শ্রী চিন্ময় মেরাথন টিমের ৩১০০ মাইল দৌড়ের সফল সমাপ্তি

ঠিকানা রিপোর্ট : শ্রী চিন্ময় মেরাথন টিমের ৩১০০ দৌড় সফল ভাবে সমাপ্ত হওযায় গত ৭ আগস্টের এক পদের সম্মানে এক সবংর্ধনার আয়োজন করে। এবার ২০১৯ সালের ৩১০০ মাইল দৌড়ের ৮ জন প্রতিযোগির মধ্যে ৭ জনই ৫২ দিনের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের দৌড় সমাপ্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এই দৌড়বিদরা এবছর সর্বমোট জামাইকা টমাস এডিসন হাইস্কুল চত্ত্বর এলাকায় ২৭ হাজার ৫শত ৭৭ মাইল দৌড়েছেন। বাইরের থেকে দেখলে মনে হবে,এসব পরিসংখ্যান গুলো শুধু এই অনন্য দৌড়ের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের খন্ডিত অংশই তুলে ধরতে সক্ষম। এদৌড় একাধারে শারিরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক ধৈর্য্য,ত্যাগ তিতিক্ষা,ও সহিষ্ণুতার পরীক্ষা। এই দারুণ গরমের সময়ে রানারদের,দুবারের তাপদাহের অগ্নিছোয়ার স্পর্শ পেতে হয়েছে,যা ছিল একশত ডিগ্রী ফারেন হাইটেরও বেশি মাত্রার বা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তবু তারা প্রতিদিন ভোর ৬ টায় এসে উপস্থিত হয়েছেন তাদের নিজেদের ভেতরের ও বাইরের অনেক আত্মসীমা অতিক্রমের হাজারো জিজ্ঞাসার উত্তরের সন্ধ্যানে। এই দীর্ঘ ও কষ্টকর দৌড়ের নেই কোন আর্থিক প্রনোদনা। প্রত্যেক দৌড়বিদ ও তাদেও সাহায্যকারীদের এই অনন্য ও চ্যালেঞ্জিং দৌড়ের জন্য নিজেদের সর্বোতোভাবে নিবেদিত করতে হয়। কেন তারা এদৌড়ে অংশ নিতে আসছে তা জিজ্ঞেস করলে তারা বলবেন, ‘এখানে তারা নিজের ভেতরে এমন এক আত্মতৃপ্তি বা প্রশান্তি লাভ করেন, যা আত্মসীমা অতিক্রমের জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ চাপ দেয়ার মাধ্যমেই ভেতর থেকে বের করে আনা সম্ভব’। এবছরের নারী দৌড়বিদ নিউজিল্যান্ডের মেয়ে হরিতা ডেভিস বলেন, ‘আমাদেও জীবনে আমরা প্রায়ই ভাবি যে,নিজেদের স্বচ্ছন্দের ভেতরেই আরামে আছি। কিন্তু যখন আমরা তেমন স্বচ্ছন্দ ও আরামদায়ক জীবনের দিকে কোন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেই,তখনই আমরা অনুভব করি সত্যিকার কিছু পাওয়ার আনন্দ কতটুকু।এই দৌড় সত্যিই দারুন চ্যালেঞ্জিং।এটা আমার ভেতরের অনেক কিছুই বের করে আনে যা চ্যালেঞ্জিং আবার দারুনভাবে পুরস্কৃতও করে। অনুপ্রেরণা এ দৌড় দৌড়বিদদের যেমন অনুপ্রাণিত করে তেমনি বিশ্বব্যাপি সাধারন মানুষ বা ক্রীড়া প্রিয় মানুষদেরও অনুপ্রাণিত করে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মাধ্যমে এই ম্যারাথনের খবর প্রচারিত হয়েছে।
অনুপ্রেরণা রেসের পরিচালক রূপান্তর লারুসো বলেন, এবছর অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি দর্শক দৌড় দেখার জন্য কৌতুহলী ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেয়েছে এবং এ বিশেষ দৌড়ের এ স্থানটির পরিবেশকেও তারা অনুভব করতে চেষ্টা করেছে। এবার দৌড়ের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহের আরকটি কারণ হচ্ছে,এ দৌড়ের উপর নির্মিত সঞ্জয় রাওয়াল এর একটি
ডকুমেন্টারি ফিল্ম ‘৩১০০ঃ রান এন্ড বিকাম’ নামের এই ফিল্মটি নিউ ইয়র্কে প্রদর্শনের পর অনেক যুবক দৌড়বিদই বাস্তবে এমন দৌড়ের দৃশ্য ও দৌড়বিদদের দেখতে এসেছেন। এবছর ফিনল্যান্ডের রানার অসপ্রিহানল আল্টো এবার নিয়ে ১৫ বার এদৌড় সমাপ্ত করেছেন। এর মধ্যে তিনি ৯ বার সবকিছুতে বিজয়ী হন। মিঃ নির্বাসা মেজ্ঞি ৪৮ দিন ৯ ঘন্টায় সমাপ্ত করে নিজের সেরাটি তিনি দিয়ে ২য় স্থান অধিকার করেছেন। ভাসু দুজি পর পর গত দু’বছর সেরা হওয়ার পর তিনি এবছর ৪৯ দিন ৬ ঘন্টায় অতিক্রম করে ৩ য় হয়েছেন। এবছর সবচেয়ে অবাক করেছেন আনন্দ লাহেড়ি যিনি গত ১৫ টি দৌড়ে অংশ নিচ্ছেন। অনেকবারই তিনি সমাপ্ত করতে পারেননি কিন্তু ধৈর্যহারা হননি। এবছর তিনি পুরো দৌড় সমাপ্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এবার এমনকি তিনি একদিনে ৮৯ মাইল পর্যন্ত দৌড়েছেন।
এবছর এই দৌড় সমাপ্ত হওয়ার পর জামাইকাবাসীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার নটরডেম কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপিকা হুসনে আরা, নিউ ইয়র্কের সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা সাপ্তাহিক ‘ঠিকানা’র প্রধান সম্পাদক ফজলুর রহমান, জ্যামাইকা ফ্রেন্ড সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার সব দৌড়বিদ ও তাদের সাহায্যকারীদের জন্য, নিজেদের উদ্যোগে এলাকার মেডিটেশনের ‘ওয়াননেস হার্ট সেন্টারে’ এক আপ্যায়ন ও অভিনন্দনের ব্যবস্থা করেন। ইতিপূর্বেও তাঁরা স্থানীয় পার্কে এসব বিশ্বখ্যাত রানারদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছিলেন।