শ্রীলংকায় জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার, দাঙ্গায় পুড়েছে ৪৫০ মুসলিম বাড়ি

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : শ্রীলংকায় মুসলিমবিরোধী দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করেছে সরকার। গত ১৮ মার্চ প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ওই দাঙ্গায় কমপক্ষে ২০টি মসজিদ ভাঙচুর করা হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মুসলমানদের ৪৫০টির বেশি ঘরবাড়ি, দোকানপাট। এ ছাড়া জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে অন্তত ৬০টি যানবাহন। খবর বিবিসির।

পর্যটন শহর ক্যান্ডিতে মুসলিমবিরোধী ব্যাপক সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে ৬ মার্চ দেশজুড়ে ১০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে জরুরি অবস্থার মধ্যেই উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের হামলার শিকার হয় মুসলমানদের ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বাদ যায়নি মসজিদও। সহিংসতায় প্রাণ হারান দুই মুসলিম বাসিন্দা। গত ১৮ মার্চ টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা বলেন, জননিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গত ১৮ মার্চ মধ্যরাত থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছি।

শ্রীলংকা সরকার জানিয়েছে, যে কারণ দেখিয়ে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা ছড়ানো হয়েছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। বাইরে থেকে সংঘাত উসকে দেওয়া হয়েছে।
সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী শরৎ আমুনউগামা বলেন, এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র রয়েছে। তবে সরকার নিরপেক্ষভাবে আইনের শাসন বাস্তবায়ন করবে। দাঙ্গার পেছনে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করে বিরোধীদের অভিযোগ নাকচ করে দেন তিনি।

এক গুজব থেকে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গার সূত্রপাত। ক্যান্ডির মুসলিম মালিকানাধীন দোকানে বৌদ্ধদের খাবারে গর্ভনিরোধক মেশানো হয়েছেÑ এমন গুজবে দুপক্ষে মারামারি হয়। এতে আহত হয়ে এক বৌদ্ধ পরে মারা যাওয়ার খবরে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। ভাঙচুর আর অগ্নিসংযোগ চালানো হয় মুসলমানদের বিভিন্ন স্থাপনায়। মুসলিম মালিকানাধীন একটি দোকানে আগুন দেওয়া হলে পুড়ে মারা যান এক ব্যক্তি।

এরই মধ্যে বৌদ্ধরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলমানদের ওপর হামলার উসকানি দিলে অন্যান্য এলাকার বৌদ্ধ তরুণরা চা-ব চালাতে থাকে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যান্ডিতে কারফিউ জারি করে কর্তৃপক্ষ। তবে কারফিউ ভেঙে উচ্ছৃঙ্খল জনতা মুসলমানদের বাড়িঘর, এমনকি সেনা-পুলিশের ওপর হামলা চালালে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় এর আগে থেকেই শ্রীলংকায় মুসলিমবিদ্বেষ বাড়ছিল। জীবন বাঁচাতে কিছু রোহিঙ্গা মুসলিম শ্রীলংকায় আশ্রয় নিলে তাদের ওপর হামলা চালায় উগ্রপন্থি বৌদ্ধরা। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের মধ্যেই দীর্ঘদিনের মুসলিমবিদ্বেষের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ওই দাঙ্গায়।