিস এ্যানি হোয়ার ইজ থ্রেট টু জাস্টিস এভরি হোয়ার। কাজেই আমরা জ্ঞানত কোন ক্ষেত্রে অবিচার করবো না, আমরা বিচারের কাজ বিচারের প্রক্রিয়া অনুযায়ী এমনভাবে করবো যাতে বিচার প্রক্রিয়ায় জনগণের বিশ্বাস পুন:স্থাপিত হয়, জনগণ বিচারে আস্থা রাখতে পারেন। সরকারের যে প্রক্রিয়া আছে রাষ্ট্রের যে প্রক্রিয়া আছে সেই প্রক্রিয়ায় আস্থাশীল থাকেন।
ঠিকানা: এক সময় দেখা গেছে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে অনেকে পুরস্কৃত হয়েছেন, জিয়াকে মেরে পুরস্কৃত হয়েছেন, স্বৈরাচারি এরশাদ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রাষ্ট্রের সম্পদ লুক্তন করে- এখানো দিব্বি রাজনীতি করছেন এবং আপনাদের সাথে জোট করেছেন- এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
ম. খা আলমগীর: বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করিয়েছেন তাদের অনেককেই জিয়াউর রহমান পুরস্কৃত করেছেন, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছেন, দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কেন প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং কি কারণে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তাতে আমি যাবো না। কিন্তু একথা বলা দরকার- পুরস্কৃত তাদেরকেই করা হয় যাদের কোন একটি কাজ করার দায়িত্ব আপনি দিয়ে থাকেন। যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন তারাই তাদেরকে পুরস্কৃত করেছিলেন। এরশাদের বিষয়ে যে কথাটি বলা দরকার তা হচ্ছে, তিনি যে কাজটি করেছেন- সেটা ভাল কাজ নয়। অর্থাৎ তিনি ভাল কাজ করেননি। তিনি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছেন, প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পরবর্তীতে নিজেকে নির্বাচিত করেছেন। আমরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ঐ সব নির্বাচনের বিরোধিতা করেছি। এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আমরা বলেছিলাম এই ধরনের চাপিয়ে দেয়া এবং আরোপিত সরকার আমরা গ্রহণ করবো না। এরশাদ যে লুক্তনের কাজগুলো করেছেন, তার অপকর্মের বিষয়ে এখনো তদন্ত হচ্ছে। আমরা এরশাদকে সমর্থন করেনি, এরশাদ আমাদের সমর্থন করেছেন। জাতীয় পার্টি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে সমর্থন করেনি। একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কেউ যদি কাউকে সমর্থন করে সে ক্ষেত্রে আপনিতো নিষেধ করতে পারেন না। আমি তো মানা করতে পারি না। তাছাড়া এরশাদের কথা মতো তো আওয়ামী লীগ চলছে না। আওয়ামী লীগ চলছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। এরশাদের কথা মত আমরা উপনির্বাচনে মনোনয়ন দিইনি। তার পক্ষ থেকে সুপারিশ এসেছে আমরা তা মানি নি, তার কথা মতো আমরা তো কাজ করিনি।
ঠিকানা: জাতীয় পার্টি বলছে আপনারাতো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন?
ম. খা আমলগীর: আমরা কোন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিনি।
ঠিকানা: নির্বাচনের পূর্বে আপনারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এরশাদকে রাষ্ট্রপতির পদ দেয়া হবে।
ম. খা আলমগীর: এই প্রক্রিয়ার সাথে আমি সংশ্লিষ্ট ছিলাম। এরশাদকে রাষ্ট্রপতির পদ দেয়া হবে এই রকম কোন প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। ঠিকানা: পিলখানা সম্পর্কে কিছু বলুন?
ম. খা আলমগীর: ২৫ এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় যে ঘটনা ঘটে গেছে তা ছিলো একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের জোর করে সরকারি ক্ষমতা দখল করার অপচেষ্টা। এই প্রক্রিয়ায় কারা সংশ্লিষ্ট ছিলো কারা দায়ী সেই সম্পর্কে তদন্ত চলছে- সুতরাং এ সম্পর্কে আমি কোন মন্তব্য করবো না। সাধারণভাবে এটা সুস্পষ্ট, একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিলো। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এটা দমন করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা সেই অশুভ শক্তিকে পরাভূত করেছি, আমরা যারা এই অশুভ শক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট তাদের সনাক্ত করার কাজ প্রায় সম্পূর্ণ করে এনেছি। যারা এই ধরনের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিলো তাদের বিচার এবং শাস্তি বাংলাদেশের মাটিতে অবশ্যই হবে। ভবিষ্যতে কেউ অস্ত্র বলে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করবে এটা বাংলাদেশের কোন গণতান্ত্রিক শক্তি, কোন গণতান্ত্রিক মানুষ মেনে নেবে না, আমরা মেনে নেব না।
ঠিকানা: তদন্ত কমিটি একবার সাত দিন, এক বার এক মাস সময় নিলো, এখনতো প্রায় আড়াই মাস হতে চললো এখনো তদন্ত রিপোর্ট শেষ হয়নি, এটা নিয়ে তো জনমনে প্রশ্ন এবং সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
ঠিকানা: জনমনে সন্দেহের কোন কারণ নেই। তদন্তটা সুষ্ঠু হোক এটা সবাই চায়। কোন নির্দোষ ব্যক্তি যাতে শাস্তি না পায় তার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং যারা এই ধরনের জঘন্য অপরাধ করেছে তাদের শাস্তি দিতে হবে। ঠিকানা: ইতিমধ্যে অভিযোগ উঠেছে যে ে া পয়জনিং করে বিডিআর সদস্যদের মেরে ফেলা হচ্ছে?
ম. খা আলমগীর: এই অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। তিনটি তদন্ত দল তদন্ত করেছে। একটি সরকারি তরফ থেকে, একটি ক্রিমিনাল ইনভেস্টিশন ডিপার্টমেন্ট আছে তারা করছে অন্যটি সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে করা হচ্ছে। কাজেই সকল দৃষ্টিকোণ কোন ঘটনাটি ভালভাবে বিশ্লেষণ করে এর সাথে যারা দায়ী তাদের আমরা সনাক্ত করবো এবং দায়ী তাদেরকে আমরা যথাযথ আইনে শাস্তি বিধান করবো।
ঠিকানা: আপনি কি আস্থা রাখেন এই তদন্ত রিপোর্ট বের হবে?
ম. খা আলমগীর: নিশ্চিয়ই। ইতিমধ্যেই পাবলিক প্রশিকিউটর নিয়োগ করা হয়েছে।
ঠিকানা: তিনটি রিপোর্ট যদি তিন রকম হয় সেক্ষেত্রে কী হবে?
ম. খা আলমগীর: এটাতো হাই পথিটিক্যাল কথা। আমি মনে করি সম্ভাব্য সকল দৃষ্টি কোন থেকে ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। সুতরাং তিন রকম হবার আমি তো কোন কারণ দেখি না।
ঠিকানা: বাংলাদেশেতো কোন বড় ঘটনা ঘটলেই তদন্ত কমিটি করা হয়, কোন ক্ষেত্রে রিপোর্ট দেয়া হয়, কোন ক্ষেত্রে দেয়া হয় না। আবার যে সব ক্ষেত্রে রিপোর্ট দেয়া হয় দেখা যায় সেই সব ক্ষেত্রে বিচার হয় না। যেমন বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমানসহ অন্যান্য হত্যাকান্ড।
ম. খা আলমগীর: বঙ্গবন্ধু হত্যা সম্পর্কে বলতে চাই, তখন যারা ক্ষমতায় ছিলো তারা কেন তদন্ত করেনি বা হত্যার বিচার করেনি সেটা তাদের ব্যাপার। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার তদন্ত কমিটি করেছিলো এবং বিচার কাজও করেছিলো। জিয়াউর রহমানের হত্যার তদন্ত আমি মনে করি আংশিকভাবে হয়েছে। যারা প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট তাদের ফাঁসিও হয়েছে। কিন্তু নেপথ্যে কারা ছিলো তা খালেদা জিয়া সরকার বের করেনি। আমি মনে করি তা বের করা দরকার। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি তার অর্থ এই নয় যে এখন প্রকাশিত হবে না কিংবা তার ভিত্তিতে কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না।
ঠিকানা: পিলখানার এই ঘটনার পরে আপনি কি মনে করেন বিডিআর বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোতে থাকা উচিত?
