শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সাঈদ রহমান মান্নানের শেষ বিদায়

ঠিকানা রিপোর্ট : সাঈদ রহমান মান্নান। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কম্যুনিটির একজন আইকন ও আদর্শবান ব্যবসায়ী। চারিত্রিক আদর্শ ও সৎ থাকার গুণে দিনে দিনে তার ব্যবসার ব্যাপ্তি বেড়েছে। নিউইয়র্কে মান্নান সুপার মার্কেট এবং মান্নান বেকারি তাই একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সাঈদ রহমান মান্নান ১৯৯০ সালে ওপি ওয়ানে আমেরিকায় এসেছিলেন। এসে প্রথমে অন্যদের মতোই ‘অড জব’ করেন।

১৯৯৬ সালে সামান্য পুঁজি ও প্রচ- মনোবলকে সঙ্গী করে পাকিস্তানি এবং ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দখলে থাকা জ্যাকসন হাইটসে ‘মান্নান বেকারি’ নামে প্রথম ব্যবসা শুরু করেন। এক সময় এর সাথে গ্রোসারিও যুক্ত করেন। জ্যাকসন হাইটসের ৭৪ স্ট্রিট থাকলেও অনেকটা অন্ধকারে থাকা ৭৩ স্ট্রিটকে সাঈদ রহমান মান্নানই আলোকিত করেন। সৎ, নিষ্ঠা এবং সততার গুণে তিনি ব্যবসায় একের পর এক সফলতা অর্জন করতে থাকেন। বর্তমানে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ওজনপার্কসহ বিভিন্ন স্থানে তার ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

সাঈদ রহমান মান্নান শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই গড়েননি, তিনি নিউইয়র্কে ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এর সভাপতিও হয়েছিলেন। সোজা কথা, সাঈদ রহমান মান্নান বাংলাদেশি কম্যুনিটিতে একজন সফল ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যবসায়ীও ছিলেন। তার মধ্যে একজন আদর্শ ব্যবসায়ীর সব গুণ ছিলো।

সেই সাথে তার হৃদয়টাও ছিলো বিশাল। তিনি তার কর্মচারিদের মধ্যে কাউকে কাউকে তার ব্যবসায় পার্টনার করে অনন্য নজীরও স্থাপন করেছিলেন। যাদের মধ্যে অন্যতম- এ জে এম বাবুল এবং মোহাম্মদ শাহীনুর রহমান স্বপন।

নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে মান্নান সুপার মার্কেট নামটি জ্বল জ্বল করলেও, সবার প্রিয় সাঈদ রহমান মান্নান সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। গত ১৩ মার্চ রাত ১টা ১০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল (ইন্নালিল্লাহে.. রাজেউন) করেন। যদিও এলমহার্স্ট হাসপাতালের মেডিক্যাল রিপোর্টে তার মৃত্যুর সময় উল্লেখ করা হয়েছে রাত ২টা ২০ মিনিট। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬১ বছর। তিনি স্ত্রী নাজমুন নাহার, দুই ছেলে- নকিব রহমান, নাফিজ রহমান ও একমাত্র মেয়ে মাহি রহমানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, সাঈদ রহমান মান্নান নিজের বাসায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারেননি। তার নিজের বাসা ছিলো ৭১ স্ট্রিট ও ৩৪ এভিনিউতে। কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করেন সানিসাইডের গ্রিন পয়েন্টের হারবাল চিকিৎসক মোহাম্মদ মহসীনের বাসায়। কিন্তু কেন? এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে সাঈদ রহমান মান্নানের শরীরে মারণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ার পর তিনি দুটি কেমোথেরাপি নিয়েছিলেন। হঠাৎ করেই তিনি তা বন্ধ করে দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাঈদ রহমান মান্নানের একটি স্টোরের কর্মচারি তাকে বলেছিলেন- তিনি তার এক আত্মীয় মোহাম্মদ মহসীনের কাছে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হচ্ছিলেন। এ কথা শোনার পর সাঈদ রহমান মান্নান হারবাল চিকিৎসক মোহাম্মদ মহসীনের সাথে যোগাযোগ করেন। কী যাদুমন্ত্রে সাঈদ রহমান মান্নান ঐ বাসাতেই তার আবাস গড়ে তোলেন। সেখানেই তার হারবাল চিকিৎসা করেন মোহাম্মদ মহসীন।

