সক্রিয় আরএসওর ক্যাডাররা সংগঠিত হচ্ছে

কক্সবাজার : মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন আরসা ক্যাডারদের অর্থ যোগানদাতা পাকিস্তানিসহ আরএসও জঙ্গিরা গোপনে ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করে চলছে। বিদেশিদের দেয়া নগদ টাকার লোভে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের মাঝে এ রকম ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে তাৎক্ষণিক তাদের খুঁজে বের করা দুঃসাধ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যুরিস্ট ভিসায় বিদেশিদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ নিষেধ থাকলেও কিছু রোহিঙ্গা নেতা মানছে না ওই বিধিনিষেধ। মিয়ানমারের সন্ত্রাসী সংগঠনকে অর্থ জোগানদাতা ব্যক্তিরা ভ্রমণপিপাসুর ছদ্মাবরণে নগদ টাকা বিতরণ করে ক্যাম্পে অস্থিতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, পাকিস্তান, ফ্রান্স, তুর্কি, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরব থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে আসা ব্যক্তিরা নগদ অর্থ বিতরণ ছাড়াও দো-ভাষীর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে উসকানিমূলক কথাবার্তাও বলছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক মসজিদগুলোতে রোহিঙ্গা মৌলবিরা বক্তব্য রেখে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে নগদ টাকা বিতরণের ঘটনা। প্রশাসনের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন বিদেশিরা নগদ টাকা নিয়ে ঢুকে পড়ছে ক্যাম্পে। আশ্রয় শিবিরে কারা ঢুকবে, সেসব বিদেশির গলায় ঝুলানোর জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে কোন ধরনের কার্ড ইস্যু না করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওসব বিদেশি নারী-পুরুষকে চিহ্নিত করতে পারছে না।

দিনের বেলায় বিদেশিরা ক্যাম্পে গিয়ে নগদ টাকা নিতে রোহিঙ্গাদের হাতে টোকেন ধরিয়ে দিচ্ছে। জানিয়ে দেয়া হচ্ছে কোন শেড মাঝির কাছ থেকে তারা টোকেন জমা দিয়ে টাকা গ্রহণ করবে। অথচ দেশি বিদেশি সংস্থার দেয়া ত্রাণসামগ্রী রোহিঙ্গাদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে বিতরণের জন্য সরকার সুশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে অতি উৎসাহী কিছু আরএসও ক্যাডারের কারণে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের সামাল দেয়া এবং প্রত্যাবাসনে রাজি করান কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

রোহিঙ্গাদের সেবায় ব্যয় করতে প্রায় চার কোটি টাকা মৌলভি আনাছকে দিয়ে চলে যায় ফ্রান্সের নাগরিকরা। তন্মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকা উপরোক্ত রোহিঙ্গা জঙ্গিদের মাধ্যমে ব্যয় করে আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে সৌদিতে পালিয়ে যায় রোহিঙ্গা আনাছ। এ খবর পাকিস্তান, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া ও তুরস্কে জানাজানি হলে ওসব দেশের নাগরিকরা ভিসা নিয়ে এসে আরএসও নেতাদের মাধ্যমে নিজেরাই গোপনে রোহিঙ্গাদের টাকা বিতরণ করছে বলে জানা গেছে।

সূত্র আরও জানায়, রোহিঙ্গা মৌলবি ওসমান নেজাম উদ্দিন ওরফে ওসমান নেজামী নামে এক আরএসও নেতা গত ২২ মার্চ সকালে মালয়েশিয়ার ১০-১২ জনের একটি গ্রুপকে বালুখালী ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তার ভাই ছৈয়দ হোছন বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের মাঝি (নেতা) হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে চলছে। রোহিঙ্গারা জানায়, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়া থেকে আসা ওসব মৌলভির সঙ্গে টাকা বিতরণে বালুখালী, কুতুপালং ক্যাম্পের বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা মাঝি এবং আরএসও নেতা জড়িত রয়েছে। ঢাকায় গোপনে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা নেতা সলিমুল্লাহ বিদেশি লোকজনকে রিসিভ করে পাঠিয়ে দেয় কক্সবাজারে।

রোহিঙ্গা জঙ্গি ইয়াহিয়া, হাফেজ হাশেম, আয়াছ ও ওসমান নেজামী ওই বিদেশিদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে নিয়ে যায়। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চিহ্নিত আরএসও নেতাদের কেউ আটক না হওয়ায় নির্বিঘœ অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। কিছু এনজিওর পাশাপাশি ওই আরএসও নেতারা রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রত্যাবাসন বিরোধী উসকানি ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সচেতন মহল।