ম. খা আলমগীর: দেশের সীমান্ত রক্ষীদের একটি বাহিনী থাকতেই হবে। আপনি এটার নাম বদলাতে পারেন, নাও বদলাতে পারেন। এটাতো আমাদের প্রয়োজন। অতীতে যে সকল ভুল-ভ্রন্তি হয়েছিলো সেই ভুল- ভ্রান্তি দূর করে সত্যিকারের সীমান্ত রক্ষীদের একটি বাহিনী গড়ে তুলবো। যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রতিক হিসাবে আমাদের সীমান্ত রক্ষা করবে।
ঠিকানা: বাংলাদেশের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার কি সেনা বাহিনী বা বিডিআর- এর কাছে আদৌ নিরাপদ?
ম. খা আলমগীর: আমি নিশ্চিত আমরা নিরাপদ। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের সেনা বাহিনী কিম্বা নিরাপত্তা বাহিনী এখন থেকে কোন অগণতান্ত্রিক কাজে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করতে সাহস পাবে না। যারা অতীতে সেনা বাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনীকে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহার করেছিলো তাদের ভূমিকা সম্পর্কে সামরিক বাহিনীর স্বদেশে যারা আছেন তারা সকলে সচেতন। বাংলাদেশে ১৫ কোটি লোক। এই ১৫ কোটির মধ্যে ৫ কোটি লোক ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে আছে। এই সাড়ে ৫ কোটি মানুষ যদি গণতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে তাহলে কোন শত্রুই এদের পরাজিত করতে পারবে না। এই চেতনাবোধ সৃষ্টি করতে পেরেছি বলেই আমরা মনে করি।
ঠিকানা: যখন প্রধানমন্ত্রীকে ক্যান্টনমেন্টে ডেকে নিয়ে তারই অধিনস্তরা তাকে শাসায় এবং গালিগালাজ করে- এই কথাগুলো যখন পাবলিকলি শুনা যায় তখনই সচেতন মানুষের মধ্যে শংকার সৃষ্টি হয় এবং ভয় কাজ করে।
ম. খা আলমগীর: ঐ অনুষ্ঠানের কথোপথনের পুরো ঘটনাটিই ঠিকানায় রিপোর্ট হিসাবে প্রকাশিত হয়েছিলো। এ জন্য আমি আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। আমি সব সময় ঠিকানা পড়ি। তবে একটি কথা আপনাদের মনে রাখতে হবে- এখানে কিছু কিছু প্রতিক্রিয়াশীল চক্র কাজ করেছে এবং প্রতিক্রিয়াশীল চক্রে প্রভাবিত হয়ে কিছু কিছু লোক তাদের বিক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আমরা মনে করি- এই ধরনের বিক্ষোভ প্রকাশ করে তারা শান্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে- তার সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে সফল হয়েছে। সেখানে যে সব প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীকে করা হয়েছিলো তার উত্তর তিনি সন্তোষজনকভাবে দিয়েছেন- এটা আমি বিশ্বাস করি। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সৈনিকদের সেই অনুষ্ঠানে যেতে বারন করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে বলেছিলেন আমি প্রধানমন্ত্রী আমাকে যেতেই হবে। তারা যেধরনের প্রশ্ন করতে চায় সেই ধরনের প্রশ্নের জবাব আমার কাছে আছে। আমি জবাব দেবো। তারা দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হিসাবে কাজ করছে, তারা আমার সন্তানসম। সন্তানকে শাসন এবং স্নেহ- দুটো করাই আমার দায়িত্ব এবং কর্তব্য। তিনি গিয়েছেন, তাদের কথা শুনেছেন, প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। এর ফলে তাদের প্রাথমিক ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে। আমি মনে করি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সঠিক কাজটিই করেছেন।
ঠিকানা: ছাত্র লীগের বর্তমান কর্মকান্ড এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি নিয়ে সারা দেশে এখন একটি অস্থির পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?