জানা গেছে, এই তথাকথিত ডাক্তার নিজেই অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে বেঁচে আছেন। তিনি কী করে মারণব্যাধিগ্রস্ত একজন ক্যান্সার রোগীকে হারবাল চিকিৎসা করালেন? তিনি তার গ্রিন পয়েন্টের বাসায় রোগীদের চিকিৎসা করতেন। তার চিকিৎসায় এর আগেও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি সমস্যায় পড়েছিলেন, এক সময় তারা বুঝতে পেরে সরে পড়েন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তথাকথিত চিকিৎসক হারবাল চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন এবং অর্থ কামাচ্ছেন। তিনি নাকি সবাইকে ১০০% গ্যারান্টি দিতেন সুস্থ হয়ে যাওয়ার। এক সময় জ্যাকসন হাইটসে তার অফিস ছিলো, কিন্তু ভাড়া না দেয়ার কারণে তাকে মার্শাল দিয়ে উঠিয়ে দেয়া হয়।
জানা যায়, তথাকথিত এই ডাক্তার নিজের মতো করেই রোগীদের ওষুধ দিতেন। ওষুধের গায়ে অনেক সময় কোনো লেবেল থাকতো না। তিনি নিজেই ওষুধ কিনে আনতেন। জেবিবিএ’র সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ পিয়ার সপ্তাহে একদিন সাঈদ রহমান মান্নানকে দেখতে যেতেন। অনেক সময় তার সাথে আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, ইকবালুর রশিদ লিটনসহ আরো অনেকে যেতেন। প্রায় সময়ই আধাঘণ্টা পরে দরজা খুলে দেয়া হতো।

মোহাম্মদ পিয়ার বলেন, ‘আমি জানি না, কেন দেরি হতো!’

আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক প্রশ্নের উত্তরই আমরা জানি না। যে নিজে অ্যালোপাথিক চিকিৎসায় অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে আছে, সে কীভাবে একজন ক্যান্সার রোগীকে হারবাল চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করার কথা বলে! এতো অসুস্থ হবার পরও কেন সৈয়দ মান্নান ভাইকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি? মান্নান ভাইও কেন যাননি, কেন তিনি কেমোথেরাপি বন্ধ করলেন?’

তিনি আরো বলেন, বর্তমান বিশ্বে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা সম্ভব। মান্নান ভাইয়েরতো অর্থেও কোনো অভাব ছিলো না। সেই চেষ্টাও তিনি কেন করেননি? হারবাল চিকিৎসা এবং অর্গানিক খাবার খেয়ে কী ক্যান্সারমুক্ত হওয়া যায়? এমন কোনো নজীর আছে বলে অন্তত আমার জানা নেই।’

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সাঈদ রহমান মান্নান মোহাম্মদ মহসীনের বাসায় আসার পর তার স্থান হয় ঐ বাসার লিভিংরুমে। প্রায় প্রতিদিনই সাঈদ রহমান মান্নানের স্ত্রী এবং সন্তানরা বাইরোটেশন দেখতে যেতেন। তার স্ত্রী প্রায় প্রতিদিন সকালে ঐ বাসায় যেতেন এবং রাতে চলে আসতেন।

জানা যায়, মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে থেকে সাঈদ রহমান মান্নান চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন। সর্বশেষ মৃত্যুর আগের দিন, ১২ মার্চ, মান্নানের স্ত্রী তাকে বাসায় নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই বাসায় ফিরে আসতে রাজি হননি। হাসপাতালেও যাননি। শেষ পর্যন্ত ১৩ মার্চ তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
আরো জানা যায়, সাঈদ রহমান মান্নানের মৃত্যুর পর তার জানাজায় আসেননি ঐ তথাকথিত হারবাল ডাক্তার। এমন কি তার দোয়া অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায়নি।

সাঈদ রহমান মান্নানের নামাজে জানাজা গত ১৪ মার্চ বাদ জোহর জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটের মান্নান সুপার মার্কেটের মাঝে রাস্তার দু’পাশে অনুষ্ঠিত হয়। রাস্তার দু’পাশে দুটো স্টোর আর মাঝে সাঈদ রহমান মান্নানের নিথর দেহ। জানাজায় নিউইয়র্কের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ পর্যন্ত নিউইয়র্কে যতগুলো বড় জানাজা হয়েছে তার মধ্যে এটি একটি। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম। জানাজার পূর্বে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, সাঈদ রহমান মান্নানের ছোট ভাই মোহাম্মদ হান্নান, তার দুই ছেলে নাকিব রহমান ও নাফিজ রহমান। বাবার জন্য দোয়া চাইতে গিয়ে দুই ছেলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখ দিয়ে তাদের পানি পড়ছিলো, মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছিলো না।

সাঈদ রহমান মান্নানের মৃত্যুর খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পুরো কম্যুনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। যে কারণে সকাল থেকেই নিউইয়র্কের সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মতো তাদের প্রিয় মানুষটিকে দেখার জন্য জ্যাকসন হাইটসে সমবেত হতে থাকেন। এক পর্যায়ে পুরো ৭৩ স্ট্রিট লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। এক পর্যায়ে এই স্ট্রিটে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

