শেষ মুহূর্তের গোলে সেনেগালকে হারাল নেদারল্যান্ডস

ছবি সংগৃহীত

ঠিকানা অনলাইন : শুরু থেকেই দাপট ছিল সমানে সমান। একবার সেনেগাল আক্রমণ চালায় তো পরমুহূর্তেই নেদারল্যান্ডস। এভাবে দাপুটে লড়াইয়ে ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল ম্যাচটি। তবে শেষ বেলায় এসে আল থুমামায় আলো ছড়ান বর্ষসেরা কোডি গ্যাকপো আর ডেভি ক্লেসান। তার দেওয়া গোলে গোলশূন্য হতে যাওয়া ম্যাচটি জয় দিয়ে শেষ করে ডাচরা।

খেলার সময় যখন ৮৩ মিনিট স্পর্শ করেছিল, তখনো ফলাফল ছিল ০-০। তবে পরের মিনিটেই যেন ত্রাতা হয়ে আসেন বর্ষসেরা ডাচ ফুটবলার কোডি গ্যাকপো। নির্ধারিত সময় সমাপ্ত হওয়ার মাত্র ৬ মিনিট আগে শেষ পর্যন্ত দলকে লিড এনে দেন তিনি। সেনেগালের রক্ষণের পেছন থেকে ডি জংয়ের একটি ক্রসে দুর্দান্ত হেড করেন গ্যাকপো। মুহূর্তেই সেটা জড়ায় সেনেগালের জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে তারা।

তবে উদযাপনের বাকি ছিল তখনো। জয় প্রায় নিশ্চিতের পরও যেন মন ভরছিল না তাদের। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ হয়েছিল আরও ৮ মিনিট। গোল শোধ করার জন্য মরিয়া সেনেগাল। শেষ মিনিটে তারা গিয়েছিল অ্যাটাকে। কিন্তু সফল হয়নি, উল্টো কাউন্টার অ্যাটাকে যায় ডাচরা। যে কাউন্টার অ্যাটাকের জন্য বিখ্যাত ছিল জার্মান ফুটবল।

ডাচ গোলরক্ষক নোপার্টের লম্বা পাস চলে খুলে দিয়েছিল কাউন্টারের দ্বার। মেমফিসের পায়ে আসা মাত্রই বল নিয়ে ঢুকে পড়েন ডি বক্সের ভেতর। তার শট প্রতিহত করেন সেনেগাল গোলরক্ষক মেন্ডি। তবে তার হাত থেকে ফসকে যায়, সামনে এগিয়ে এসে দারুণ এক শটে মেন্ডিকে পরাস্ত করেন ডেভি ক্লেসান। দলকে এগিয়ে নেন ২-০ গোলে। তার গোলের পরই বাজে রেফারির শেষ বাঁশি।

ছোট ছোট নান্দনিক পাস আর ম্যাচের ৮০ ভাগ সময়জুড়ে বলের দখল রাখা। যাকে ‘টিকিটাকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই ফুটবল পদ্ধতির উদ্ভাবক নেদারল্যান্ডস। রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলতে না পারা ডাচরা আবার ফিরেছে ফুটবলের মঞ্চে। কিন্তু চেনা ডাচদের দেখা গেল অচেনা রূপে। কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বলের দখল ছিল দুই দলের প্রায় সমানে সমান, যেখানে ছিল না টিকিটাকা নামক কোনো ফ্লুর ছোঁয়া।

ইউরোপিয়ান লিগগুলোতে যেমন ফাস্টেস্ট ফুটবল খেলতে দেখা যায়, ডাচরা সেটাই আজ করে দেখিয়েছে। সঙ্গে সেনেগালও। খেলায় দুই দলের পাস অ্যাকুরেসি ছিল প্রায় সমানে সমান। ডাচদের ৮২ শতাংশের সঙ্গে সেনেগালের ৮০ শতাংশ। ডাচরা ৫৪ শতাংশ সময় বল ধরে রেখেছিল, সেনেগাল ৪৬ শতাংশ সময় বল নিয়ে মাঠ মাতিয়েছে।

ঠিকানা/এনআই