ম. খা আলমগীর: সরকারি কর্মচারিদের বদলি এটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আপনারা যদি গত সাড়ে তিন মাসের হিসাব নেন তাহলে দেখবেন এই প্রক্রিয়ায় যাদের বদলি করা হয়েছে তাদের সংখ্যা ২০০১ এবং ২০০৬ সালের তুলনায় অনেক কম। কাজেই এটাকে খুব বড় করে দেখার কোন অবকাশ নেই। তবে একটি কথা বলতে চাই- শেখ হাসিনার সরকার এখন পর্যন্ত কোন সরকারি কর্মচারিকে চাকরিচ্যুত করেন নি। যেটা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত করা হয়েছিলো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রক্ষা করার স্বার্থে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে উপযুক্ততার নিরিখে বদলি করা হয়েছে, নতুনভাবে কাজ দেয়া হয়েছে। এটা সরকারের স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়ার অংশ। ছাত্র লীগের মধ্যে সাম্প্রতিককালে কিছু বিশৃঙ্খলা ঘটেছে এটা আমরা অস্বীকার করি না। যে বিশৃঙ্খলা ঘটেছে, আপনারাও দেখেছেন এটা মূলত চাঁদাবাজির ঘটনা। ছাত্রলীগের নামে কিছু কিছু ছাত্র- অছাত্র- কিংম্বা ভিন্নতর রাজনৈতিক দলের ছাত্র এসে এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে। আমরা এটা দৃঢ়ভাবে দমন করেছি। আমরা ছাত্রলীগের সদস্যদেরকেও গ্রেফতার করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের উপরের সারির নেতাসহ উপজেলা পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে যে কথা বলা দরকার সেটি হলো- ছাত্রলীগেরও যেসব সদস্য এই সব কাজে লিপ্ত আছেন তাদেরকেও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে কেউ আইনের উর্ধে নন এবং আইনের বাইরে যদি কেউ কোন পদক্ষেপ নেন তাহলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। মানবাধিকার লংঘিত হোক এটা আমরা চাই না, আইনের শাসনের যে সূত্র আছে তা লংঘিত হোক এটা আমরা চাই না- সেজন্য আমরা ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করার কোন কাজে যাইনি। আমরা সকলের মানবাধিকার রক্ষা করে এগুচ্ছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন- ছাত্রলীগ যদি এই ধরনের কাজ অব্যাহত রাখে তাহলে এর সাংগঠনিক নেতৃত্ব থেকে তিনি দূরে সরে যাবেন এবং তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। অন্য কথায় এর অর্থ হচ্ছে তিনি নৈতিকভাবে এই ধরনের কাজ সমর্থন করেন না। চাঁদাবাজির কাজ আমরা সমর্থন করবো না, যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন অবশ্যই আমরা তাদের বিচার করবো। এই প্রসঙ্গে উদাহরণ হিসাবে একটি কথা বলা প্রয়োজনঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রতি নাগরিকের অস্ত্র বহন করার স্বাধীনতার স্বীকৃতি আছে। ন্যাশনাল রাইফেল এসোসিয়েশন এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্যে সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন এবং মাঝে মাঝে বেশ লজ্জাজনক হত্যাকান্ড ঘটনার পরও ন্যাশনাল রাইফেল এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে এ কথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নাগরিকদের যে অধিকার দেয়া হয়েছে, সেই অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা যাবে না। আমরা সেটা মনে রাখতে চাই। আমি আরো একটি কথা বলতে চাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম দিকে গৃহযুদ্ধের আগ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোন রাষ্ট্রপতি বা সেনা সমর্থিত ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় স্বৈরতান্ত্রিকতা আনতে সক্ষম হননি এই জন্যে যে- প্রতিটি নাগরিকের অস্ত্র বহনের স্বাধীনতা ছিলো।
ঠিকানা: আওয়ামী লীগের প্রথম সারির কোন কোন নেতা সরকারকে অস্থিতিশীল করার কাজে জড়িত বলে অভিযোগ শুনা যায়- এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?
ম. খা আলমগীর: আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলি বা প্রেসিডিয়ামের একজন সদস্য। অন্য কথায় আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা আমার সাথে সংশ্লিষ্ট বা আমি তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট। জননেত্রী শেখ হাসিনার সকল কার্যক্রমের সাথে আমরা সংশ্লিষ্ট। আমি ঘোষণা করতে চাই- এই ধরনের কোন কাজে আওয়ামী লীগের কোন নেতা সংশ্লিষ্ট হতে পারেন না।
ঠিকানা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাড়ির লীজ বাতিলের সিদ্ধান্তটিকে কি আপনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে মনে করেন না?
