শোক দিবসে জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

ঠিকানা রিপোর্ট: জ্যাকসন হাইটস প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রিয় জায়গা। এই জ্যাকসন হাইটসকে কেন্দ্র করেই প্রবাসী বাংলাদেশীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সব কিছু। জ্যাকসন হাইটস এখন বাংলাদেশীদের রাজনীতির কেন্দ্র
বিন্দুও বলা যায়। প্রবাসের রাজনৈতিক এবং বিভিন্ন সংগঠনের সভা সমাবেশ এবং অনুষ্ঠান এই জ্যাকসন হাইটসেই। বাংলাদেশীরা যেমন সংগঠন প্রিয় তেমনিভাবে রাজনীতিও তাদের প্রিয়। রাজনীতি ছাড়া যেন বাঙালির আড্ডাই জমে না। এই রাজনৈতিক আড্ডাগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদকেও অনেক ক্ষেত্রে ছাড়িয়ে যায়। দলবাজির কারণে অনেক সময় অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। দলবাজি যেন বাঙালির রক্তে মিশে গেছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন দলের নয়, এটা প্রমাণ করেছেন জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী। এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারা। জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী ২০০৩ সাল থেকেই ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করে আসছে। জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর এই উদ্যোগে আওয়ামী লীগের সমর্থক, কর্মী, নেতা এবং বিএনপির নেতা, কর্মী এবং সমর্থকরাও রয়েছেন। অন্যান্য দলের লোকজনও আছেন। তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অনেকেই। তারা বলেন, এমনভাবে যদি বাংলদেশে জাতীয় নেতাদের সম্মান জানানো হতো তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতির মানচিত্রই পাল্টে যেত।

দল মত নির্বিশেষে তারা গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জ্যাকসন হাইটসের খাবার বাড়ি রেস্টুরেন্টের সামনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে তবারক বিতরণ করে। বাংলাদেশীদের পাশাপাশি ভিন দেশীরাও এই তবারক গ্রহণ করেছেন। তবারক বিতরণের পাশাপাশি খাবারের আয়োজনও করা হয় সুন্দরভাবে। জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী প্রশংসার দাবি রাখে এমন সুন্দর এবং প্রশংসনীয় অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য। আওয়ামী লীগের নেতারা এসেছেন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে, বিএনপির সমর্থকরা এসেছেন অনুষ্ঠানে তেমনি । শুধু যোগ দেননি অনেকেই সহযোগিতা করেছেন। এটাই ছিলো আয়োজকদের আয়োজনের সৌন্দর্য্য।
জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর সভাপতি মোহাম্মদ শাকিল মিয়া জানিয়েছেন, এই আয়োজনে ১০টি গরু, ১০টি খাসি এবং ৬০টি মুরগী জবাই করা হয়েছে। এ ছাড়াও ছিলো পানি, জুস, ডিম এবং পায়েস। দুপুর থেকেই সবাই লাইন ধরে খাবার নিয়েছেন এবং তৃপ্তির সাথে খেয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি বলেন, আমাদের এই আয়োজনে জ্যাকসন হাইটসের ব্যবসায়ীরা ছাড়াও কম্যুনিটির সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ সহযোগিতা করেছেন। 

এই আয়োজন সফলতার পেছনে ছিলেন- সভাপতি সাকিল মিয়া, আহ্বায়ক হোসেন সোহেল রানা, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলম নমি, চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বাবু, কো-চেয়ারম্যান মামুন মিয়াজী, চেয়ারপার্সন বিপ্লব সাহা, কো-চেয়ারপার্সন শাখাওয়াত বিশ্বাস। সহ সভাপতি হোসেন সোহেল রানা, দেওয়ান মনির, আবুল কাশেম, মোহাম্মদ মানিক বাবু, এম রহমান, কবির চৌধুরী জসী, আসাদুল ইসলাম আসাদ, মোহাম্মদ হাসানাত হাসান, সহ সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ দুলাল, শাহীন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব জনি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকরাম হোসেন বিপ্লব, প্রচার সম্পাদক নান্টু মিয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলমগীর খান আলম, দপ্তর সম্পাদক মোঃ সায়েম উল্লাহ, আপ্যায়ন সম্পাদক মুক্তা মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক ইফতি খান টিপু, সাহিত্য সম্পাদক গোপাল সিন্যাল। কার্যকরী সদস্য সামস জনি, ওয়াসীম, নান্টু মিয়া, শাহরিয়ার হোসেন, শোভন। উপদেষ্টা পরিষদ মীর নিজামুল হক, হারুন ভূঁইয়া, সিরাজুল ইসলাম কামাল, মহসিন ননী, কামরুজ্জামান কামরুল, এম এ আজিজ, প্রদিপ সাহা, কাজী শামসুদ্দোহা, মনসুর চৌধুরী, পিয়ার আহমেদ, মোল্লা মাসুদ, রফিকুল ইসলাম, ফাহাদ সোলায়মান, রুহুল আমিন সরকার, বিদ্যুৎ দাস, জে মোল্লা সানি, রাশেদ আহমেদ, দেবাশীষ দাস বব, শাহাদাৎ হোসেন। সহযোগিতায় ছিলেন মোহাম্মদ কামাল (খামার বাড়ী), ফাহাদ সোলায়মান, রিয়েলেটর মঈনুল ইসলাম, হাজী এনাম, হারুন ভ‚ইয়া, রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন ইন্ক, জয়নাল আবেদীন, ডেরা রেস্টুরেন্ট, এবিসি ওয়ারলেস, মনসুর চৌধুরী (হাটবাজার), পেরী ডি. সিলভা-এটর্নী এ্যাট ল’, মোঃ মহিউদ্দিন দেওয়ান, নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইন্ক, মোহাম্মদ মাসুম (স্কয়ার ডিস্টিবিউটর), খাবার বাড়ি, মান্নান গ্রোসারী, পাটেল ব্রাদার্স, স্কলাসটিকা টিউটরিয়াল, আজিজুল হক খোকন, নজির উদ্দিন, প্রিমিয়াম সুইটস, কারিশমা, সোনা চান্দি, ওমকার জুয়েলার্স, ল’ অফিস অব চৌধুরী, ব্লাজিনো, মোহাম্মদ ফরহাদ, হাসান জিলানী, মোহাম্মদ সান্টু, লাবনিয়া, সরদার হক রনি, মোহাম্মদ আলী, মোঃ কে. ভ‚ইয়া, লুৎফুর রহমান হিমু, ভবতোষ সাহা। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্বাচক এবং সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক গাজি মেসাউল হোসেন সাচ্চু প্রমুখ।