শ্বশুর-শাশুড়িকে নির্যাতনের অভিযোগে বাংলাদেশি গৃহবধূ গ্রেফতার

ফ্লোরিডা থেকে ঠিকানা প্রতিনিধি: ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বৃদ্ধ শ্বশুর ও শাশুড়িকে খাবার না দিয়ে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে বাংলাদেশি গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। জানা গেছে, উম্মে ফেরদৌসি নামের ৩৮ বছরের ওই গৃহবধূ তার শ্বশুর-শাশুড়িকে খাবার দিতেন না। তার কাছে খাবার ও পানি ভিক্ষা চাইতে বাধ্য করতেন।
এমনকি ছুরি দিয়ে তাদের আঘাতও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফ্লোরিডার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্বশুর ও শাশুড়িকে অভুক্ত রাখতেন ফেরদৌসি। একাধিকবার তিনি তাদের খাবার ও পানি দেননি। ফলে তারা অপুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। তাদের চিকিৎসা প্রয়োজন।
ফেরদৌসির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার শাশুড়িকে খাবার ও পানি ভিক্ষা চাইতে বাধ্য করতেন। বলতেন, ‘বাংলাদেশে থাকলে তো এভাবেই থাকতে হতো’।
শাশুড়ি পুলিশকে জানিয়েছেন, খাবার ধরতে গেলে ফেরদৌসি তার ছুরি দিয়ে ডান হাত কেটেছেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, সত্যিই তার ডান বাহুতে কাটার চিহ্ন রয়েছে। ফেরদৌসির স্বামীও জোর করে মায়ের হাতে খামছি দিতে দেখেছেন। এতে তার ডান হাতে আঁচড় পড়েছে।
ফেরদৌসির বিরুদ্ধে বৃদ্ধ ব্যক্তিকে নিপীড়ন এবং ৬৫ বছরোর্ধ্ব ব্যক্তিকে ছুরি দিয়ে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে ব্রেভার্ড কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনাটি ফ্লোরিডার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনাটি আমেরিকার মূল ধারার টিভি মিডিয়াগুলোতে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, আমেরিকার মত জায়গায় এমন পাশবিক ঘটনা কল্পনাই করা যায় না। অনেকেই তাকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে অভিযোগ করে বলেন, আসলে সে বাংলাদেশী সমাজের কলঙ্ক। বাংলাদেশ থেকে বৃদ্ধ বাবা মাকে এনে নানা ধরনের কাজ করিয়ে থাকেন। অনেক সময় মনে হয় তারা যেন বাসার কাজের লোক। আবার বৃদ্ধ বাবা- মা দু:খে- কষ্টে সন্তানের সাথে না থেকে ক্যান সংগ্রহ বা অন্য কোন কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। যে সব বাবা- মা এদেশে আসেন তাদের মধ্যে অনেকেই দেশের যা জায়গা- সম্পত্তি আছে তা বিক্রি করে চলে আসেন। সেই অর্থ সন্তানদের হাতে তুলে দেন। এক সময় তাদের উপর নেমে আসে নানা অত্যাচার বা নির্যাতন। নির্যাতনে অতিষ্ঠ হলেও বাংলাদেশে তাদের যাবার সুযোগ থাকে না। বাংলাদেশে গিয়ে কোথায় থাকবেন? আবার কোন কোন সন্তান তাদের বাবা-মার পাসপোর্টও আটক করে রেখে দেন। এই ধরনের ঘটনা কম্যুনিটিতে হরহামেশা ঘটছে। কিন্তু ফ্লোরিডার ফেরদৌস যা করেছেন তা মধ্য যুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। সবাই তার যথোপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন। তারা বলেন, বাবা- মারা সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করতে তাদের জীবনের স্বাদ আহ্লাদ বিসর্জন করেন, আর সেই সব সন্তানরা যদি বাবা- মার সাথে এই ধরনের আচরণ করে তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আসলে এরা মানুষ নামের কলঙ্ক।