ম. খা আলমগীর: মূল কথা হলো আমরা আইন অনুযায়ী চলবো। আইন অনুযায়ী চলার জন্যে শেখ হাসিনার সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ১৯৪২ সালে (ব্রিটিশ আমলে) ঢাকায় আজকের যে সেনা ছাউনি তার জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলেছিলো ৬ লাখ ৪২ হাজার টাকায়। আমাদের যে জমি অধিগ্রহণ আইন আছে সেই আইনে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যে সরকার জমি অধিগ্রহণ করেন তার উদ্দেশ্য বর্হিভূত কাজে যদি ব্যবহৃত হয় তাহলে সেই জমি অধিগৃহীত থাকে না। জমির যে মূল মালিক তার কাছে চলে যায়। সেনা ছাউনি করা হয়েছিলো সেনাদের রাখার জন্যে বেগম জিয়া বা কোন ব্যক্তি বিশেষকে বাড়ি দেয়ার জন্যে নয়। কাজেই তৎকালীন জেনারেল এরশাদ যেটা দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন ব্যতিত। এটা বে-আইনী কাজ। সেখানে আইন লংঘন করা হয়েছে। দেশে আইন লংঘন করে কেউ যদি কোন জায়গা দখল করে থাকেন, তাহলে সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় তাকে উচ্ছেদ করা হয়। এটাও একটা সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া- যে প্রক্রিয়ার ফলশ্রুতিতে বেগম জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার নোটিশ দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত আমাদের আরেকটি কথা মনে রাখতে হবে- জেনারেল জিয়া যখন রাষ্ট্রপতির পদে ছিলেন তখন গেজেট বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মঈনুল হোসেন সড়কের এই বাড়িটি বঙ্গভবনের অংশ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিলো এবং বঙ্গ ভবনের অংশ হিসাবে সেই বাড়িকে সজ্জিত করা হয়েছিলো। সেই সজ্জিত বাড়ির সাজ সজ্জা এখন পর্যন্ত আছে। বেগম জিয়া তা ফেরত দেননি। যারা এসব দিয়েছেন তারা অন্যায় করেছেন। বেআইনী কাজ করেছেন। আমি মনে করি তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
ঠিকানা: তাহলে শেখ হাসিনা নিজেতো একটি আইন বর্হিভূত কথা বলেছেন?
ম. খা আলমগীর: যেমন? ঠিকানা: তিনি বলেছেন এই বাড়িটি দিয়ে দিন। যারা পিলখানায় নিহত হয়েছেন তাদের জন্য বাড়ি করবো। তাহলেতো প্রধানমন্ত্রীও বঙ্গভবনের কোন অংশ কাউকে দিতে পারেন না?
ম. খা আলমগীর: লক্ষ্য করুন। শেখ হাসিনা বলেছেন ১০ বা ১১ বিঘা জমি নিয়ে আপনি এই বাড়িতে আছেন। যদি পিলখানায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি যদি আপনাদের সত্যিকার দরদ থাকে তাহলে আসুন যে জায়গাটা আপনার দরকার নেই, সেই জায়গা আপনি দিয়ে দিন। তার বক্তব্য হলো যারা পিলখানায় শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারের জন্য ফ্লাট তৈরী করা হবে এবং নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত তাদের থাকতে দেয়া হবে, মালিকানা দেয়ার কথা তো তিনি বলেননি।
ঠিকানা: প্রবাসীদের সম্পর্কে কিছু বলুন?