জামাজে জানাজা শেষে সাঈদ রহমান মান্নানের মরদেহ লংআইল্যান্ডের ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল মুসলিম গোরস্তানে দাফন করা হয়। দাফনের সময় কোনো মহিলাকে তার কবরের পাশে না যেতে আগেই বারণ করে রেখেছিলেন। যে কারণে তার স্ত্রীসহ অন্য নারীরা গেলেও তারা কবর থেকে ৪০/৫০ গজ দূরে ছিলেন।
ফরিদপুরের সাঈদ রহমান মান্নানের জানাজায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ঠিকানার চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি এম এম শাহীন, জেবিবিএ’র এডহক কমিটির চেয়ারম্যান মহসীন ননী, এডহক কমিটির সদস্য মহসীন মিয়া, কাজী মন্টু, এফ রহমান, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ পিয়ার, জাকারিয়া মাসুদ জিকো, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, সাবেক সহ-সভাপতি হারুণ ভূঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খান, জেবিবিএ’র সাবেক সহ-সভাপতি শাহ নেওয়াজ, মোল্লা মাসুদ, সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, সাবেক কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন, কামরুজ্জামান বাচ্চু, ইকবালুর রশিদ লিটন, মনসুর চৌধুরী, কামরুজ্জামান কামরুল, মাহবুবুর রহমান টুকু, এডভোকেট শামসুদ্দোহা, সাবেক কোষাধ্যক্ষ সেলিম হারুন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, এটর্নি মঈন চৌধুরী, আইন বিশেষজ্ঞ এন মজুমদার, বাংলাদেশ সোসাইটির সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, জেবিবিএ’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম, কাজী কাইয়্যুম, সিলেট গণদাবি পরিষদের সভাপতি আজিমুর রহমান বোরহান, জ্যামাইকা-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, কম্যুনিটি এক্টিভিস্ট আব্দুল কাদের চৌধুরী শাহীন, কাজী আশরাফ নয়ন, খান’স টিউটোরিয়ালের প্রেসিডেন্ট ড. ইভান খান, কম্যুনিটি লিডার আলী ইমাম শিকদার, আসিফ বারি টুটুল, বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার সভাপতি বেদারুল ইসলাম বাবলা, শামসুল হক, শোটাইম মিউজিকের প্রেসিডেন্ট আলমগীর খান আলম, মোহাম্মদ নমি, আব্দুল লতিফ, আব্দুর রশিদ, এডভোকেট মজিব উর রহমান প্রমুখ।

সাঈদ রহমান মান্নানের কুলখানি সম্পন্ন : গত ১৭ মার্চ বাদ মাগরিব মরহুমের জ্যাকসন হাইটস্থ বাস ভবনে ফরিদপুরের আটরশী দরবার শরীফের নিয়ম মোতাবেক সাঈদ রহমান মান্নান কুলখানি অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে মোহাম্মদী সেন্টারের পরিচালক ইমাম কাজী কায়্যুম, জাকের ফরহাদ রেজা, মুফতি ইমাম আব্দুল মালেক, হাফেজ রফিক, মুজিবুর রহমান, প্রফেসর সুবহানী, মরহুমের ভাই হান্নান মরহুমের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করেন।

ফরহাদ রেজা মরহুম মান্নানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘হি ওয়াজ জাস্ট এ গ্রেট ম্যান।’

কুলখানির ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে ইমাম কাজী কায়্যুম বলেন, আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাহ ও তরীকতের নিয়মানুযায়ী মৃত্যুর তিন দিন কালে ঈসালে সাওয়াবের জন্য মৃতের রুহের মাগফেরাতের জন্য যে প্রার্থনা অনুষ্ঠান করা হয়, তাকে কুলখানি বলে। কুল মানে সুরা ইখলাস এবং খানি মানে পড়া। অন্য দোয়াবলির সাথে এমন মাহফিলে মহাপবিত্র সুরা ইখলাসকে বিশেষভাবে পড়া হয় বলেই এটা কুলখানি নামে প্রসিদ্ধ।

ইমাম কায়্যুম আরো বলেন, তরীকতের আমল যেমন- কুলখানি, চল্লিশা, মৃত্যুবার্ষিকী, মাহফিলে জিকির, উরস শরীফ, গিয়ারওয়ী শরীফ, শবে বরাত, শবে মেরাজ, সালাত ওয়া সালাম, কিয়াম ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন সত্যিকার অর্থে যে সাফল্যের চাবিকাঠি, মরহুম মান্নান তা প্রমাণ করে গেছেন।

মাহফিলে সালাতে মাগরিব ও ইশার জামাতে ইমামতি এবং শেষ মোনাজাতটি পরিচালনা করেন ইমাম কাজী কায়্যুম।

স্টেট সিনেটর হোজে প্যারাল্টার সমবেদনা : নিউইয়র্কে মূলধারার অন্য নেতৃবৃন্দের সাথে স্টেট সিনেটর হোজে প্যারাল্টা মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।