ম. খা আলমগীর: জাতি হিসাবে আমরা প্রবাসীদের কাছে কৃতজ্ঞ। কৃতজ্ঞ এই জন্যে যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি মুদ্রা দিচ্ছেন এই প্রবাসীরাই। তারা প্রতি বছর প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার আমাদের দেশে পাঠান। যে হারে বিদেশী সাহায্য কমে গিয়েছিলো, তাতে আমাদের অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার কথা ছিলো কিন্তু প্রবাসীদের কারণে আমরা সংকটে পড়িনি। তাছাড়া প্রবাসীরা বিদেশে বাংলাদেশের নাম প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফলে এখন আমি যদি বলি বাংলাদেশ থেকে এসেছি, তারা এখন চিনেন। অতীতের মত প্রশ্ন করেন না- বাংলাদেশ কোথায়? এই দুটো কারণে আমরা প্রবাসীদের নিয়ে গৌরববোধ করি। প্রবাসীদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে- আপনারা গণতান্ত্রিক পরিমন্ডলে বাস করছেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন, আর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যে যে সন্দীপন দরকার তার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন। আমি মনে করি, এই দুটো উপকরণ প্রবাসীরা যে আহরণ করেছেন তা দেশে আত্মীয়- স্বজনের মাধ্যমে বা দেশে গিয়ে প্রবাসীরা প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন। এতে করে দেশ সমৃদ্ধ হচ্ছে, আমরা লাভবান হচ্ছি।
ঠিকানা: আপনি তো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন বা যাচ্ছেন- ঐ সব দেশের ভাল ভাল জিনিসগুলো কী বাংলাদেশে প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছেন?
ম. খা আলমগীর: আমরা চেষ্টা করি বা বলি। ধরুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক মাস আমি থাকবো। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার যাওয়ার সুযোগ হয়। আমি বক্তব্য দিয়ে থাকি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কে যাদের সঙ্গে কথা বলি তাদেরকে উদাহরণ হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নের নেপথ্য কাহিনীর কথা বলি, মার্কিনীদের সেক্রিফাইসের কথা বলি, ত্যাগের কথা বলি, পরিশ্রমের কথা বলি। ত্যাগ এবং পরিশ্রমকে বাদ দিয়ে একটি জাতি কোন দিন বড় হতে পারে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেটা আমাদের শেখার সেটা হচ্ছে- পরিশ্রম, ত্যাগ এবং উদ্যম। এই তিনের সমন্বয়ে আমরা যদি একটি মূলবোধ ও চেতনা তৈরী করতে পারি নিশ্চয় জাতি হিসাবে আমরা অনেক উপরে উঠতে পারবো। সবচেয়ে বড় কথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তারা পরিবর্তনশীল পৃথিবীর সাথে খুব তাড়াতাড়ি খাপ খেয়ে যেতে পারছে যা অন্য কোন দেশ পারছে না। তাদের বড় শক্তি হচ্ছে গণতন্ত্র। এটাও আমাদের গ্রহণ করতে হবে। গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে অন্যের মত বিবেচনা করা। গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে সহনশীলতা। আর গণতন্ত্রের অর্থ হলো নিজের তরফ থেকে অন্যের অধিকার রক্ষা করার জন্যে এগিয়ে আসা। এটা যদি আমরা গ্রহণ করি এবং প্রসারিত করি তাহলে নিশ্চয়ই আমরা একটি বিস্তৃত ও গভীরতর গণতান্ত্রিক সমাজ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।
ঠিকানা: অনেক সময় দেখা যায় কোন কোন আমলা এবং রাজনীতিবিদ প্রবাসীদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসাবে, শ্রমিক হিসাবে আখ্যায়িত করেন এবং তাদের দেশপ্রেম নিয়েও কটুক্তি করেন- এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
ম. খা আলমগীর: কেউ এভাবে প্রবাসীদের প্রতি কটুক্তি করেছেন কি না আমি জানি না। তবে কেউ এমন ব্যবহার যদি করেও থাকেন তাহলে আমি বলবো- আমি শ্রমের মর্যাদায় বিশ্বাসী। কেউ যদি বলে আমি আমার গতর খাটিয়ে আয় করছি- তাতে আমি গৌরববোধ করবো। আমি মনে করি আমরা সবাই শ্রমিক
ঠিকানা: আপনি কি মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি আর থাকা উচিত?
ম. খা আলমগীর: আমি মনে করি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি আরো দুই টার্ম থাকা উচিত। তাদের তত্ত্বাবধানে আরো দুটো নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। যাতে আমরা প্রমাণ করতে পারি যে জাতিগতভাবে আমরা একটি নিরক্ষেপ নির্বাচনে বিশ্বাসী, সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাসী। এই সূত্রটি আমরা যখন জাতিগতভাবে গ্রহণ করবো তখন কোন প্রতিক্রিয়াশীল চক্রই নির্বাচনের সুষ্ঠু প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারবে না। নির্বাচনের সুষ্ঠু প্রক্রিয়াটাকে জাতির মানসে ঢুকিয়ে দেয়ার জন্যে এবং সর্বস্তরে এর বিস্তরণ ঘটানোর জন্যে প্রতিষ্ঠানিকভাবে এর ভিত্তি সুদৃঢ় করার জন্য আরো দুটি নির্বাচন সত্যিকারের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি- ফখরুদ্দিনের মত সরকারের স্টাইলে নয়। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করবেন সকল প্রলোভনের বাইরে থেকে।
ঠিকানা: তাহলেতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্বলতাগুলো দূর করা দরকার।
ম. খা আলমগীর: দুর্বলতা দূর করার জন্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাজ করবে। ফখরুদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে আজকে যে অভিযোগ উঠেছে, সেই অভিযোগগুলো ভালভাবে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা অবলম্বন করার পর যারা পরবর্তীকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে আসবেন তারা অধিকতর সচেতন হবেন।
ঠিকানা: বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি করে বলে দিলেন ফখরুদ্দিন সরকারের সব কিছু তিনি জায়েজ করবেন?
ম. খা আলমগীর: তিনি যে বলেছিলেন সেটা এক আশা নিয়ে বলেছিলেন প্রথম দিকে। দ্বিতীয়ত তিনি আরো যে কথাটি বলেছিলেন সেটি হলো- সরকারকে একটা ধারাবাহিকতা সংরক্ষণ করতে হবে। আমরা সরকারকে তো উচ্ছনে যেতে দিতে পারি না। সরকারের ধারাবাহিকতা লংঘন করে আমরাতো একটি বিশৃঙ্খল অবস্থায় দেশ ও জাতিকে নিমজ্জিত করতে পারি না। দেশকে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে রক্ষা করার জন্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
ঠিকানা: আমাদের বিদুৎ, পানি ও গ্যাসের যে সংকট তাকে আপনি কিভাবে দেখেন?
ম. খা আলমগীর: আমাদের বিদ্যুৎ সংকট আছে। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোন বিনিয়োগই হয়নি। শেখ হাসিনা সরকার ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ২শত মেগাওয়াট থেকে ৪ হাজার ২ শ মেগাওয়াটে উত্তীর্ণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এটা খালেদা জিয়া সরকারের আমলে আবার ২ হাজার ২ শত মেগাওয়াটে নেমে আসে। আমরা নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে চাই। এর জন্য তিন থেকে চার বছর লাগবে। এই সময়টা দিতে হবে। এই কাজে বিদেশী বিনিয়োগ প্রয়োজন, অধিকতর মূলধন প্রয়োজন, গ্যাস উত্তোলন প্রয়োজন, কয়লা উত্তোলন প্রয়োজন। কাজেই শুধু মাত্র বিদ্যুৎ নয়, বিদ্যুতের সাথে গ্যাসের কূপ খনন, কয়লায় উত্তোলন সম্প্রসারণ প্রয়োজন। এইগুলো সার্বিকভাবে বিবেচনা করে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। যদি আমরা ওপেন ফিল্ড পদ্ধতি অনুযায়ী যাই তাহলে আমাদের যে মজুদ কয়লা আছে তার ৯০ ভাগ আমরা উত্তোলন করতে সক্ষম, আর যদি এটা পরিত্যাগ করে আমরা সুড়ঙ্গ করে যাই তাহলে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ উত্তোলন করতে সক্ষম হবো। মূলত অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করে আমাদের সর্বাত্মক কয়লা ব্যবহারের জন্যে এগিয়ে যেতে হবে।
ঠিকানা: আওয়ামী লীগের দলীয় স্পোকস পারসন আশরাফ সাহেব বলেছিলেন বিদ্যুৎ খাতে বিএনপির আমলের দুর্নীতির কথা আওয়ামী লীগ বলেনি বলেছিলেন সেনা প্রধান- এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?
ম. খা আলমগীর: বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তারা খরচ তো করেছেন। কোথায় খরচ করেছেন তার হিসাবতো দিতে হবে। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেছেন, একটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেননি তাহলে এই টাকাগুলো গেল কোথায়?
ঠিকানা: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ম. খা আলমগীর: ঠিকানা পরিবারের সবাইকে আমার ধন্যবাদ।